মেইন ম্যেনু

স্কুল জীবনের যে শিক্ষাগুলো বাস্তব জীবনেও কাজে লাগে

স্কুলে পড়াকালীন সবাই ভাবে কখন পড়া শেষ হবে? কখন সে একজন গ্র্যাজুয়েট হবে? আসল কথা হচ্ছে স্কুলের অভিজ্ঞতা কখনোই শেষ হয় না। স্কুলে যা কিছু ঘটে এবং আমরা যা কিছু শিখি তা স্কুল জীবন শেষ হয়ে গেলেও দীর্ঘদিন যাবত আমাদের মাঝে থাকে। স্কুলে আমরা জীবনের যে পাঠগুলো শিখি তা একবার দেখে নেই চলুন।

১। আপনি একটি সিস্টেমের অংশ
আপনি যেখানে কাজ করছেন বা যে দেশে বাস করছেন আপনি একটি কাঠামোগত ও সুশৃঙ্খল সমাজের অংশ। স্কুলে সব সময় একই ড্রেস পরে যেতে হত এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে সম্মান দেখাতে হত। স্কুলের মতোই একটি দেশে আইন থাকে যা জনগণকে মেনে চলতে হয়, অফিসে বস থাকেন এবং সেখানেও আপনাকে সময়মত যেতে হয়। স্কুলের নিয়ম যতই অন্যায্য হোকনা কেন হাসি মুখে ইয়েস স্যার বলতে হত সৌভাগ্যক্রমে জীবনের সব ক্ষেত্রে এমন করতে হয়না।

২। নেতা নির্বাচন
স্কুল জীবনে অনেকেই স্কুল পালায় বা দুপুরের টিফিন ব্রেকে সিগারেট খায় যা কিশোর বয়সের জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু যখন শিক্ষার্থীদের নেতা নির্বাচনের সময় আসে তখন কেউই ভোট দেয়ার জন্য সেই ছাত্রটির নাম লিখতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করেনা। এমনি ভাবে কর্মক্ষেত্রেও সহকর্মীরা তাদের প্রজেক্টের নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমন কাউকেই পছন্দ করে যিনি অন্যদের সমস্যা নিয়ে বসের কাছে যেতে পারবেন।

৩। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পাদন করা
যে কোন কাজ শুরু করলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারলেই ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব। নয়তো আপনার চাকরিটিও চলে যেতে পারে। এই শিক্ষাটি আমরা স্কুল জীবন থেকেই জেনে আসছি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে।

৪। ইউনিফর্ম অপছন্দনীয় হলেও অনিবার্য
স্কুলের পোশাক পরিধানের কঠোর নীতি মূল্যবান দক্ষতা তৈরি করে। বাস্তবে স্কুলের মত কঠোর নীতি অনুসরণ করা না হলেও কর্মক্ষেত্রে পরিপাটি হয়ে গেলে কাজের মান ভালো হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হন।

৫। সংযত থাকা
এটিও স্কুলের একটি অপছন্দনীয় শিক্ষা যে ক্লাসে জোরে কথা বলা যাবেন বা ইচ্ছে করলেই মাথা চুলকানো যাবেনা ইত্যাদি। এই রকম শত শত নিয়ম আমাদের মানতে হয় বাস্তব জীবনে যেমন- মিটিং এর সময় মনোযোগ অক্ষুণ্ণ রাখতে হয় বা দেরি করে পৌঁছানোটা দৃষ্টিকটু হয় বা কাজের সময় অনেক বেশি কথা বলা অদক্ষতার পরিচয় বহন করে কারণ এতে অন্যদের ও অসুবিধা হয়।

এছাড়াও আরো যে বিষয়গুলোর শিক্ষা আমরা স্কুল থেকে পাই তা হল – দলবদ্ধ হয়ে থাকাটা বুদ্ধিমানের কাজ, শক্তিশালী বা সুস্থ থাকা অনেক বেশি প্রয়োজন, স্মার্ট বা চটপটে হওয়াটাই সব কিছু নয়, কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য ও ভিন্নতা খুজে বের করা, যোগাযোগ রক্ষা করা, লক্ষ নির্ধারণ করা, ধৈর্য ধারণ করা, আলোকিত হওয়া ইত্যাদি।