মেইন ম্যেনু

স্কুলে ভর্তিতে এলাকার কোটা ৪০ শতাংশ

নিজ এলাকার স্কুলে ভর্তি নিশ্চিত করতে ৪০ শতাংশ ‘এলাকা কোটা’ করার প্রস্তাব আমলে নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ প্রস্তাব পাঠায় মন্ত্রণালয়ে। এ প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘এলাকা কোটা’ পদ্ধতি মেনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

তবে এই নিয়ম আপাতত রাজধানীর স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে। পরবর্তীকালে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য হবে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক পত্রের মতামতের জবাবে এই প্রস্তাব পাঠায় মাউশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন বলেন, তাদের কাছে এ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল। তারা প্রস্তাব আকারে মতামত প্রকাশ করেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাব আমলে নিয়েছে।

তিনি বলেন, তারা রাজধানীকে ১৬টি অঞ্চল বা জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভাগ করে ওই এলাকার স্কুলগুলোতে, সেই এলাকার শিশুদের ৪০ শতাংশ কোটা রাখার ব্যাপারে মতামত চূড়ান্ত করেছেন। যা আগামী বছরগুলোতে বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে শতভাগ (স্কুলকে শুধু ওই এলাকার শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে) করা হবে। আর এই বিষয়টি ভর্তি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করারও মত দিয়েছেন। এ ছাড়া কোন এলাকার জন্য কয়টি স্কুল দরকার, সেই বিষয়ে অতি দ্রুত জরিপ কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তারা।

মাউশির অন্য একটি সূত্র জানান, গত ৭ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে ‘ইমপ্রুভিং স্কুল অ্যান্ড কলেজ পারফরম্যান্স’ শিরোনামে একটি চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক পত্রের বরাত দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. মুহিবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে ‘যেই এলাকার শিশু, সেই এলাকায় কীভাবে ভর্তি’ করা যায়- সেই সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়।

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবের বিষয়ে একমত পোষণ করায় খুব দ্রুতই এটি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি, এই সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হবে বলেও জানান সূত্রটি।

নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। নভেম্বর মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হয়ে যায় নামি-দামি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যে অভিভাবকরাও কোন স্কুল ভালো, সেই তথ্য জোগাড় করতে তোড়জোড় শুরু করেছেন।

ভর্তির সময় আসলে অভিভাবকদের রীতিমতো যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। তারা চিন্তায় থাকেন- তার সন্তানকে ভালো স্কুলে ভর্তি করা নিয়ে। এক এলাকার অভিভাবকরা, অন্য এলাকার ভালো স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করান। এক এলাকার শিশু, অন্য এলাকায় স্কুলে ভর্তি হওয়ায়- স্কুল শুরু ও ছুটির সময় রাজধানীতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ধকল সইতে হয় শিশুদের।

এবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরামর্শক্রমে এই পরিস্থিতির একটা সমাধান করতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্ব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। তাদের অধীনে রাজধানীতে প্রায় তিনশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সেগুলোতে সন্তানকে ভর্তি করাতে অভিভাবকদের তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। আর যেসব স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক একত্রে, সেগুলোর দেখভাল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর এই স্কুলগুলোর চাহিদাই অভিভাবকদের কাছে শীর্ষে। কিন্তু এর সংখ্যা হাতেগোনা।

এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিশ্ব শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে ‘প্রতিটি শিশুকে তাদের নিজ এলাকার স্কুলে ভর্তি’ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, শিশুরা যে এলাকায় বসবাস করে, সেখানকার স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তাদের অধিকার। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী তার অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

মাউশি সূত্র জানান, মূলত তিনটি বিষয়কে ধরে এগোবে মাউশি। এগুলো হচ্ছে- যেই এলাকার শিশু, সেই এলাকায় স্কুলে ভর্তিতে রাজধানীকে ১৬টি অঞ্চলে ভাগ করে ৪০ শতাংশ কোটা পদ্ধতি প্রচলন; প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা না নেওয়া এবং স্কুলে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন।

মাউশির একাধিক কর্মকর্তা জানান, যেই এলাকার শিশু, সেই এলাকায় স্কুলে ভর্তি- একবারে শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এটা আস্তে আস্তে কয়েক বছর সময় নিয়ে করতে হবে। এ জন্য আগামী বছর ৪০ শতাংশ ‘এলাকা কোটায়’ ভর্তির প্রস্তাব দেওয়া হবে। প্রত্যেকটি এলাকায় অবকাঠামোর সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কোনো না কোনো স্কুল রয়েছে। কিন্তু সেগুলোতে ভর্তি না করে অভিভাবকরা দূরের স্কুলে শিশুদের ভর্তি করান। যদি প্রতিটি এলাকার এক-দুটি স্কুলে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায়, তাহলে ওইসব স্কুলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভর্তি করাবেন। এলাকাভিত্তিক কোটা পদ্ধতি চালু হলে- অনেক অভিভাবকই ওই এলাকায় না থেকেও আত্মীয়-স্বজনের ঠিকানা ব্যবহার করে আবেদন করতে পারেন, তা কীভাবে রোধ করা যায়, সেই ব্যাপারে একটি উপায়ও খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে মাউশি।

এ বিষয়ে মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) মোস্তফা কামাল বলেন, যেই এলাকার শিশু, তাকে সেই এলাকায় স্কুলে কীভাবে ভর্তি করা যায়, সেজন্য তারা প্রথমেই মতামত সংগ্রহ করেছেন। প্রত্যেকটি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল। সেই মতামতগুলো তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

মন্ত্রণালয় বিষয়টি আমলে নেওয়ায় এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরামর্শক্রমে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। যা আগামী ভর্তি নীতিমালায় অর্ন্তভূক্ত হবে বলেও জানান তিনি।



« (পূর্বের সংবাদ)