মেইন ম্যেনু

স্বামীর জানা উচিত স্ত্রী কি চায়?

পথে ঘাটে থেকে শুরু করে ঘরে পর্যন্ত নারীদের কতোটা সম্মান দেয়া হয় তা মনে হয় এই দেশের প্রতিটি নারীই হাড়ে হাড়ে টের পান এবং পাচ্ছেন। যাদের পরিবারে ন্যূনতম সম্মান রয়েছে তারা সত্যিই ভাগ্যবতী বলা চলে। সে পথে সম্মান পেলেন কি পেলেন না তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে এটা নিয়েই শান্তিতে থাকা উচিত যে আর যাই হোক না কেন তাকে তার পরিবার সম্মান দিচ্ছে, সাপোর্ট দিচ্ছে, কয়টা পরিবার তা দেয়।

আধুনিকতার লেবেল লাগানো পরিবারগুলোতে আজও নারীরা সবচাইতে বেশি অবহেলিত। ঘরের সিদ্ধান্তে নাক গলানোর অধিকার নেই ঘরের নারীদের। বড় সন্তান হয়েও ছোটো ভাইয়ের কাছে অনেক সময়ই অপমানিত হতে হয়, কারণ অনেক পরিবারের বাবা মা বড় মেয়েটির চাইতে ছোটো ছেলেটির কথা এবং সম্মান অনেক বেশি দিয়ে থাকেন। সবক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ঘরের ছেলে সন্তানটির।

যদিও সকল পরিবার একই রকম নন। তারপরও এই ধরণের পরিবার নজরে পড়ে আজও। কিন্তু দায়িত্ব পালনের বেলায় কিন্তু সবার প্রথমেই নজর চলে যায় পরিবারের মেয়ে সন্তানটির দিকে। ছেলে সন্তানটি মুখ বড় বড় কথা বলেই খালাস, কিন্তু মেয়ে সন্তানটি পরিবারের দায় দায়িত্ব পালন করেও রেহাই পায় না। বরং প্রতিটি হুকুম পালনে তাকে সদা সচেষ্ট থাকতে হবে এবং ক্রেডিট নেয়ার বেলায় ঘরের ছেলে সন্তানটির নামই প্রথমে আসে।

এতো গেল ঘরের কথা, নারীদের শ্বশুর বাড়ির চিত্র আরও বিচিত্র। তুমিই ঘরের কর্ত্রী, তুমিই বাড়ির সব’, বলা পুরুষটির মতে মত না মিললে ঘরের গৃহকর্মীর চাইতেও কম সম্মান দেয়া হয়। স্বামীর সংসারই সব বলে মেনে নেয়া নারীরা তো বটেই, মাথা নিচু করে থাকতে হয় প্রতিবাদী নারীটিরও। ভালোলাগা, ভালোবাসা সবকিছুই পুরুষটির ইচ্ছেমতো, নারীটির ইচ্ছে হলে তা কিছুই নয়।

যখন যেভাবে চাইবেন সেভাবেই থাকতে হবে ঘরের বউটিকে, তা না হলেই নারীটির চরিত্র ভালো না, কথা মানতে চায় না, বিদ্বান বউ সকল দোষের দোষী হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যান তিনি। ইচ্ছে হলে স্বামীরা কাছে আসবেন, ইচ্ছে হলে কথা বলবেন, ইচ্ছে হলে স্ত্রী কেমন আছে জানতে চাইবেন, ইচ্ছে হলে রাণীর মতো মাথায় নিয়ে নাচবেন।

কিন্তু কেউ একটিবারের জন্য জিজ্ঞেস করে দেখতে চান না স্ত্রী আসলে কি চান। নিজের ইচ্ছে প্রকাশ করবেন তো শুনতে হবে, ‘হিন্দি সিরিয়াল দেখে দেখে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছে, কুটনামী শেখা হয়েছে’। স্ত্রীরা নিজের ইচ্ছে হলে ভালোবাসতে পারেন না নিজের স্বামীকে, ইচ্ছে হলেই ফোন দিয়ে কথা বলতে পারেন না। কারণ এখানেও শুনতে হয়, ‘আমার উপর খবরদারী করা হচ্ছে?। ইচ্ছে হলেই নিজের সব কথা স্বামীর কাছেও প্রকাশ করতে পারেন না নারীরা, স্বামী মহাশয় আবার কোন কথা ধরে বসেন, কোন কথায় গায়ে আবার হাত তুলে ফেলেন।

কারণ গায়ে হাত তোলার ব্যাপারে কিন্তু স্বামীটির কোনো দোষ নেই, স্ত্রী বেচারি কেনই বা কথা বলবে বলুন। তাঁর কি কথা বলার কোনো প্রয়োজন ছিল? চুপ করে থাকলেই তো স্বামী এই আচরণ করতে পারতেন না, তাই না? এতো কিছুর পরও নারীদের রঙ মেখে সঙ সেজে স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্যই অপেক্ষা করতে হয়, মনোরঞ্জন করতে হয়।

তথ্য-ওয়েবসাইড