মেইন ম্যেনু

স্বর্ণপদকটা শেষ পর্যন্ত নিয়েই ছাড়লেন সিংভি

বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি অর্থাৎ আইন পরীক্ষা দেওয়ার পর পুরো ৪৭ বছর বাদে বৃহস্পতিবার সেই পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পুরস্কারস্বরূপ স্বর্ণপদক জিতে নিলেন রাজস্থানের অজিত সিং সিংভি।

তার নিজের বয়স এখন একাশি, কিন্ত তাতে কী?

রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জে পি সিংঘল আজ জয়পুরে অশীতিপর সিংভির হাতে এক অনুষ্ঠানে সেই স্বর্ণপদক তুলে দেন। পদকে লেখা ছিল, ১৯৬৯-এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হওয়ার জন্যই এই সম্মান।

কিন্তু কেন পদক দিতে এত দেরি? এর কারণ হল প্রথমে যখন পরীক্ষার ফল ঘোষিত হয় তখন অজিত সিং সিংভি প্রথম স্থান পাননি, পেয়েছিলেন দ্বিতীয় স্থান।

কিন্তু অজিত সিং সিংভি মানতে পারেননি যে তিনি প্রথম স্থান পাওয়ার যোগ্য নন, বরং তার সম্পূর্ণ আস্থা ছিল যে প্রথম স্থানটি তারই পাওয়ার কথা। ফলে তিনি সোজা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন।

সেই মামলা চলে বছরের পর বছর ধরে। এর মধ্যে অজিত সিং সিংভি ভারতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আমলা পদেও যোগদান করেন। নিজের রাজ্য রাজস্থানের বিকানের-সহ নানা জেলায় কালেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরই মধ্যে কোর্ট অজিত সিং সিংভির পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় যাকে প্রথম স্থানাধিকারী ঘোষণা করেছিল, তিনি সেই রায় মানতে না-পেরে উচ্চ আদালতে পাল্টা আপিল ঠুকে দেন।

সেই আপিলেরও শুনানি চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। অবশেষে ২০০৩ সালে এসে রাজস্থান হাইকোর্ট রায় দেয় অজিত সিং সিংভির দাবি যথার্থ – পরীক্ষায় তিনিই আসলে প্রথম স্থান পাওয়ার যোগ্য ছিলেন।

ইতিমধ্যে সিংভি আইএএস-র চাকরি থেকেও অবসর নিয়েছেন। কিন্তু তার আদালতের রায়ের পরও তার পদক জেতার আশ মেটেনি – কারণ হাইকোর্টের অদেশ সত্ত্বেও রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় তা না-মেনে চুপচাপ বসে থাকে আরও বারো বছর।

অবসরের পরও সিংভি কিন্তু হাল ছাড়েননি – তিনি স্বর্ণপদক দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে গত এক যুগ ধরে ক্রমাগত তাগাদা দিয়ে যেতে থাকেন।

অবশেষে সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, আজ ২৩ জুন এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সিংভির হাতে ১৯৬৯’র এলএলবি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করার জন্য স্বর্ণপদক তুলে দেওয়া হবে।

ফলে পরীক্ষা দেওয়ার প্রায় অর্ধশতাব্দী বাদে হাসি ফুটল বৃদ্ধ অজিত সিং সিংভির মুখে – এলএলবিতে প্রথম স্থান তিনি জিতেই ছাড়লেন! বয়সটা শুধু এর মাঝে একটু বেড়ে গেল, এই যা!

সূত্র: বিবিসি বাংলা