মেইন ম্যেনু

স্ত্রী বটে !!

আমেরিকার টেক্সাসের ছোট সুন্দর শহর সীব্রুকে এক পাষন্ড স্ত্রী গত ছয় মাস ধরে তার স্বামীকে ঘরের বাইরে রেখেছেন।
পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে ওই নারী তার স্বামীকে জোড়পূর্বক ঘরের বাইরে বের করে দেন এবং ঘরের তালা পরিবর্তন করেন। বেচারা স্বামী কোনো উপায়ান্তর না খুঁজে পেয়ে নিজের কষ্টের টাকায় নির্মাণ করা বাড়িতে থাকতে পারছেন না। উদ্বাস্তুর মত বাড়ির সামনের ছোট বাগানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

৬৯ বছর বয়সী শরাফত খান জানান ছয়মাস আগে তারই ৬১ বছর বয়সী স্ত্রী শাহনাজের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। উত্তেজিত
অবস্থায় তার চিকিৎসক স্ত্রী তাকে ঘরের বাইরে বের করে ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। ঘরের তালা পরিবর্তন করে ফেলায় তিনি ঘরের ভিতর প্রবেশ করতেও পারছেন না। তিনি জানান, তার ওই বাড়িটির মূল্য প্রায় ১.৩ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় ১০ কোটি ১১ লাখ টাকার কিছু উপরে। তিনি তার নিজের পরিশ্রমের টাকায় বাড়িটি নির্মাণ করেন। অথচ এখন নিজের বাড়িতেই তিনি থাকতে পারছেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।

শরাফত খান বলেন, তার স্ত্রী তার খাবারদাবার, গোসল, পোষাকসহ সব ধরেনের নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিস থেকে বঞ্চিত করছেন। মাঝে মাঝে প্রতিবেশিরা তাকে খাবার এবং কাপড় দিয়ে সাহায্য করতো কিন্তু তার স্ত্রী প্রতিবেশিদের না করে সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। কট্টর এবং সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার হওয়ায় তালাকও দিতে পারছেন না সম্মানের ভয়ে আবার সম্পদের উপরও নিজের প্রভাব খাটাতে পারছেন না। তাছাড়া তালাকের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করার টাকাও তিনি জোগার করতে পারছেন না।

গৃহহারাখান জানান, তিনি দিনের বেলায় বাড়ির সামনের গাছের নিচে আশ্রয় নেন। আর রাতে বাড়ির প্রধান ফটকের ঠিক সামনে কয়েক ফুট দুরেই একটি কাগজ বিছিয়ে ঘুমান। প্রাকৃতিক কাজে সাড়া দিতে বাড়ির পিছনে গাছের আড়ালে যান। তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী বাড়ির দেয়ালে কাগজে বড় অক্ষরে লিখে প্রতিবেশিদের তাকে কিছু দিয়ে সাহায্য যেন না করে সেজন্য হুমকি দিয়েছেন।

গত ২০০৮ সালের পর থেকে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই ঝগড়া হত। কিন্তু ছয় মাস আগে তাকে একেবারেই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন তার স্ত্রী। ওই বছর অর্থাৎ ২০০৮ সালে তার স্ত্রী অবশ্য তার বিরুদ্ধে মারধরের মামলা করেছিল। কিন্তু খান জানান, তিনি মারধর করেননি। একমাত্র টাকা পয়সা জনিত কারণেই তার স্ত্রী তাকে বাড়ির বাইরে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রতিবেশিরা জানায়, গত ছত মাসে কমপক্ষে ৩০ বার খানের ওই বাড়িতে পুলিশ এসেছে বিষয়টি সুরাহা করতে। কিন্তু আইনগত জটিলতার কারণে তাও সম্ভব হচ্ছে না। তারা আশঙ্কা করছেন খান হয়তো রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কারণ তিনি এমনিতেই বেশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।
এই শরাফত খান হলে তাদের পারিবারিক ব্যবসা ‘খান ইনভেস্টমেন্ট এলএলসির’ স্বত্বাধিকারী।



« (পূর্বের সংবাদ)