মেইন ম্যেনু

স্বাভাবিক বৃষ্টিতেই ডুবছে রাজধানী, মুক্তির উপায় কী?

গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত) রাজধানী ঢাকায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর স্বাভাবিক এ বৃষ্টিপাতেই তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে অচল হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা। চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে নগরবাসীদের। আবহাওয়া অফিস বলছে, এ পরিমাণ বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক। সাধারণত ৪৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে তাকে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বা ভারীবর্ষণ বলা হয়।

মঙ্গলবার সারাদিন ও রাতে হালকা এবং মাঝারি বৃষ্টিপাতের পর বুধবারও তা অব্যাহত থাকে। এতে নগরীর মালিবাগ-মৌচাক এলাকা, শান্তিগনর, মগবাজারসহ নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ মতিঝিল এলাকায়ও সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। অফিসগামী কর্মজীবীদের পড়তে হয় সীমাহীন দুর্ভোগে।

কোন কোন রাস্তা চলাচলের উপযোগী না থাকায় অন্য সড়কগুলোতে পড়ে যানবাহনের বাড়তি চাপ। সৃষ্টি হয় যানজটের। মতিঝিল, গুলিস্তান, শাহবাগ, ফার্মগেট, মহাখালী, প্রগতি স্বরণী, রোকেয়া স্বরণী, তেজগাঁও সাতরাস্তা, বাড্ডা লিংকরোড, মিরপুর সড়কে সৃষ্টি হয় যানজট। একদিকে যানজট অন্যদিকে গণপরিবহন সংকটে নাকাল হতে হয় নগরবাসীকে।

আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন: বুধবার ভোর থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ঢাকায়। জুলাই মাস হিসেবে এ বৃষ্টিপাত খুবই স্বাভাবিক। সাধারণত ৪৪ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতকে স্বাভাবিক ধরা হয়। এর বেশি হলে তাকে ভারীবর্ষণ বলা হয়। সে তুলনায় গত দুইদিন যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তা মোটেই অস্বাভাবিক নয়।

স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতেই নগরীতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। জলজটের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। অসহনীয় হয়ে উঠছে নাগরিক জীবন।এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?

পানি বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, নগরীর জলাবদ্ধতা দুর করতে হলে সবার আগে দরকার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা। পানি নিষ্কাশনের পথের সকল প্রতিবন্ধকতা দুর করা।এ জন্য নগরীতে যে প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো রয়েছে সেগুলো মুক্ত করার পাশাপাশি কৃত্রিমভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পানি বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটি, বজ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ইত্যাদি কারণে একটু বৃষ্টিপাত হলেই নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে মানুষকে।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের উপায় বর্ণনা করে তিনি বলেন: তিনটি উপায়ে নগরীর জলাবদ্ধতা দুর করা যেতে পারে। প্রথমত: নগরীতে যে প্রাকৃতিক জলাশয় রয়েছে সেগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তার পানি ধারণ ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত: কৃত্রিমভাবে বৃষ্টির পানিকে ভূগর্ভে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

“কৃত্রিমভাবে পানি যদি ভূগর্ভে পাঠানো যায় তাহলে একসঙ্গে দুটি উপকার হবে। একদিকে যেমন নগরীর জলাবদ্ধতা দুর হবে অন্য দিকে নেমে যাওয়া পানির ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও ওপরে উঠবে। কারণ এমনিতেই নগর এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে।”

সার্বিকভাবে নগরীর জলাবদ্ধতা দুর করে স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে সর্বশেষ উপায় হিসেবে ‘ওয়াটার সেনসেটিভ আরবান প্লানিং’ কথা উল্লেখ করেন কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ। তবে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে সে পথ অনেকটাই রুদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।-চ্যানেল আই অনলাইনের সৌজন্যে প্রকাশিত।






মন্তব্য চালু নেই