মেইন ম্যেনু

স্যোসাল মিডিয়ার শক্তি ও ইতিবাচক ভূমিকা আবারো প্রামান হল

গতকাল আরফুনা আরু (Arfuna Aru) নামক এক আপু থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যংককে গিয়ে দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের শিকার হন। দূর্বত্ত তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় যেখানে তার সমস্ত অর্থ ও পাসপোর্ট, টিকেট, ভিসা ছিল। ৫ বছরের মেয়েকে নিয়ে তিনি পড়লেন অথৈ সাগরে। দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তার শখ। কিন্তু এক মূহূর্তেই সে শখ পরিনত হল এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। সারাদিন তার মেয়েটি ছিল না খেয়ে।

আজ ২৭ শে মার্চ রিজেন্ট এয়ারে দেশে ফেরার কথা। কিন্তু এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন তো তাকে ছাড়বে না পাসপোর্ট ছাড়া। ওদিকে রিজেন্ট এয়ায় টিকেটের তারিখ পেছানোর জন্য দাবী করল ১২৫০০ টাকা। মাত্র ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত বাংলাদেশ এ্যাম্বাসিতে ফোন দিলেন সাহায্য চেয়ে। তারা সাফ জানিয়ে দিলেন সেদিন তাদের পক্ষে কোনরকম সাহায্য করা সম্ভব না। উনি বুদ্ধি করে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল সরকারী দপ্তুরের ফেসবুক পেইজ Magistrates, All Airports of Bangladesh এ একটা ম্যাসেজ দিলেন।

করিৎকর্মা ম্যাজিস্ট্রেট সেটা পেইজে পোস্ট দিয়ে মানুষের সহযোগীতা চাইলেন। প্রথমে তারা দূতাবাসে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যান্য দূতাবাসগুলোর মত অথর্ব দূতাবাস কর্মকর্তারা তাদের উন্নাসিক মানসিকিতা নিয়ে ঐদিন সহযোগীতা করতে না চাওয়ায় সাধারন মানুষ নানা প্রান্ত থেকে সহযোগীতার দ্বার প্রশস্ত করেন।

আমি প্রথমে সাধারন একজন নাগরিকের বিদেশে বিপদ ও দূতাবাসের অসহযোগীতা নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম ক্ষুব্ধ হয়ে। এরপর যখন দেখলাম আরফুনা আপু আমার শ্রদ্ধাভাজন আজিজ স্যারের ( আজিজুর রহমান আজিজ ) ফ্রেন্ড লিস্টে আছে ও আমার খুব কাছের মানুষ সময়ের কণ্ঠস্বর পত্রিকার সম্পাদক ( আহমেদ তৌফিক ) ভাইয়ের বন্ধু তখন তাদের ২ জনকে বিষয়টি জানালাম। তৌফিক ভাই তো রীতিমত অবাক হলেন তার কাছের বান্ধবীর এ বিপদের কথা শুনে। তৌফিক ভাই পারিবারিক চ্যানেলে প্রচেষ্টা চালিয়ে তার আর্থিক সমস্যার সমাধানে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। অন্যদিকে আজিজুর রহমান আজিজ স্যার তার মানুষকে সাহায্য করার চিরাচরিত অভ্যাসের কারনে উদ্যোগী হলেন সরকারীভাবে দূতাবাসকে সক্রিয় করতে। উনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব স্যারের মাধ্যমে পররাষ্ট্র সচিব স্যারকে দিয়ে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাননীয় রাষ্ট্রদূতকে সক্রিয় করার ব্যবস্থা নিলেন।

এই উদ্যোগের পাশাপাশি আরফুনা আপুর অন্যান্য স্বজন, বন্ধু, সাধারন মানবিক মানুষ সবাই মিলে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি আপাতত তার বিপদে দিশা পেয়েছেন।

আমরা যতটুকু নিশ্চিত হতে পেরেছি..বিষয়টি HE এম্বাসেডর নিজেই টেক কেয়ার করছেন এবং সকাল ৯ টার মধ্যে একজন অফিসার কর্তৃক হোটেল ভিজিটসহ বন্ধের দিন হওয়া সত্ত্বেও Travel Document ইস্যুর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা পুর্বনির্ধারিত ফ্লাইটেই আজ (২৭/৩/১৬) দেশে ফিরতে পারেন।

সোস্যাল মিডিয়ার এই কার্যকরী ব্যবহারে জনগনের উপকারের সর্বাধিক কৃতিত্ব ও প্রশংসা পাবেন Magistrates, All Airports of Bangladesh এর দুজন সুযোগ্য বঙ্গসন্তান।

তবে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। কেন এভাবে দূতাবাসকে সক্রিয় করতে হবে ? কেন বাংলাদেশের নাগরিক বিদেশের মাটিতে বিপদে পড়ে দূতাবাসের স্বয়ংক্রিয় সহযোগীতা পাবে না ? কেন বিদেশে কর্মরত আমাদের দেশের সোনার ছেলেদের সঙ্গে দূতাবাসের লোকজন অশোভন আচরন করবে ? কেন দিনের পর দিন দূতাবাসগুলো মানুষের অভিযোগ, অসন্তুষ্টি, অভিশাপ বয়ে বেড়াবে ? এর কি স্থায়ী কোন সমাধান নেই ?

[অবশেষে আরফুনা আরু পূর্বনিধারিত ফ্লাইটে একটু আগে (বিকাল ৫টায়) নিরাপদে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। ইস্টার-সানডে’র বন্ধের মধ্যেও এম্বেসী বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁর ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করে পূর্বের ফ্লাইটেই আসা নিশ্চিত করেছেন।

বিপদটা হয়তো ছোট এবং সাময়িক ছিল। কিন্তু বিদেশ-বিভুঁইয়ে অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির কারণে অনেক ছোট বিপদও বড় হয়ে দাঁড়ায়.. যাতে না পড়লে বোঝা দায়।

আরফুনা আরু এবং তাঁর ছোট্ট শিশুটির পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ এবং আমাদের পক্ষ থেকে অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা। লেট’স ইউজ ফেসবুক ফর এ বেটার কজ]