মেইন ম্যেনু

স্বাস্থ্যসম্মত ভাত রান্নার নতুন পদ্ধতি

বাঙালিদের প্রধান খাদ্য ভাত। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি একটি প্রধান খাবার।

যদিও এই বহুমুখী গুণের অধিকারী শস্যটি সস্তা এবং সহজে রান্না করা যায়, কিন্তু এটির অনেক বড় একটি ক্ষতিকর দিকও সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে যা স্বাস্থের জন্য অনেক ক্ষতিকর। আর তা হলো রান্না করা এক কাপ ভাতে প্রায় ২৪০ কঠিন ক্যালোরি থাকে, যা কিনা দ্রুত চর্বিতে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে।

আর তাই শ্রীলঙ্কান গবেষকরা নতুন এবং সহজভাবে ভাত রান্নার একটি উপায় আবিষ্কার করেছেন, যা কিনা নাটকীয়ভাবে ভাতের ক্যালোরি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ফেলতে পারবে।

শ্রীলঙ্কার রাসায়নিক বিজ্ঞান কলেজের স্নাতক পর্যায়ের রসায়ন বিজ্ঞানের ছাত্র সোদেয়্যার জেমস, যে তার সুপারভাইজারের সঙ্গে এই গবেষণাটির নেতৃত্বে দিচ্ছেন, এক ব্যাখ্যায় বলেন, এই পদ্ধতিতে ভাত রান্না করতে আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, প্রথমে একটি পানি ফুটানোর পাত্র নিতে হবে। সেই পাত্রে চাল ঢালার পূর্বে এর সঙ্গে নারিকেল তেল যুক্ত করতে হবে। চালের ওজনের প্রায় ৩ শতাংশ নারিকেল তেল আগেই পাত্রে ঢেলে নিতে হবে।

এরপর সাধারণ পদ্ধতিতে রান্না করে ভাতকে প্রায় ১২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে শীতল করতে হবে। ব্যাস, স্বাস্থ্যসম্মত ভাত প্রস্তুত হয়ে গেল। আর এক্ষেত্রে ঠান্ডা ভাতটাই খাওয়া লাগবে না। বরঞ্চ তা আবার গরম করে খেলেও ক্যালোরি সম্পূর্ণ বৃদ্ধি পায় না।

ফুটন্ত পানিতে চাল দেওয়ার আগে নারিকেল তেল যোগ করা এবং রান্নার পর পরই একে শীতল করে ফেলায় এর ক্যালোরি কমে আসে প্রায় অর্ধেক। সোদেয়্যার জেমস গবেষণায় নারিকেল তেল ব্যবহার করেন কারণ শ্রীলংকায় তা সর্বত্রই রান্নায় ব্যবহার করা হয়। এই তেল চালের সঙ্গে বিক্রিয়ায় এর ক্যালোরি কম রাখে।

গবেষকরা বর্তমানে অন্যান্য ধরনের তেল যেমন সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। এছাড়া রুটি, আলুসহ অন্যান্য শর্করা জাতীয় খাবারেও ক্যালোরি কমানো যায় কিনা তাও পরীক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন।