মেইন ম্যেনু

স্পাইডার ভেইন সমস্যা ও এর প্রতিকার

যদি কোনদিন আপনি আপনার পায়ে অথবা গোড়ালিতে মাকড়শার জালের মত গঠন দেখেন, তখন ঘাবড়াবেন না যেন। স্পাইডার ভেইন দেখতে কদাকার হলেও সাধারণত ক্ষতিকর না এবং নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তবে এর ফলে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হয়। সৌভাগ্যক্রমে এর প্রতিকারের জন্য অনেক ঘরোয়া উপায় আছে। ৫৫% মহিলা এবং ৪০-৪৫% পুরুষ তাদের জীবনে শিরার এই রোগে ভোগেন। কেউ কেউ এর জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। আবার অনেকেই প্রাকৃতিক ভাবে স্পাইডার ভেইন এর সমস্যার সমাধান করে থাকেন।

স্পাইডার ভেইন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় টেলাঞ্জিকটাসিয়াস বা অ্যাঞ্জিওএক্টাসিয়াস নামে পরিচিত যা ভেরিকোস ভেইন এর অনুরূপ তবে ভেরিকোস ভেইন এর চেয়ে ছোট। এই পাতলা শিরা গুলো ত্বকের উপরিভাগে থাকে যা দেখতে মাকড়শার জাল বা গাছের শাখা-প্রশাখার মত হয় এবং লাল, নীল বা বেগুনী বর্ণের হয়। স্পাইডার ভেইন সাধারণত পায়ে, উরুতে ও গোড়ালিতে দেখা যায়। পায়ের নীচের অংশের শিরায় অনেক চাপ পড়লে এমন হয়। অনেক সময় শরীরের অন্যান্য অংশে যেমন- চেহারায় ও স্পাইডার ভেইন হতে দেখা যায়। যখন অগভীর শিরা গুলোর ভাল্ব দুর্বল হয়ে যায় এবং রক্তকে হার্টের দিকে ঠেলে দিতে অসমর্থ হয় তখন রক্ত উল্টো দিকে প্রবাহিত হয় এবং শিরার মধ্যে জমা হয়। এর ফলে শিরা ফুলে উঠে এবং রক্ত জমাট বেঁধে লাল, নীল বা বেগুনী বর্ণের দেখায়।

স্পাইডার ভেইন হওয়ার কারন :

বিভিন্ন কারণে স্পাইডার ভেইন এর সমস্যাটি হতে পারে।যেমন-

পরিবারে স্পাইডার ভেইন হওয়ার প্রবণতা থাকলে

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে

স্থূলতা

জন্মনিরোধিকরন পিল গ্রহণ করলে

রক্তনালীর গঠনে সমস্যা থাকলে

হরমোনের প্রভাবে- বয়ঃসন্ধি, প্রেগনেন্সি এবং মেনোপোজের সময় বেশি হয়।

ঘরোয়া উপাদান দিয়ে স্পাইডার ভেইন এর উপশম করা যায়। আসুন যেনে নেই ঘরোয়া উপাদান গুলো ও তাদের প্রয়োগ পদ্ধতি গুলো সম্মন্ধে।

১। কমলা

কমলায় উপস্থিত ভিটামিন সি স্পাইডার ভেইন এর চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভিটামিন সি রক্তনালীকে জোরদার করে এবং রক্ত প্রবাহকে উন্নত করে। কমলা অ্যান্টি অক্সিডেন্টের চমৎকার উৎস যা টিস্যুকে ড্যামেজ হওয়া থেকে রক্ষা করে। প্রতিদিন কমলা খান।

২। পেয়ারা

পেয়ারাও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা রক্তনালীকে শক্তি প্রদান করার জন্য অত্যাবশ্যকীয়। পেয়ারাতে প্রচুর ভিটামিন কে থাকে যা টিস্যুর মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহ উন্নত করে এবং বর্ণহীনতা রোধ করে। এছাড়াও পেয়ারাতে লাইকোপেন নামের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা কোষ ও কলাকে বিষাক্ততা থেকে রক্ষা করে। প্রতিদিন পেয়ারা খেলে স্পাইডার ভেইন এর সমস্যা দূর হয় যথেষ্ট পরিমানে।

