মেইন ম্যেনু

বাদ পড়া হজযাত্রীদের হাহাকার

হজক্যাম্পে অবরুদ্ধ ধর্ম সচিব

রবিবার রাতে শেষ হচ্ছে হজে গমনেচ্ছুদের নির্ধারিত হজ ফ্লাইট। তবে সোমবারও কয়েকটি অতিরিক্ত ফ্লাইট রেডি করে রাখা হয়েছে। কিন্তু, সময় শেষ হয়ে এলেও এখনো ভিসা পাননি শতশত হজযাত্রী। আবার অনেকে ভিসা পেলেও বিমানের টিকেট পাননি। দিনের পর দিন রাজধানীর উত্তরার আশকোনায় হজক্যাম্পে অবস্থান করেও মিলছে না হজে যাওয়ার নিশ্চয়তা। পুরো হজক্যাম্প জুড়ে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হাহাকার।

অন্যদিকে এসব বিক্ষুব্ধ হজযাত্রী ও তাদের স্বজনরা রবিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেলে পৌনে চারটা পর্যন্ত হজক্যাম্পের পরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামালের কক্ষে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

বঞ্চিত এসব হজযাত্রীর কারও ভিসা হলেও বিমানের টিকেট হয়নি। আবার কেউ কেউ দিনের পর দিন হজক্যাম্পে দিনযাপন করলেও তাদের ভিসা মিলছে না।

সরেজমিনে রবিবার দুপুরে হজক্যাম্পে ঘুরে এসব চিত্র চোখে পড়ে। মূলত সৌদি সরকারের দেওয়া এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জনের কোটার বাইরে অতিরিক্ত যে ৫ হাজার জনের হজ করার অনুমতি মিলেছে তাদের নিয়েই এই সংকট দেখা দিয়েছে।

হজক্যাম্পে কথা হয় আশি ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ সাতক্ষীরার আফসার আলী সরদারের সঙ্গে। তার সঙ্গে ছোট ভাই মোতালেব আলীও (৭৫) পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে টাকা জমা দিয়েছেন।

বয়ঃবৃদ্ধ আফসার আলী সরদার বলেন, আগে সামর্থ ছিল না। তাই শেষ বয়সে আল্লাহর ঘর জিয়ারত করতে চাইছিলাম। কিন্তু, আল্লাহ আমাকে কবুল করবেন কিনা জানি না। হুমায়ুন কবির (স্থানীয় দালাল) গত ১৬ সেপ্টেম্বর আামাদের হজ ক্যাম্পে নিয়ে এসেছে। বলেছিল বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আমাদের হজ ফ্লাইট। কিন্তু, সেদিন নেয়নি। এরপর এখন শুধু সময়ক্ষেপন করছে। সকালে ফ্লাইট হবে, বিকেলে হবে বলছে। অথচ আমাদের এখন পর্যন্ত ভিসাই হয়নি।

একই দালালের মাধ্যমে হজ ক্যাম্পে এসেছেন, যশোরের ঝিকরগাছার বয়ঃবৃদ্ধ মো. নাসির উদ্দিন ও তার বোন মমতাজ বেগম। তাদেরও গত বৃহস্পতিবার ফ্লাইটের কথা বলে ক্যাম্পে এনেছেন হুমায়ন কবির। একইভাবে সেখানে কথা হয় সাতক্ষীরার আতিয়ার রহমান, সেলিনা বেগম ও তার স্বামী ইয়াসিন আলী মাস্টারের সঙ্গে। তারা কেউই ভিসা পাননি।

এ ব্যাপারে মুয়াল্লেম (দালাল) হুমায়ন কবির বলেন, আমি যাদের নিয়ে এসেছিলাম তাদের কারো কারো ভিসা হয়েছে। আবার কারো হয়নি। বাকিদের হয়ে যাবে বলে আমাকে ফারুক ট্রাভেলসের মালিক বলেছেন।

এই হজযাত্রীরা কি ফারুক ট্রাভেলসের মাধ্যমে যাচ্ছে? জানতে চাইলে তিনি হাঁ সূচক জবাব দেন।

এ ব্যাপারে ফারুক ট্রাভেলসের স্বত্তাধিকারী ফারুক আহমেদ বলেন, অতিরিক্ত কোটা থেকে আমাকে ৭০ জনের কোটা দেওয়া হয়েছিল হাবের পক্ষ থেকে। এখন পর্যন্ত আমার ৩৩ জনের ভিসা সম্পন্ন হয়েছে। বাকিদেরও হবে বলে আশা করি।

এদিকে ধর্ম মসচিবের কাছে হজে যাওয়ার আকুতি নিয়ে শতাধিক মানুষ হজ পরিচালকের কাছে তিনি বিক্ষুব্ধদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। সব দায় দায়িত্ব হাবের (হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন)। আপনারা হাব’র কাছে যান, তা না হলে মন্ত্রীকে (ধর্মমন্ত্রী) বলেন। কারণ অতিরিক্ত এই ৫ হাজার কোটার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হাব নেতারা নিয়েছেন। আর মন্ত্রীই তাদের এই দায়িত্ব দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে হাবের মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘হজে যাওয়া নিয়ে একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি এটা সমাধান করতে।’ দ্য রিপোর্ট।