মেইন ম্যেনু

স্কুলে ঢুকে শিক্ষককে মারধর করলেন ছাত্রলীগকর্মী

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী নর্থবেঙ্গল পেপার মিলস হাইস্কুলের শ্রেণীকক্ষে ঢুকে সহকারী প্রধান শিক্ষককে মারধর করেছেন স্থানীয় ছাত্রলীগকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার দুপুরে ক্লাস বর্জন এবং মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক জানান, মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ‘ক’ শাখার ছাত্র তাফসির আহম্মেদ মনা ক্লাস চলাকালে একটি প্লাস্টিকের সাপ শিক্ষিকা খাদিজা পারভীনের দিকে ছুড়ে মারে। এতে ওই শিক্ষিকা ভয় পেয়ে চিৎকার করলে পাশের ক্লাসে থাকা সহকারী প্রধান শিক্ষক নিত্যানন্দ সূত্রধর সেখানে গিয়ে মনাকে শাসন করেন। ঘটনার পর মনা বাড়িতে গিয়ে তার বড় ভাই ছাত্রলীগ নেতা সৌরভ হাসান টুনটুনি ওরফে হাতকাটা টুনটুনিকে বিষয়টি জানায়। পরে ওইদিনই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দিকে টুনটুনিসহ আরও তিন-চারজন ছাত্রলীগকর্মী দেশী অস্ত্র নিয়ে স্কুলে গিয়ে ক্লাস চলাকালে শিক্ষক নিত্যানন্দ সূত্রধরকে লক্ষ্য করে চাকু ছুড়ে মারেন। তিনি কৌশলে সরে গেলে অল্পের জন্য রক্ষা পান।

এ সময় ছাত্রলীগ নেতা টুনটুনির নেতৃত্বে ওই সন্ত্রাসীরা শিক্ষক নিত্যানন্দ সূত্রধরকে বেধড়ক মারধর করেন। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ফাতেমা, জেরিন, ফারহানা ও জোতিয়া নামের চার শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষক সমিতির নেতারা। তারা অবিলম্বে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

এদিকে, বুধবার দুপুরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নেতারা। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এর পরপরই শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ক্লাস বর্জন করে স্কুল চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

এ বিষয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিত্যানন্দ সূত্রধর বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় আমি দায়িত্ব পালন করে ওই ছাত্রকে শাসন করেছি। কিন্তু সে জন্য এমন হামলা হবে তা বুঝতে পারিনি। আমি স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও নর্থবেঙ্গল পেপার মিলের এমডি এ কে এম মহিউদ্দিন জানান, ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যক্ষেণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা কমিটির সভা করেছেন। আইনগতভাবেই বিষয়টি দেখা হবে।

শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাই আন্দোলনের প্রয়োজন নেই।’

ছাত্রলীগ পাকশী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হাসান জানান, টুনটুনি ও মুন্না ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। এর আগে একই কমিটির সভাপতি সদরুল হক পিন্টুর সঙ্গে গ্রুপিংয়ের কারণে পিন্টু গ্রুপ টুনটুনির বাম হাত কেটে ফেলে। এই মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে বর্তমানে সভাপতি পিন্টু জেল হাজতে রয়েছেন। তবে টুনটুনির এ ধরনের কাজের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। একইসঙ্গে টুনটুনির বিষয়ে কোনো দায়ভার ছাত্রলীগ নেবে না।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিমান কুমার দাশ জানান, ওই ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। স্কুলে ঢুকে একজন শিক্ষকের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২ জুন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা সৌরভ হাসান টুনটুনির এক হাত কেটে নেয় প্রতিপক্ষের লোকজন।