মেইন ম্যেনু

স্ত্রীর প্রেরণাতেই সিরিজ খেলতে দেশে সাকিব আল হাসান

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ না হওয়ায় বিসিবির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে সন্তান সম্ভবা স্ত্রী উম্মে শিশির আহমেদের পাশে থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিন্তু এরই মাঝে ঠিক হয়ে গেলো জিম্বাবুয়ে সিরিজের দিনক্ষণ। ফলে প্রথম সন্তান পৃথিবীতে আসার আগেই দেশে ফিরতে হলো সাকিব আল হাসানকে। দলের জন্য সাকিবের এমন আত্মনিবেদনকে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এক কথায় বর্ণনা করেছেন, ‘গ্রেট’ বলে।

তো ব্যক্তিগত জীবনে এমন একটা কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্ত্রীকে ছেড়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজ খেলার জন্য দেশে ফিরে আসার শক্তি এবং সাহস কিভাবে পেলেন সাকিব? আজ মিরপুরে কাছে পেয়েই সাংবাদিকরা জানতে চাইলেন বিষয়টা। সাকিব অকপটে জানিয়ে দিলেন, স্ত্রী শিশিরের অনুপ্রেরণাতেই জিম্বাবুয়ে সিরিজ খেলার জন্য দেশে আসতে পেরেছেন তিনি।

৭ নভেম্বর শুরু হবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে এবং দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। শেষ হবে ১৫ নভেম্বর। সব স্বাভাবিক থাকলে সাকিবের কন্যা সন্তান পৃথিবীতে আসার কথা রয়েছে, আগামী ২২ নভেম্বর। সে হিসেবে ২০ থেকে ২২দিন সময় হাতে পাচ্ছেন তিনি। সেটাই সাকিব জানালেন সাংবাদিকদের, ‘এখনও তো ২০ থেকে ২৫ দিনের একটা গ্যাপ রয়েছে। আশা করি এ সময়ের মধ্যে কোনো সমস্যা হবে না।’

নিজের প্রথম সন্তান আসছে পৃথিবীতে। ব্যক্তিগত জীবনে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে দেশে আসার মানসিকতা তৈরী করতে পেরেছেন? সাকিব বলেন, ‘আসলে দেশে ফিরে আসার পেছনে স্ত্রীর সহযোগিতাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।  ছিলো। সে’ই আমাকে আসতে বলেছে। বলেছে, খুব বেশি প্রয়োজন হলে আবার আসতে পারবা। এমনিতে নরমাল সময়ে হলে তো সিরিজ শেষ করেই আসা যাবে। মূলতঃ ওর এভাবে বলার কারণেই আসতে পেরেছি।’

দেশে ফিরেছেন শনিবার রাতে। ফিরেই রোববার অনুশীলনে যোগ দেন সাকিব আল হাসান। দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত টানা বোলিং মেশিনের সামনে ব্যাট করে গেছেন। এরপর করেছেন জিম। কিন্তু সাংবাদিকদের সামনে কোন কথা বলেননি। আজ আর তাকে ছাড়লেন সংবাদকর্মীরা। সুতরাং, কথা বলতেই হলো সাকিবকে। আর তার কথাজুড়ে থাকল অনাগত সন্তানের বিষয় এবং এ পরিস্থিতে তার দেশের আসার গল্প।

স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরের প্রেরণার কথাই বার বার উঠে আসছিল সাকিবের কথায়। তিনি বলেন, ‘না আসলেও হতো; কিন্তু ও আমাকে বলল, এখানে বসে বসে খেলা দেখলে তোমার চেহারার যে অবস্থা হবে, সেটা আমার দেখার দরকার নাই। এরচেয়ে ভালো তুমি খেলে এসো। এমনিতেই তো সব সময় কথা হচ্ছে। ওরা সুস্থ আছে। ভালোভাবে সিরিজটি খেলে যেতে পারলে ভালো।’

সিরিজ নিয়ে কি চিন্তা সাকিবের? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিরিজ নিয়ে এমনিতেই উত্তেজিত। আবার ওই (অনাগত সন্তান) বিষয়টা নিয়েও উত্তেজিত। উত্তেজনার মাত্রা হয়তো বেশি! প্রয়োজনে হয়তো একটা দুইটা ম্যাচ বাদ দিতেও হতে পারে। সেটা নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। দেখা যাক কী হয় সামনে।’