মেইন ম্যেনু

সৌদি আরবের তরুণী মডেলদের দিনকাল এখন চলছে যেভাবে ( ভিডিও )

যে দেশে বিয়ের জমায়েতের ক্ষেত্রেও অনুমতি নিতে হয়, সেখানে ক্যাটওয়াকের মতো ‘পশ্চিমি অপসংস্কৃতি’র বাহককে বাইরের রাস্তা দেখতে হবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এক মডেল কন্যা জানান, আমি মডেলিং করতাম বলে আমার বিয়ে ভেঙে গেছে।

পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে গয়নাগাটি সবকিছু বিজ্ঞাপনে মডেল তো লাগেই। তবে এখন থেকে এসবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে সৌদি আরবে। ক্যাটওয়াক করবেন খালি পুরুষরা। সেখানেও মহিলাদের প্রবেশ নিষেধ। ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার তো প্রশ্নই নেই।

সম্প্রতি ওয়াহাবি ইমামরা ফতোয়া জারি করেছেন যে, বিজ্ঞাপনে মডেলদের ব্যবহার, বিশেষত নারীদের ব্যবহার অনৈতিক ইচ্ছা জাগাতে পারে। তাই বন্ধ। সব মহিলাকে সৌদির চিরাচরিত পোশাক (এক রকমের ঢিলে পোশাক যাতে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকা থাকে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কালো রঙের হয়ে থাকে) পরতে হবে।

এই ফতোয়ায় সব থেকে মুশকিলে পড়েছে বিপনন সংস্থাগুলো। গয়নার বিজ্ঞাপনে ছেলেদের ব্যবহার তো চলবে না। তবে উপায়! উপায় একটাই, আসবাব থেকে হাতি আর যা যা রয়েছে সবকিছুর বিজ্ঞাপন থেকে মডেল বাদ।

যেখানে মহিলা মডেল ব্যবহৃত হয়েছে সেখানে মুখ এবং শরীর কালো কালি দিয়ে ঢেকে দাও। আপাতত এ করেই চলছে। সম্প্রতি সুইডেনের একটি আসবাব সংস্থা বিজ্ঞাপন থেকে মডেলদের ছেঁটে ফেলায় বেশ শোরগোল উঠেছে।

তাতে কী? বিশ্বের বিক্রির বাজারে ১৭ নম্বরে রয়েছে সৌদি। ফলে বাজারের কথা ভেবে এটুকু তো করতেই হয়। সব থেকে বেশি বিক্রি হয় এখানে দামি জুতো, সানগ্লাস আর হ্যান্ডব্যাগ। কারণ মহিলারা সাধারণত এ ক’টি জিনিস দেখিয়ে ঘুরতে পারেন। আরো একটি জিনিসের বিক্রি আকাশছোঁয়া। আর তা হলো লঁজারি।

তবে এখন এসবের সঙ্গে এখন রীতিমতো পাল্লা দিচ্ছে আবায়া। শুধু কালো নয়, নানা রঙের, ডিজাইনের আবায়ায় বাজার ছেয়ে গেছে। কাপড়ের প্রকারভেদে এর দামও বেশ চড়া।

সাবেক মডেলদের একটু হলেও সান্ত্বনার জায়গা এই যে, তারা এখন আবায়া ডিজাইন করেই রোজগারে মন দিয়েছেন। একেই বলে, কারো পৌষ মাস আবার কারো সর্বনাশ।