মেইন ম্যেনু

স্বামীর পরিবার নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ খালেদা

স্বামীর বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে শিথিল পারিবারিক বন্ধন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিগত আড়াই দশকে নিজের পরিবারের লোকজন নানাভাবে আলোচনায় এলেও স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পরিবারের কোনো সদস্যকে তার আশেপাশে দেখা যায়নি।

স্বামীর জন্মস্থান বগুড়া থেকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে কয়েক দফায় প্রধানমন্ত্রী হলেও জীবিত একমাত্র দেবর বা আত্মীয় স্বজনের কোনো খোঁজ-খবর রাখেননি স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দলের প্রধান।

বগুড়ার কৃতিসন্তান জিয়াউর রহমানেরা পাঁচ ভাই। বর্তমানে জীবিত আছেন মাত্র একজন। তার নাম আহম্মেদ কামাল। কিন্তু দলীয় লোকজন তো দূরের কথা তার কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না তার ভাবি খালেদা জিয়া, ভাতিজা তারেক রহমান বা পরিবারের কোনো সদস্য।

সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আহম্মেদ কামাল। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। ভর্তি রয়েছেন রাজধানীর বারডেমে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টারে। তবে তার অসুস্থ হওয়া বা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবরটি জানা নেই বেগম জিয়া বা কোনো নেতাকর্মীর। কেউ খোঁজ পর্যন্ত রাখেননি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার ছোট ভাইয়ের।

তবে এ ব্যাপারে ভাবি, ভাতিজা বা নেতাকর্মীদের ওপর কোনো আক্ষেপ নেই ৬৮ বছর বয়সী আহম্মেদ কামালের। তিনি এখনও বিয়ে করেননি। স্বজনহীনতা ছাড়াও তার রয়েছে আর্থিক সঙ্কট। এ বয়সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুবিধাটুকুও নেই। রাজধানীর বাসাবোর একটি ভাড়া বাসায় দিনাতিপাত করেন। নেই নিজের গাড়ি। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে রীতিমতো ভরসা করতে হচ্ছে অন্যের ওপর।

১৯৮২ সালের ৪ জানুয়ারি বিএনপির ক্রান্তিলগ্নে খালেদা জিয়া দলের প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণ করেন। পরে মার্চ মাসে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দু’বছর পর ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও একই বছরের ১০ মে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকার প্রধান হয়েছেন তিন তিন বার। বিরোধী দলের নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্বামীর মৃত্যুর পরে প্রভাবশালী রাজনীতিক হিসেবে দীর্ঘ আড়াই দশক অতিবাহিত করেছেন। এর মধ্যে তার সন্তান, ভাগ্নে, ভাই, বোন বার বার নানাভাবে আলোচনায় উঠে এলেও জিয়াউর রহমানের ভাই বোন বা আত্মীয় স্বজনের কোনো হদিস নেই। জিয়ার হাতেই জন্ম হয়েছে বিএনপির। অথচ সেই জিয়ার ভাইয়ের প্রতি নজর নেই দলের কোনো নেতার। ভোটের রাজনীতিতে বগুড়া নিয়ে দলে আবেগ থাকলেও নেতৃত্বে প্রাধান্য দেখা গেছে নোয়াখালী-ফেনী অঞ্চলের।

বারডেমের কেবিনে চিকিৎসাধীন আহম্মেদ কামাল বলেন, ‘সর্বশেষ ভাতিজা কোকোর মৃত্যুর পর ভাবির সঙ্গে দেখা হয়েছে। আমি গিয়ে দেখা করে এসেছি।’

অর্থভাবে জিয়ার ভাই চিকিৎসা নিতে পারছেন না- এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি পত্রিকায় পড়লাম। বিষয়টি দুঃখজনক। তাকে আমার কখনও দেখার সুযোগ হয়নি। আমি তাকে জানতামও না, চিনতামও না। উনিও কখনও সেইভাবে জনসম্মুখে আসেননি। উনি সরকারি চাকরীজীবী ছিলেন। আমার সুযোগ হয়নি তাকে জানার। তবে দুঃখজনক যে, জিয়াউর রহমানের আপন ভাই বা তার সহদোর অসহায়ের মতো আছেন, সত্যি খুব বেদনাদায়ক। আমরা এতটুকই বলতে পারি, তিনি আশু সুস্থ হোন এবং তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যান।’

জিয়ার ভাইয়ের চিকিৎসায় অর্থাভাবের ঘটনায় চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার পারিবারিক বন্ধন প্রশ্নবিদ্ধ হয় কিনা জানতে চাইলে মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি বলতে চাই না। এখানে সে সুযোগ নেই। একেকজনের লাইফ স্টাইল একেক রকম। কাগজে পড়ে দেখলাম তিনি মৌন প্রকৃতির। পাবলিকলি আসতে চাননি। পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিলো। এখন হয়তো তার ভাইয়ের ছেলেরা দেশের বাইরে আছে। এজন্যে তার খোঁজ খবর নিতে পারছে না। তিনিও নিজের মধ্যে থাকতে চান।’

বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ ব্যাপারে বলেন, ‘এটা পারিবারিক বিষয়। তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন।’

বেগম জিয়া আহম্মেদ কামালকে দেখতে বারডেমে যাবেন কিনা জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শাইরুল কবীর খান শুক্রবার বিকেলে বলেন, ‘এখনও বিষয়টি আমরা জানা নেই। শোনামাত্রই জানাবো।’ বাংলামেইল