মেইন ম্যেনু

হইলাম এখন গ্রামীণ স্টার!

চ্যানেল খুললেই কতো শত স্টারদের চেহারা দেখা যায়। কেউ চ্যানেল আই গানের স্টার, কেউ আবার লাক্স সুন্দরী স্টার, কেউবা ভিট স্টার; এমন দিন যখন চলতেসে তখন আমার মোবাইলে লেখা ফুটে উঠলো-’আপনি এখন গ্রামীণ স্টার’। আমার তো গর্বে পা মাটিতে পড়ে না পড়ে না অবস্থা, কতো বড় বড় শপিং সেন্টার আমার জন্য ছাড়পত্র গলায় নিয়ে ঝুলতেসে; যদিও আজো সেইসব সেন্টারে আমি যাওয়ার টাইম পাই নাই। খালি ৫০০ করে টাকা ভরি, আর দুই দিন না যাইতেই হাওয়ায় মিলায় যায় মোবাইলের ব্যালেন্স। কেউ আবার ভেবে বইসেন না যে-এই বয়সে আমি ফোনের মধ্যে রাত বিরাইতে ’কাছে এসো কাছে এসো’ গল্পে মশগুল হই। সত্যি কথা বলতে কি আমি এতো বেশি নেটে থাকি যে ফোন করার প্রয়োজনই হয় না।বাসায় ওয়াই ফাই তো আছেই; যারে ছাড়া দুনিয়া অচল। আর ট্রাফিক জ্যামের সঙ্গী হবার জন্যে ১ জিবি ২৮ দিনের জন্য এই ছোট্ট যন্ত্রে ভরাই থাকে। তাহলে ওই পাঁচশো টাকা যায় কই? কই যায় তা আমি নিজেও জানিনা।

কল করার সাথে সাথেই টপ করে লাইন কেটে যায়, এর নাম নাকি কল ড্রপ।তারপর আবার এসএমএস আসে। আবার ডায়াল করি, দুই মিনিটের কথায় কল কাটে তিন বার। আকাশের দিকে তাকায় দেখি-আমি টাওয়ারের নীচেই আছি, কোন ভূমধ্যসাগরে না। তাইলে এতো ড্রপ কেন? এর উত্তর জানার জন্যে বহুবার গ্রামীণের কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করে-আমি তাদের খুবই সন্মানিত গ্রাহক, কেবল তাদের সুরেলা কন্ঠি বলেই যাচ্ছে- ’আর একটু অপেক্ষা করুন’। কিন্তু সেই অপেক্ষা আমার কোন দিন শেষ হয় না। কাজের চাপে ভুলে যাই অপেক্ষায় থাকার কথা। অসম্ভবকে সম্ভব করাতো আমার কাজ না, ব্যালেন্স শেষ হয়ে যায়, কেয়ার আর কেউ করে না।

বাচ্চা একটা মেয়ের বোয়ামে কথা জমানোর নাটক দেইখা নিজের চোখের জল আটকাইতে পারিনা।বড় বেশি আবেগি হইয়া উঠি, নিজের তিন বছরের মেয়ের এই রকম একটা ভিডু কইরা আপলুড দিতে বসলাম। সকাল সাড়ে দশটা বাজে , গোল্লা ঘুরতাসে তো ঘুরতাসে। দুপুর শেষ হইয়া বিকাল। অফিস শেষ, এখন ভাবলাম -মোবাইলের মধ্য দিয়ে বুঝি পুরো পৃথিবী জাইনা গেসে আমার মেয়ের আবেগি কথামালা। অনেক আগ্রহে স্ক্রীনে হাত রাখলাম- হইছে, তবে ৩% । আমি এই তিন পার্সেন্ট ভিডু নিয়া কী করবো, বুঝতে পারতেসিলাম না। যাদের ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে কৃষান কৃষানীর হাতে তাদের স্পীডের এমনতর অবস্থায় আমি ব্যথিত …বিস্মিত।

তবু দিন যায় কথা থাকে।কথা কেউ আটকাতে পারবে না।আমাকে কথা বলতেই হবে।ব্যাংক ,পাসপোর্ট ,পত্রিকা,অফিস, বাসা,বন্ধু,সব জায়গায় আমার স্টার নম্বর জ্বল জ্বল করে সেই আদিম লগ্ন থেকেই।আমি বদলে যাবো ,তবু যেন নম্বর বদলাবে না।তাই আমি জিম্মি হতে থাকি প্রতি মুহূর্তে, প্রতিক্ষণ।

পত্রিকায় এদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির খবর প্রকাশিত হয়। আমি পড়ি, আমরা সবাই পড়ি। সবাই জানি কিভাবে এই একটি কোম্পানি অদৃশ্য চাপাতির কোপে আমাদের সবার পকেট খালি করে দিচ্ছে। কি সরকার, কিবা বিটি আরসি, কি আইন -কারোই যেন কিছুই করার নাই। চোর চুরি করবে, ছিনতাইকারির কাজ গলা কাটা, এটাই এখন স্বাভাবিক।

কি এক কুক্ষনে আজকে বিডিনিউজের সাবক্রাইভার হবার জন্যে( ৪+৭ =) হিসেব মিলাতে গেসিলাম। এই অংক তো আমার মেয়েও জানে। আর এই অঙ্কের সঠিক উত্তর দিয়েই খাইলাম ধরা। একটু পর পর ম্যাসেজ আসে আর টাকা গিলে খায়। কত সংবাদে কয় টাকা খায় তা বের করার কোন পন্থা নাই। বন্ধ করার জন্য লিখলাম স্টপ, কিন্তু জিপি তা আমলেই নিল না। আমাকে ওটা বন্ধ করতে হলে হয়তো আরো একটা অংক কষতে হবে। উফ! এক জীবনে এতো অংকের হিসেব কষতে আর ভালো লাগে না। এই জটিল অংক থেকে রেহাই পাবো কেমনে?