মেইন ম্যেনু

স্কুল চলে ৩ ঘন্টা !

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া প্রায় সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দিনে মাত্র তিন ঘণ্টা চলে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হওয়ার দাপটে বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও নিজের ইচ্ছে মতো স্কুল চালু ও বন্ধ করে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

অভিভাবকদের অভিযোগ, সকাল ১১টায় স্কুল শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ২টায়। এছাড়া শিক্ষকরাও সময় মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। তবে এ অভিযোগ মানতে নারাজ প্রধান শিক্ষকরা। তাদের বক্তব্য নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়, কাস্তোর দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, তাজপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা গেছে এইসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুব কম। শিক্ষকরা ক্লাসে না গিয়ে বিদ্যালয়ের গাছতলায় চেয়ারে বসে গল্প করছেন।

দেখা যায়, বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ জন হলেও গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল মাত্র ১৫ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ৩৩ জনের মধ্যে ১১জন, নবম শ্রেণিতে ৩২ জনের মধ্যে ৫জন, দশম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখায় ১৯ জনের মধ্যে ৭জন ও মানবিক শাখায় ৬ জনের মধ্যে কোন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল না। আর ১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৭ জন।

এ বিষয়ে কথা হয় বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পীরগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলম এর সাথে। তিনি বলেন, আমি যেহেতু শিক্ষক সমিতির সভাপতি। সেহেতু অন্যান্য বিদ্যালয়ে সময়মতো ক্লাস হচ্ছে কিনা এসব খোঁজখবর নিতে হয়। এজন্য স্কুলে আসতে একটু দেরি হয়।

তিনি আরো বলেন, বাস্তবতা যাই থাক। কাগজে কলমে সবকিছু ঠিক আছে। আমি শিক্ষক সমিতির সভাপতি এজন্য একটু দেরিতে খুললেও আমার কোন সমস্যা হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার কারণে শহরে কোচিং-প্রাইভেটে ছেলেকে পাঠাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি কৃষি কাজ করে সংসার চালাই। স্কুলে যদি ভালো করে স্যাররা পড়াতেন তাহলে কোচিংয়ের বাড়তি টাকাটা বেঁচে যেত। একই কথা জানান আরও বেশ কয়েকজন অভিভাবক।

তারা জানান, মাঝে মাঝে স্যারদের দেখি মাঠে ক্রিকেট খেলে। আবার দেখি গাছ তলায় বসে আড্ডা দেয়। ক্লাসই হয় না। বাচ্চারা কি শিখবে? এভাবে চললে শিক্ষার্থীরা কোন কিছুই শিখতে পারবে না বলে মনে করেন তারা। এক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। স্যাররা বুঝিয়েও দেয়না ঠিকমতো।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলায় নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৫টি। এর মধ্যে মাধ্যমিক ৬১টি ও নিম্ন মাধ্যমিক ১৪টি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম না চললে ওই সব বিদ্যালয় প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমি একা মানুষ তাই নিয়মিত পরিদর্শনে যেতে পারি না। তবুও মাসে ৪ থেকে ৫টা বিদ্যালয় পরিদর্শন করি।

এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। তিনি বলেন, শিক্ষার বিষয়ে আমরা বর্তমানে সজাগ আছি। কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান না বা নিয়মিত স্কুল খোলে না এসব তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।