মেইন ম্যেনু

স্ত্রীর পরকীয়া, প্রেমিকের হাতে ধোলাই খেল স্বামী, অতঃপর…

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের নেদামী গ্রামের সিদ্দিক প্রধানের ছেলে আলমাছ মিয়া তার স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিকের হাতে গণধোলাই খেয়ে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত রবিবার রাত ৯টায় তার স্ত্রী রুজিনা ও পরকীয়া প্রেমিক একই গ্রামের এবাদুল হক মাঝির ছেলে খলিল দুইজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেলে তারা দু’জন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। আলমাছ খলিলের পিছু নিয়ে তাকে ধরতে সক্ষম হন। এরপর এলাকায় এ খবর ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার সকালে তার স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক খলিল সাবেক চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন মাস্টার ও সাবেক মেম্বার সিরাজুল ইসলামের সামনে থেকে আলমাছকে জোড়পূর্বক ধরে নিয়ে খলিল, তার ভাই তৌহিদ, জলিল,ইসরাফিল , সেরাজুল মাঝির ছেলে খোরশেদ আলম, আক্তার হোসেন, মহর আলী মাঝির ছেলে নজরুল মাঝিসহ ১০/১২জন বখাটে আলমাছকে গণধোলাই দেয়।

দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করলে গুরুতর আহত হয় আলমাছ। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উপজেলার বড় দুর্গাপুর গ্রামের শহিদুল্লাহ ঢালীর মেয়ে রুজিনা।

আহত আলমাছ বলেন, আমি গাজীপুরে হালুয়া রুটির ব্যবসা করতাম। গত ২ মাস আগে বাড়িতে এসে অটো গাড়ী চালানো শুরু করেছি। এরমধ্যে আমার স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক বুঝতে পারি। কয়েকদিন পাহারা দিয়ে গত ১০/১২ দিন আগে খলিল ও আমার স্ত্রীকে একসাথে ধরি। কিন্তু খলিল জোর করে ছুটে পালিয়ে যায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে সবাই উল্টা আমার উপরেই দোষ চাপায়। এ থেকেই আমি তাদের হাতে-নাতে ধরার চেষ্টা করি।

আলমাছ আরও বলেন, গত রবিবার সন্ধ্যায় আমি মোহনপুর ট্রিপ নিয়ে যাই। সেখান থেকে দেখি খলিল খালি গাড়ি নিয়ে বাড়ির দিকে আসছে। আমার সন্দেহ হলে চুপেসারে তার পিছু নিয়ে বাড়ি গিয়ে পালিয়ে থাকি। আনুমানিক রাত ৯টায় আমার ঘরের বারান্দার পিছনে দু’জনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখি।

তারা আমাকে দেখতে পেয়ে বিবস্ত্র অবস্থায়ই দু’জন দু’দিকে দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। আমার বউ গোরস্থানের দিকে পালিয়ে যায়। অপরদিকে খলিল দৌড় দিলে আমি তার পিছু নিয়ে তাকে ধরতে পারি। এ ঘটনা রাতেই জানাজানি হয়।

আমার উপর ক্ষেপে পরদিন সকালে খলিল, তার ভাইয়েরা ও তার বখাটে ১০/১২জন বন্ধুরা মিলে আমাকে সাবেক চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন মাস্টার ও সাবেক মেম্বার সিরাজুল ইসলামের সামনে থেকে জোর করে ধরে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে ও আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করে। কোন রকমে আমি প্রাণে বেঁচে যাই। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান আলমাছ। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার চান।

সাবেক চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন মাস্টার বলেন, আমি এ ঘটনা সম্পর্কে আলমাছের সাথে কথা বলছি। এমতাবস্থায় আলমাছকে খলিলসহ তার ভাইয়েরা আমার সামনে থেকে জোর করে ধরে নিয়ে মারধর করেছে। আমি তাদেরকে বাঁধা দিলেও তারা আমার কথা শুনেনি।