মেইন ম্যেনু

স্কুলছাত্র সামসী হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর লালবাগে স্কুলছাত্র মোহম্মদ আম্মার সামসী হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান সরদার এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, মোহম্মদ জিয়াউর রহমান, আলমগীর ও সালাউদ্দিন। এছাড়া প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন বিচারক।

ভিকটিম সামসী লালবাগের অবাঙ্গালী ব্যবসায়ী তৌফিক শামসের ছেলে।

বিচারক তার রায়ে একটি পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে বর্তমানে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, গুম ও খুন অহরহ ঘটছে। দেশে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এ ধরনের মামলার আসামিদের উপযুক্ত বিচার হওয়া আবশ্যক। এসকল ঘটনায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ জাতীয় নির্মম, নৃশংস ও অগ্রহণযোগ্য হত্যার অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।

রায়ের বিবরণে প্রকাশ, ২০০০ সালের ১৬ অক্টোবর লালবাগের অবাঙ্গালী ব্যবসায়ী তৌফিক শামসের ছেলে আম্মার সামসীকে বন্ধুর জন্মদিনের কথা বলে অপহরণ করে দণ্ডপ্রাপ্তরা। পরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজীপুরের ন্যাশনাল পার্কে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ভিকটিমকে হত্যা করে। এরপর সামসীর বাবার কাছে আসামিরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। সেই টাকা নিতে এসে ২৫ অক্টোবর ডিবি পুলিশের হাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গ্রেপ্তার হয় সালাউদ্দিন ও আলমগীর।

এ ঘটনায় জননিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধি আইনে লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ২০০২ সালের ২৭ এপ্রিল জননিরাপত্তা আইনের মামলায় এ তিন আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পর মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো আজ। রায় ঘোষণার আগে চার্জশিটের ২৮ জন সাক্ষির মধ্যে ১৪ জন সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ছাদেকুল ইসলাম ২০০১ সালের ৩১ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি মাহফুজুর রহমান লিখন। আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন একেএম ফজলুর রহমান মিয়া।