৩। আপেল সাইডার ভিনেগার

স্পাইডার ভেইন এর উপশমে আপেল সাইডার ভিনেগার ব্যাবহার করা খুবই কার্যকরী। আপেল সাইডার ভিনেগার স্পাইডার ভেইন এর উপসর্গ গুলোকে কমিয়ে আক্রান্ত স্থানের রক্তসংবহনকে বৃদ্ধি করে। একটি পরিষ্কার কাপড় আপেল সাইডার ভিনেগার এ ভিজিয়ে আক্রান্ত স্থানে চেপে ধরুন। এভাবে ১৫-২০মিনিট রাখুন। এভাবে দিনে ২-৩বার করুন যতদিন না স্পাইডার ভেইন এর সমস্যা দূর হয়।

৪। আদা

রান্নাঘড়ের একটি কমন উপাদান হচ্ছে আদা যা স্পাইডার ভেইন এর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করি। শিরার যেখানে সমস্যা হয় সেখানে ফাইব্রিন নামক প্রোটিন উৎপন্ন হয় যা শিরাকে অনেক বেশি দৃশ্যমান করে। আদা ফাইব্রিন কে ভেঙ্গে স্পাইডার ভেইন দূর করে। আদা রক্তচাপ কমিয়ে রক্তপ্রবাহ উন্নত করে। এছাড়াও আদা রক্তকে পাতলা করে যার ফলে হৃদপিণ্ডের রক্ত পাম্প করাটা সহজ হয়। যদি আপনি ইতিমধ্যেই রক্তকে পাতলা করার ঔষধ গ্রহণ করে থাকেন তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলে আদা গ্রহণের পরিমাণ ঠিক করবেন। অন্যরা দিনে ২-৩বার আদা-চা এর সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

৪। নারিকেল তেল ও সরিষার তেল

স্পাইডার ভেইন দূর করার জন্য তেলের মালিশ অনেক উপকারি।সরিষার তেল তেল মালিশ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে ও রক্তনালীর ভাল্বের শক্তি বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে নারিকেল তেল ত্বকের ভিতরে প্রবেশ করে ক্যাপিলারিস বা কৈশিক নালীকে সুস্থ করে। এছাড়াও নারিকেল তেল শিরার বিবর্ণতা রোধ করে ত্বকের স্বাভাবিক বর্ণ পুনরুদ্ধার করে।

কিছু টিপস :

প্রচুর পানি পান করুন যাতে শরীরের বিষাক্ত উপাদান বের হয়ে যেতে পারে এবং শরীরের আদ্রতা বজায় রাখতে পারে।

অনেক বেশি পরিমাণে চা-কফি খাওয়া বন্ধ করতে হবে কারণ ক্যাফেইন স্পাইডার ভেইন তৈইরি জন্য সহায়ক।

নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে রক্ত চালাচল স্বাভাবিক থাকে।

পায়ের ব্যায়াম করতে পারেন, এক্ষেত্রে হাঁটা অনেক উপকারি।

একাধারে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবেনা। কিছুক্ষণ পরপর অবস্থান পরিবর্তন করুন।

অনেকক্ষণ বসে কাজ করতে হলে পায়ের উপর পা দিয়ে বসবেননা এতে রক্ত চালাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় যা স্পাইডার ভেইন তৈইরি জন্য সহায়ক।

ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন।

ঘুমানোর সময় পায়ের নীচে বালিশ দিয়ে পা উঁচু করে ঘুমাতে পারেন এতে পায়ের উপর চাপ কমবে এবং রক্ত চালাচল ভালোভাবে হবে।

লবন খাওয়া কমাতে হবে। কারণ লবণ প্রদাহ সৃষ্টি করে ও স্পাইডার ভেইন তৈইরিতে সাহায্য করে।

লিখেছেন-সাবেরা খাতুন