মেইন ম্যেনু

‘স্বৈরশাসক’ বাবার সফরসঙ্গি ছেলে

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বেলারুশ প্রেসিডেন্টের লুকাশেঙ্কো সফরসঙ্গী ছিলেন এমন একজন যিনি উপস্থিত সবাইকে বিস্ময়ে তাক করে দিয়েছিলেন। বিশ্বের সব বড় বড় রাষ্ট্রনায়কদের মাঝখানে স্যুটপড়া পুরোদস্তুর ভদ্রমানুষটি হলেন ১১ বছরের একজন কিশোর। অবাক বিস্ময়ে সবার চোখ তো ছানাবড়া হওয়ারই কথা। সেই কিশোর আর কেউ না। সে বেলারুশ প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো ছেলে কোলিয়া।

কোলিয়া সোমবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরের অভ্যর্থনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার সঙ্গেও ক্যামেরাবন্দী হয়। সে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ মিলিনায়তনে বিশ্বনেতৃবৃন্দের সাথে দেখা করে।

জানা গেছে কোলিয়া প্রায়ই বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজেও তার বাবার সঙ্গে থাকে। গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট যখন চীনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছিল। সেখানে এক কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপেংসহ কয়েকজন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক সারিতে দাঁড়িয়ে ক্যামেরাবন্দীও হন।

বেলারুশের রাজনীতিক ব্যক্তিরা ধারণা করছেন, প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো তার ছেলেকে সঠিক শিক্ষা প্রদান এখন থেকেই শুরু করেছেন যাতে সে তার বাবার একজন যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। প্রেসিডেন্ট অবশ্য ২০১২ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই মতের বিপক্ষে অবস্থান করে বলেন, ‘কোলিয়া আমার প্রতি এতটাই আকৃষ্ট যে এমনকি আমাকে ছাড়া ঘুমাতে যেতেও চায় না। আমি একই সাথে তার পিতা এবং একজন ভালো বন্ধু’।

চার পাঁচ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ভ্রমণে সে তার বাবার সঙ্গে থাকা শুরু করেছে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে সে বাবার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে শেখ জায়েদ মসজিদ ভ্রমণ করে।

এত অল্প বয়সেই তার ভ্রমন তালিকা বেশ লম্বা কিন্তু অনেক সমালোচক মনে করেন এর প্রভাব তার শিক্ষা জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। বেলারুশের এক টেলিভিশন চ্যানেল প্রচার করেছিল এবছর কোলিয়া বাবার সঙ্গে ভ্রমণে বের হওয়ার ফলে সে সপ্তাহখানেক স্কুলে অনুপস্থিত ছিল। এছাড়াও ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট ছয় মাসের মত স্কুলে অনুপস্থিত ছিল সে।

প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখায় ইতোমধ্যে বেশ সমালোচিত হয়েছেন। ২০০৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তাকে ‘ইউরোপের সর্বশেষ স্বৈরশাসক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।কোলিয়া প্রেসিডেন্টের তিন ছেলের মধ্যে সবার ছোট।