মেইন ম্যেনু

চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রের চিঠির জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পটুয়াখালী সরকারি জুবিলি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস। মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীটি প্রতিদিন পাড়ি দিতে হয় তার মা-বাবাকে। নদীতে মাঝে মাঝে ভীষণ স্রোত থাকে। শীর্ষেন্দুর মনে তাই বেজায় ভয়। কখন জানি নদীতে ডুবে প্রাণ হারায় প্রিয় মা-বাবা। উপায় না দেখে ১৫ আগস্ট দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিজ চেয়ে চিঠি লিখে পোস্ট-অফিসে রেখে আসে ছেলেটি। চিঠি পেয়ে শেখ হাসিনাও জবাব দিয়েছেন।

চিঠিতে সে লিখেছে, ‘আমি এই দেশের একজন নাগরিক। পটুয়াখালী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ি। আমার প্রয়াত দাদু অভিনাষ সোন্নামত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।’

‘আমার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি। পায়রা নদী পার হয়ে আমাদের বাড়ি যেতে হয়। নদীতে খুব স্রোত থাকে। মাঝে মাঝে ট্রলার ডুবে মানুষও মারা যায়।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার আকুতি, ‘আমি আমার মা-বাবাকে হারাতে চাই না। তাই আপনাকে অনুরোধ করছি পায়রা নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দিতে।’

চিঠির উত্তরে শেখ হাসিনা লেখেন, তিনি শীর্ষেন্দুর চিঠি পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। মা-বাবার নিরাপত্তার ব্যাপারে এই বয়সে এত সচেতন হওয়ায় তিনি তার প্রশংসাও করেন।

‘আমি জানি পটুয়াখালী জেলার মীর্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীটি অত্যন্ত খরস্রোতা। নিজের পিতামাতাসহ অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই নদীকেন্দ্রিক তোমার নিরাপত্তা সচেতনতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি বুঝতে পারছি তোমার বীর মুক্তিযোদ্ধা দাদুর প্রভাব রয়েছে তোমার ওপর। মীর্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আমি তোমাকে আশ্বস্ত করছি।’ শীর্ষেন্দুকে এভাবে উত্তর দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ৮ সেপ্টেম্বর চিঠি লিখে পাঠিয়ে দেন। এটি শীর্ষেন্দুর স্কুলে পৌছায় ১২দিন বাদে।

একমাত্র ছেলের এমন কাণ্ডে ‘আনন্দিত, গর্বিত’ শীর্ষেন্দুর মা-বা। পটুয়াখালী শহরে তার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা সমাজ কল্যাণ অফিসে কর্মরত। মা-বাবকে নিয়ে শহরের পুরান বাজার এলাকায় বসবাস শীর্ষেন্দুর।

‘কী বলবো, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা আনন্দিত। ছেলের জন্য ভীষণ গর্ব হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আমার ছেলের চিঠির উত্তর দিয়েছেন, বিশ্বাসই করতে পারছি না।’ বলেন শীর্ষেন্দুর বাবা বিশ্বজিৎ।