মেইন ম্যেনু

স্যার বলেন, তুমি তো আল্লার ওলি হয়ে গেছ

প্রমাণাদি হাজির করার ঘোষণা দিয়ে দু’দিন আগে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেছিলেন সেলিম ওসমান। বৃহস্পতিবার সেই সংবাদ সম্মেলন করলেন কিন্তু কোনো প্রমাণাদি হাজির করলেন না।

তবে সেদিনের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করার ঘটনা নিয়ে চমকপ্রদ কিছু কথা বলেছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে অনেক প্রমাণদি ছিল। সেগুলো আমি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলাম। আমার দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশে সেই সংবাদ সম্মেলন করতে বিরত হই। এরশাদ স্যারকে আমি কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেলিম তো আল্লার ওলি হয়ে গেছ! দেশের কোটি কোটি মানুষ তোমার জন্য দোয়া করছে। সংবাদ সম্মেলন করে কী হবে। তোমার জন্য মানুষ দুই হাত তুলছে। তোমার সঙ্গে দেশের মানুষ আছে, তোমার সঙ্গে আমি আছি, জাতীয় পার্টি আছে, আল্লা আছে। তুমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আছো, থাকো। এখন এসব নিয়ে কথা বলতে যেও না।’

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, ‘১৩ মে রাতে আমার থাইল্যান্ড যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেতে পারি নাই। আমার ওষুধ শেষ, মেডিক্যাল চেকআপ করানো প্রয়োজন, করতে পারছি না। আমি জমজমের পানি খেয়ে ওষুধের কাজ চালাচ্ছি। যতদিন পর্যন্ত বন্দরের ঘটনার পরিপূর্ণ সুরাহা না হবে ততদিন পর্যন্ত আমি জমজমের পানি খেয়েই ওষুধের কাজটি চালাবো।’

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত লাঞ্ছনার ঘটনায় নিজের অবস্থানের বিষয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি সেলিম ওসমান এ কথা বলেন। সভায় একটানা বক্তব্য দেন তিনি। শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায়।

সভায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী সমাজ, সর্বদলীয় রাজনৈতিক নেতা, শ্রমিক নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবী পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতি, নারায়ণগঞ্জ মহিলা সংস্থা ও নারী নেত্রী, নারায়ণগঞ্জ শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি এবং শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণপিটুনি দেয়ার পর কান ধরে উঠবস করান এমপি সেলিম ওসমান।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ১৯ মে সংবাদ সম্মেলন করেন সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি কার কাছে ক্ষমা চাইব, যিনি আল্লাহকে কটূক্তি করেছেন? তবে আমি লজ্জিত এবং সমাজের কাছে দুঃখিত যে তারা এমন একটি ভিডিও দেখেছেন যাতে তারা আমাকে ভুল বুঝেছেন।

এরপর ২০ মে নারায়ণগঞ্জ হেফাজতে ইসলাম সেলিম ওসমানের পক্ষে ওই ‘নাস্তিক’ শিক্ষকের বিচার দাবিতে সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। তাকে নিয়ে ইসলামি গানও বাঁধেন তারা। কিন্তু ডেডলাইন শেষ হওয়ার পরই অবস্থান থেকে সরে যায় হেফাজত। তারা সরকারের তদন্তের ওপরই আস্থা রাখেন।