মেইন ম্যেনু

পিতৃ পরিচয়হীন সন্তানটি কার প্রভাবশালী... মিয়ার নাতো

সোনাইমুড়িতে প্রবাসীকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়ে হয়রানি করছে প্রতারক চক্র

এম.এ আয়াত উল্যা, স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী : নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার নাওতলা গ্রামের তিন সন্তানের জনক প্রবাসী কামরুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাতের হীন উদ্দেশ্যে পরকীয়ার অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে ও মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে হয়রানি করে আসছে একই উপজেলার নয়ন আক্তার নামের প্রতারক চক্রের এক নারী সদস্য। সাথে ওই প্রতারক চক্রের এক প্রভাবশালী ও ইন্দ্বন দিয়ে আসছে। ওই নারীর গর্ভের সন্তানটি কী ওই প্রভাবশালীর! ডিএনএ স্টেট করলেই বেরিয়ে আসবে আসল ঘটনা।

জানা যায়, সেনবাগ থানাধীন মানিকপুর গ্রামের অহিদুর রহমানের মেয়ে ও বর্তমানে বাবার চাকুরির সূত্রে সোনাইমুড়ি উপজেলার রেলওয়ে কলোনীর সোনাইমুড়ি গ্রামে অবস্থান ওই প্রতারক নারী নয়ন আক্তার দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সহজ-সরল নিরীহ পুরুষদের প্রতারক চক্রের মাধ্যমে অবৈধ পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জালে জড়িয়ে হয়রানি ও অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। এ পর্যন্ত নয়ন আক্তার এ ধরণের অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে ও মিথ্যা ধষর্ণ মামলা দিয়ে একাধিক নিয়ে অনেককে হয়রানি ও আর্থিকভাবে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

এইভাবেই প্রতারক নয়ন আক্তার ২০০৬ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার নাওতলা কাদির মাষ্টারের ছেলে ও তৎকালীন সোনাইমুড়ি বাজারের ফুল ব্যবসায়ী প্রবাসী কামরুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অবৈধ পরকীয়া সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করে। তখন কামরুল ইসলাম পরিবার ও সমাজে তার আত্মসম্মান রক্ষার জন্য ওই মহিলাকে এড়িয়ে চলতে থাকেন। একপর্যায়ে নয়ন আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতারক চক্রের এক প্রভাবশালী সদস্যের যোগসাজশে কামরুল ইসলামসহ ৭ জনের নামে ৮ সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে নোয়াখালী জেলা জজ ৩নং আমলী আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১১) ৩০ ধারায় নারী ধষর্ণ করার এবং সহযোগিতা করার অপরাধে এবং ধষর্ণের ফলে নারীর গর্ভ ধারণ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। যা সোনাইমুড়ি থানার মামলা নং-০৭, তাং- ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭, জিআর-১৬৪/২০০৬, নারী-শিশু মামলা নং- ২১/২০০৭। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোধিতভাবে অর্থ আত্মসাৎ ও হয়রানির করার জনই এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটিতে গর্ভে ধারণের কথা উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষীর জন্য আছে। মিথ্যা মামলা হওয়ায় অন্য আসামীরা চার্জ গঠনের আগেই খালাস পেয়ে যান।

তবে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রসুল আহমেদ নিজামী সহ সাক্ষীরা দীর্ঘদিন আদালতে সাক্ষ্য দিতে না আসায় ১১ এপ্রিল ২০১৬ আদালত উপস্থিত বিজ্ঞ বিচারক মো. মাহতাব হোসেন সাক্ষীদের বিরুদ্ধে এনডাব্লিউডাব্লিউ জারি করেন। কিন্তু মামলা উল্লেখিত গর্ভের সন্তানটি কার এ বিষয়ে বাদী পক্ষের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য বা প্রমাণ নেই। পিতৃ পরিচয়হীন ওই সন্তানটি কার? মামলা আসামী না অন্য কারো।

জানা যায়, প্রতারক চক্রের এক প্রভাবশালী ছেলেটির পিতা হিসেবে লালন-পালনের জন্য টানা ৪/৫বছর ওই ছেলেটির খরচ বহন করেছে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য। প্রতারক নয়ন আক্তার অবৈধ পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে নানা সময়ে নানান পুরুষে সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। এ প্রক্রিয়া সে কয়েকজনকে বিয়ে করেন। নয়ন আক্তারের গর্ভের ছেলেটির প্রকৃত পিতৃ পরিচয় জানতে হলে ওই প্রভাবশালী সদস্য ও ছেলেটির ডিএনএ স্টেট করতে হবে। তাহলে বেরিয়ে আসবে মূল সত্য।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন ফুল ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন। তিনি ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ সালে একই উপজেলার রাবেয়া সুলতানা সুমি নামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পবিারের মেয়েকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী কামরুল ইসলাম বর্তমানে তিন ছেলে রাহাত (১৮), রাফি (১৭), রাহান (১১) সন্তানের জনক। কামরুল তার এলাকায় সবার কাছে শিক্ষিত, ভদ্র, সজ্জন ও সামাজিক লোক হিসেবে পরিচিত। তার বাবা এক শিক্ষক। প্রতারক নারী নয়ন আক্তারের মিথ্যা মামলা দায়েরের পরই থেকেই ফুল ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম আত্মসম্মান রক্ষায় পালিয়ে বেড়ান। এ সুযোগে নয়ন আক্তার ও তার ভাইসহ প্রতারক চক্র তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দখলে নিয়ে আত্মসাৎ করে। এমতাবস্থায় কামরুল ইসলাম আর কোনো উপায় না দেখে পরিবারের সম্মান ও জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। একই সাথে ওই মিথ্যা মামলাটির কারণে সে তার মা-বাবা, স্ত্রী ও ছেলেদের সাথেও কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না।

এদিকে ছোট ছেলে রাহান কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানায়, তার বয়স এখন ১১। এই দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সে তার জন্মদাতা বাবা কামরুল ইসলামকে এখনো দেখেনি। মূলত মিথ্যা মামলায় মানসম্মানের ভয়ে কামরুল ইসলাম দেশে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে বিজ্ঞ আদালত যদি ন্যায় বিচার স্বার্থে মিথ্যা মামলা বিষয়টি যথাযথ বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে বিচার-বিশ্লেষণ করেন। তাহলে মিথ্যা মামলা জড়িয়ে নিরীহ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা চক্রটির হাত থেকে বাঁচতে পারবে।