মেইন ম্যেনু

স্বামী আমাকে বন্ধুর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলেছে…এখন কী করব?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবাসী গৃহবধূ নিজের বিশাল সমস্যাটি লিখে পাঠিয়েছেন যা সংক্ষেপে এই রকম-

” আমরা ভালোবেসে বিয়ে করি। অনেক কষ্টের পর পারিবারিক সম্মতিতে আমাদের বিয়ে হয় এবং বিয়ের পর সে আমাকে দেশের বাইরে নিয়ে আসে। কিন্তু এখানে এসে আমি দেখি ও যা বলেছিল শোব মিথ্যা। ওর তেমন কিছুই নেই। আমাকে খুব বাজে পরিবেশে রেখেছিল। বাসায় নানান রকম আজেবাজে লোকজন আসত। পান থেকে চুন খসলেই বাজে কথা বলত। এমনকি আমার গায়ে হাতও দিত। নিজের ছোট ভাইয়ের সামনেও আমাকে মারত। কোন উপায় ছিল না বলে আমি সহ্য করতাম। এর মাঝে ভিসার কথা বলে সে আমার বাবার কাছ ১০ লক্ষ টাকা ধার হিসাবে নেয় যা কখনোই শোধ করেনি। সে আমাকে কোন টাকা দিত না হাতখরচের, আমি খুব কষ্টে গৃহবন্দী দিন কাটাচ্ছিলাম সবকিছু সহ্য করে। এমনকি সে আমার সাথে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নানা রকম বাজে মন্তব্য করত। এর মাঝে ২ বছর পার হয়। বাসায় তাঁর একজন বন্ধু যাতায়াত শুরু করে। প্রথমে তাকে আমি পছন্দ না করলেও আস্তে আস্তে আমরা পরস্পরের প্রতি দুর্বল হয়ে যাই। আমার স্বামীও ব্যাপারটা বুঝত। যাই হোক, একদিন সে আমাদের হাতে নাতে ধরে ফেলে আপত্তিকর অবস্থায়, আমি আর সেই ভদ্রলোক কিস করছিলাম। বিষয়টি নিয়ে অনেক সিন হয়। আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করি, ৫ দিন হাসপাতালে ছিলাম। সেখান থেকে ফিরে আর সেই লোকের সাথে যোগাযোগ করি না, স্বামীর সাথে মিলে দিয়ে থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু ও সারাক্ষণ আমাকে কথা শোনাত, কিছু হলেই গায়ে হাত তুলত। এভাবেই একদিন সে আমাকে অনেক মারধোর করে। আমি সহ্য করতে না পেরে বান্ধবীর বাসায় চলে আসি। আমার স্বামীর অত্যাচারে অস্থির হয়ে বান্ধবী পুলিশে ফোন দেয়। এর মাঝে অনেক কিছু ঘটে। থানা পুলিশ ইত্যাদি অনেক কিছুই। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না। এদিকে ওই লোকের সাথে আমার আবার যোগাযোগ হয়। সে আগের মতই আমাকে সম্পূর্ণ সাপোর্ট দেয় সব ব্যাপারে, নিজের ফ্যামিলিকেও আমার কথা জানায়। কিন্তু মাঝে মাঝে তাঁর আচরণে আমি সন্দিহান হয়ে পড়ি, সে আসলেই আমাকে ভালবাসে কিনা। আমার পরিবার বলছে বাংলাদেশে ফিরে আসতে। আমার সাথে মুখোমুখি কথা বলে তারা একটা সিদ্ধান্ত নিতে চায়। অন্যদিকে স্বামী বলেছে তাঁর সাথে সংসার করতে চাইলে মাফ চাইতে হবে। আমি কেন মাফ চাইব তাঁর কাছে? এদিকে আমার মনে ভয় হয় যে আমি বাংলাদেশ চলে গেলে ওই লোকটা কি আমার জন্য আসবে, আমার পরিবারের সামনে দাঁড়াবে? এই বিয়ের ব্যাপারেই বা কী সিদ্ধান্ত নিব আমি? সব মিলিয়ে প্রচণ্ড চিন্তায় আছি।

পরামর্শ:

আপু, আপনার সম্পূর্ণ কাহিনীটি আমি মন দিয়ে পড়েছি। একবার না, বেশ কয়েকবার পড়েছি। প্রথমত, ভালো করে দেখে শুনে বিয়ে না করে আপনি নিজের মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলেছেন। আর অনেক বড় একটি ভুল করেছেন একজনের স্ত্রী থাকা অবস্থায় তাঁরই বন্ধুর সাথে পরকীয়া করে । বন্ধুর সাথে প্রেমটা যখন হয়েই গেল, আপনার তখন উচিত ছিল যে কোন একটি সম্পর্ককে বেছে নেয়া। এতে অন্তত আপনার জীবনে ঝামেলা কিছু কম হতো।

আমি আপনাকে এখন সেই পরামর্শই দিব, আপনার স্থানে আমি হলে যা করতাম। প্রথমত, নিজের পছন্দে বিয়ে করতে গিয়ে আপনি বেশ বড় রকমের ভুল করেছেন। তাই এখন উচিত হবে পরিবারের কথা শোনা। আপনার যদি বাংলাদেশে আসতে ক্যারিয়ার বা অন্য কোন কিছুর সমস্যা না হয়, তাহলে পরিবারের কাছে ফিরে আসুন, অন্তত সাময়িক ভাবে হলেও। নিজের পরিবারের কাছে কিছুদিন থাকলে আপনার চিন্তা ভাবনা অনেক পরিষ্কার হয়ে আসবে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, প্রেমিকের কথা ভুলে গিয়ে কেবল স্বামীর কথাই ভাবুন আগে। যে লোকটি আপনাকে মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন করে, তাঁর সাথে সম্পর্ক না রাখাই শ্রেয়। এই সম্পর্ক কখনো আপনাকে সুখ দেবে না। দিন দিন নির্যাতনের পরিমাণ বাড়বে। আমি আপনার অবস্থায় হলে অবশ্যই ডিভোর্স নিতাম।

আর শেষ কথা এই যে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য এখনই বেশি উতলা হবেন না যেন। যে লোকটির সাথে সম্পর্ক হয়েছে, তাকে আগে ভালো ভাবে জেনে ও বুঝে নিন। তিনি যদি সত্যি আপনাকে ভালোবেসে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই বাংলাদেশে আসবেন। আপনি দেখুন তিনি আপনাকে আসলেই চান কিনা। খুব ভেবে চিন্তে অগ্রসর হবেন আপু। মানুষ চিনতে ভুল করার মাসুল অনেক বড় দিতে হয়। আপনি আসলেই খুব জটিল অবস্থায় আছেন। আপনার জন্য শুভকামনা।প্রিয়.কম