মেইন ম্যেনু

স্বামীর বেশে স্ত্রী’কে হত্যা করতে চেয়েছিল হিংস্র প্রেতাত্মা

গ্রামে-গঞ্জে মাঝেমধ্যেই শোনা যায় মানুষকে নাকি ভূতে ধরে৷ মানুষের শরীরে নাকি প্রবেশ করে অশরীরী৷ তারপর মানুষের শরীর ব্যবহার করেই চালাতে থাকে নিজেদের মন্দ কাজ৷ এই কথায় অনেকেই বিশ্বাস করেন না৷ কেবল যারা এমন ঘটনার সাক্ষী থেকে যান তারা মানবদেহে দুষ্ট অশরীরীর ভর করার ঘটনা বিশ্বাস করেন৷

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বন্দরনগরী বিশাখাপত্তনমের বাসিন্দা পুবাকা যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন৷ বরাবরই তিনি তার মা-বাবা’র সুসম্পর্কই দেখে এসেছেন৷ পুবাকার দাবি তার মা-বাবার মধ্যে মাঝেমধ্যে ঝগড়া হলেও তারা একে অপরকে খুব ভালবাসতেন এবং সম্মান করতেন৷ পুবাকার পরিবারে মোট সাতজন সদস্য ছিলেন৷ বেশিরভাগ দিন রাতেই পুবাকা তার ঠাকুমার সঙ্গে ঘুমোতেন৷ আর তাদের ঠিক পাশের ঘরেই ঘুমোতেন পুবাকার মা ও বাবা৷

এমনভাবেই সবকিছু চলছিল৷ হঠাৎ একদিন রাতে পুবাকার মায়ের আর্তনাদ শুনে সকলেই প্রায় চমকে যান৷ বাড়ির সকলেই ছুটে যান সেই ঘরে৷ গিয়ে দেখেন ফুঁপিয়ে কাঁদছেন পুবাকার মা৷ প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান কেউ তার গলা টিপে ধরেছিল৷ তার দম আটকে আসছিল৷ কিন্তু কে গলা টিপে ধরেছিল তার এই কথা তিনি সঠিকভাবে জানাতে পারেননি৷ এরপর সকলেই ভয় পেয়েছিলেন৷ কিন্তু কোনও সঠিক তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় কোনও সমাধান খুঁজে পাননি কেউই৷

কিন্তু এরপর থেকে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে বারবার৷ প্রতি রাতেই আর্তনাদ শোনা যেত পুবাকার মা’র৷ কিন্তু কে তার প্রাণ নিতে চায় তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারতেন না কেউ৷ সমস্যার সমাধান করতে পুবাকার ঠাকুমা তার ছেলে এবং পুত্রবধূকে তার ঘরেই শোওয়ার নির্দেশ দেন৷ কিন্তু তার ঘরে শুয়েও ঘটতে থাকে একই ঘটনা৷ সমস্যার সমাধান খুঁজতে পুবাকার কাকা একটি হনুমানজির লকেট তার বৌদিকে দেন এবং সেটি পুবাকার মা পরেও নেন৷ কিন্তু তারপরেও এই সমস্যার সমধান মিলল না৷ আবারও ঘটতে থাকে একই ঘটনা৷

একদিন রাতে অতিরিক্ত ভীতি থেকেই পুবাকার মা ঘরের আলো জ্বালিয়ে ঘুমনোর প্রস্তাব দিলে প্রত্যেকেই তা মেনে নেন৷ আলোর

মধ্যেই সকলে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন সেদিন৷ কিন্তু রাত দুটো নাগাদ পুবাকার মা’র চিৎকারে চমকে ওঠেন সকলে৷ আর তারপর যে দৃশ্য তারা দেখেন তা তারা নিজেরাও কল্পনা করতে পারেন নি৷ পুবাকা এবং তার ঠাকুমা দেখেন পুবাকার বাবাই খুব হিংস্রভাবে তার স্ত্রী’র গলা টিপে ধরে তাকে খুন করার চেষ্টা করছে৷ এই অবস্থায় তার বাবাকে দেখে সম্পূর্ণ অচেনা মনে হচ্ছিল পুবাকার৷ তিনি খেয়ালই করেননি যে পুবাকা এবং ঠাকুমা তাকে দেখছে৷ সম্বিৎ ফিরে পেতেই তিনি তার স্ত্রী’কে ছেড়ে দেন এবং বলেন তিনি তার স্ত্রী’কে সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন৷

এই ঘটনার পরেই পুবাকার পরিবার বুঝে যান যে গোটা ব্যাপারটিতে গন্ডগোল রয়েছে৷ পরিস্থিতির সামাল দিতে পুবাকার কাকা সেখানে আসেন এবং তার ভাইয়ের সামনে হনুমান চালিসা পড়তে থাকেন৷ ঠাকুরের নাম সহ্য করতে পারছিলেন না পুবাকার বাবা৷ এরপর তার ভাই তাকে এক প্রকার জোর করে চেপে ধরেই প্রশ্ন করতে থাকেন, “কে তুমি? কী তোমার নাম? কোথা থেকে এসেছ?” মুহূর্তের মধ্যে গলার স্বর বদলে যায় পুবাকার বাবার৷ মহিলা কন্ঠস্বরে আর্তনাদ করতে শুরু করেন তিনি৷ বলতে থাকেন, “আমায় ছেড়ে দাও!”

আর দেরি না করে, পরদিন সকালেই এক পীরসাহেবের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় পুবাকার বাবাকে৷ তাবিজ দিয়ে তাঁকে সুস্থ করা হয়৷ পূর্নিমার দিন ছিল সেটি৷ পীর বলেন, পুবাকার বাবার উপর নজর পড়েছে একটি রক্ত-পিশাচের৷ সেদিন রাতেই সেই পিশাচ পুবাকার বাবার উপর সম্পূর্ণভাবে কবজা করে ফেলত৷

এরপর থেকে পুবাকার বাবা আর এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করেননি৷ তাকে প্রশ্ন করা হলে এই বিষয়ে, তিনি জানান, একদিন ভোরবেলা তিনি পড়াতে যাওয়ার সময় তিনি এক অদ্ভুত নারীমূর্তির দেখা পান৷ সেই মহিলার দেখা পাওয়ার পর থেকেই তিনি স্বপ্নে ওই মহিলাকেই দেখতে থাকেন৷ আর স্বপ্নে তিনি গোরস্থান, মৃতদেহ ইত্যাদিও দেখতে পেতেন৷ এরপর থেকেই আসতে আসতে নিজের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেন তিনি৷ আর তারপর এক সময় তিনি নিজের সমস্ত কাজের উপর থেকেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন পুবাকার বাবা৷