মেইন ম্যেনু

স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধিতে কমছে গরিলার সংখ্যা!

নতুন প্রজন্মের হাতে দিন দিন বাড়ছে স্মার্টফোনের সংখ্যা। আর সেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে কমছে বিশ্বের বৃহত্তম গরিলা প্রজাতি গ্রোয়ার্স গরিলাদের সংখ্যা। বিষয়টি আশ্চর্যজনক মনে হলেও সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে তাই বলা হচ্ছে। মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যের উত্পাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিপদে পড়ছে ওই প্রজাতির গরিলারা।

প্রশ্ন হচ্ছে, কিভাবে। হিসেবটা খুব সহজ। সেলফোন ও ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যের অন্যতম কাঁচামাল হচ্ছে ‘কোল্টন’। এর চাহিদা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে বেআইনি খনন কাজ। মানুষের লোভী হাত গিয়ে পৌঁছেছে কঙ্গোর জঙ্গলঘেরা প্রত্যন্ত সব খনিতে। আর সেই এলাকাগুলোতেই বাস করে বিশ্বের বৃহত্তম ওই গরিলারা। প্রত্যন্ত ওই এলাকায় খাবারের প্রয়োজন মেটাতে চোরাকারবারিরা বিনা বিচারে নিধন করছে গরিলা।

বন্যপ্রাণিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি’ (ডব্লিউসিএস) ও ‘ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা ইন্টারন্যাশনাল‘র সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, গত দুই দশকে ৪০০ পাউন্ড ওজনের এই গরিলার সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। ১৯৯৫ সালে এই প্রজাতির গরিলার সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার, যা এখন কমে হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৮০০।

প্রতিবেদেনে বলা হয়, ‘গ্রোয়ার্স গোরিলার সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ কোল্টন ও অন্যান্য খনিজের বেআইনি খনন বৃদ্ধি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সব বেআইনি খনন হয় প্রত্যন্ত এলাকায়। আর সে সব জায়গায় বন্যজীবই খননকারীদের খাবারের মূল উত্স। আইন করে গরিলা হত্যা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও এদের বিশাল আকৃতির জন্য বনজঙ্গলে খাবারের উত্‍‌স হিসেবে গ্রোয়ার্স গরিলা খুবই জনপ্রিয়। তাছাড়া এর দল বেধে জঙ্গলের খুব কাছাকাছি এলাকায় ঘোরাফেরা করে বলে এদের খোঁজ পাওয়া ও মেরে ফেলা সহজ।’

জরিপে বনরক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেনটি প্রকাশ করা হয়েছে। আপাতত তিনটি এলাকায় বৃহত্তম গরিলার এই প্রজাতির দেখা মেলে- কাহুজি-বেগা জাতীয় উদ্যান, পুনিয়া গরিলা সংরক্ষণকেন্দ্রের সাথে লাগোয়া রাওয়ান্দান সীমানায় ও উসালা বনে। এসব বন কঙ্গোর প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এবং অরক্ষিত। বিশেষজ্ঞদের দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এই প্রজাতিটিকে ‘অতি সঙ্কটাপন্ন’ হিসেবে ঘোষণা করার সময় এসেছে।

নিধন ঠেকানোর উপায় হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রোয়ার্স গরিলার নিধন ঠেকাতে বেআইনি খনন বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। আর তা যদি না হয়, তবে চোরাচালানকারীদের কাছে অন্তত অস্ত্র যাতে না পৌঁছায়, সে ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সমাজকর্মী ও ভোক্তাদের কাছে বিশেষজ্ঞদের অনুরোধ, ‘আপনারা সেলফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির কাছে দাবি করুন, যাতে বৈধ খনি ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে খনিজ সংগ্রহ করা না হয়। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকায় চোরাচালানকারীদের উপদ্রব কমবে, আর মাংসের জন্য গরিলা নিধনও বন্ধ হবে।’



« (পূর্বের সংবাদ)