মেইন ম্যেনু

সোনালী আশেঁ ভাগ্য ফিরবে পাট চাষীদের

কাসেমুর রহমান শ্রাবণ, মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরায় সোনালী আঁশ চাষ ভাগ্য ফিরবে জেলার পাট চাষীদের । তাই সুদিনের আশায় বুক বেধেঁছেন জেলার পাট চাষীরা । অন্যবারের তুলানায় এবাব জেলায় পাটের ফলন ভাল হওয়ায় চাষীরা লাভবান হবেন বলে মনে করছেন । জেলার পাট চাষী , কৃষি কর্মকর্তারাও একই সম্ভাবনা দেখছেন । কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট অর্জিত হয়েছে । তারা ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে খোজঁ খবর নিয়ে জেনেছেন যে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাটচাষীরা পাট কেটে নদীতে পচনের জন্য কাজ করেছেন । আবার অনেকে পাট তুলে বাজারেও বিক্রি করেছেন ।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় পাটের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৫ শত ৯০হেক্টর । তার মধ্যে সদরে ৯ হাজার ৭ শত হেক্টর, শালিখায় ৪ হাজার হেক্টর , মহম্মদপুরে ১০ হাজার ৮০০হেক্টর ও শ্রীপুরে ৯ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় । পক্ষান্তরে কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এবার লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ২২ শতাংশ পাট জেলায় বেশি উৎপাদিত হয়েছে । ২০১৬ সালে জেলায় অজির্ত পাটের লক্ষ্যমাত্রা ৪১ হাজার ১০হেক্টর । তার মধ্যে সদরে ১৩ হাজার ৪০০ হেক্টর, শালিখায় ৬ হাজার ৬ শত ৭৫হেক্টর, মহম্মদপুরে ১০ হাজার ৯ শত হেক্টর ও শ্রীপুরে ১০ হাজার ৩৫ হেক্টর পাট অর্জিত হয়েছে । কৃষি কর্মকর্তারা আরো জানান, এবার পাটের ফলন ও গ্রোথ ভাল । তাই ফলন ও ভাল হবে । তারা আরো বলেন, বর্তমান সরকার পাটের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নানা মুখি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে । তাছাড়া পাটের ভাল ফলন বৃদ্ধিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নানা প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছে কৃষি বিভাগ ।

ee917fdbfd78c6aa71e0455205268bf3-1

মাগুরা চাউলিয়া ইউনিয়নের বালিয়ডাঙ্গা গ্রামের নাজিম উদ্দিন জানান, এবার আমি ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি । ফলন ভাল । ইতিমধ্যে আমি পাট কেটে জাগ দিয়েছি । তিনি আরো জানান, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পাট ভাল হয়েছে । কিন্তু নদীতে পানি না আমার পাট কাটতে দেরি হয়েছে । বর্তমানে বৃষ্টি হওয়ায় নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় এলাকার অনেক পাট চাষী পাট কাটছেন ।

সদরের বারাশিয়া গ্রামের টুকু কাজি জানান, তিনি এবার ভারতীয় বীজ ব্যবহার করছেন । ভারতের বীজে প্রত্যেকটিতে চারা হয় । ফলন ও ভাল । তিনি আরো জানান , বাজারথেকে তিনি ৪৫০ টাকা কেজি দরে ভারতের বীজ ক্রয় করে চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন । এ বীজ ব্যবহার করে তিনি ভালো ফলন পাবেন বলে আশাবাদী ।

সদরের মঘী গ্রামের পাট চাষী নুরু মিয়া জানায় , এ বছর আমি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি । প্রথমে পাট মাঝারি হলে বেশ পোকা মাকড়ের কবলে পড়ে। তারপর জমিতে বিভিন্ন কীটনাশক ঔষধ ব্যববার করেছি । পাট কেটে জাগ দিয়েছি । ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি ।

মাগুরা নতুন বাজারের পাট ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে পাট ( তোষা ) বাজরে বিক্রি হচ্ছে ১৮শ থেকে ১৯ শত টাকা করে। উঠতি এ পাটের দর পতন হতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা জানান ।

বাজারের হক এন্টার প্রাইজের সুলতান কবির জানান, গত বছরের শুরুতে পাট ১৬শথেকে ১৮ শ টাকা দরে কিনে ছিলাম । পরে পাটের বাজার বেড়ে দাড়ায় ২ হাজার থেকে ২২ শ । তিনি আরো জানান , বর্তমানে বাজারে উঠতি পাট তোষা বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে । তবে ভাল পাট সোনালী ১৯ শ টাকা পর্যন্ত আমরা কিনছি । পাট ব্যবসায়ী মিঠুন বিশ্বাস জানান, আমরা পাট ক্রয় করে সরাসরি খুলনার দৌলতপুর জুট মিলে পাঠায় । এবার এখনও পাটের আমদানি শুরু হয়নি । তবে আশা করছি গত বছরের তুলনায় এবার ভাল পাট ক্রয় করতে পারব ।