মেইন ম্যেনু

হজ এজেন্সির নাম ব্যবহার করে প্রতারণা

রাজধানী ঢাকার নয়া পল্টনের কওমি ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস-এর নাম ব্যবহার করে কয়েকজন হজগমনেচ্ছুর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এই অভিযোগ এনে ভুক্তভোগীরা কওমি ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরসের ভুয়া মালিক খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে নিউমার্কেট ও তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডিতে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন, টাকা ফেরত চাওয়ায় খলিলুর রহমান তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।

হজপ্রত্যাশী মাদারীপুরের নূরজাহান বেগম, বরিশালের উজিরপুরের সেকান্দার আলী, দিলরুবা বেগম ও রাজধানী ঢাকার তেজকুনিপাড়ার তোফাজ্জল হোসেনের কাছ থেকে ভুয়া মালিক সেজে খলিলুর রহমান ১০ লাখ টাকার উপরে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে হজের ভিসা না পাওয়ায় নূরজাহান বেগমের ছেলে সোহেল আহমেদ টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে নিউমার্কেট থানায় জিডি করেন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার মা মিসেস নূরজাহান বেগমকে চলতি মৌসুমে হজে যাওয়ার জন্য খলিলুর রহমান তাদের কাছ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেন। যা ইসলামী ব্যাংক এলিফ্যান্ট রোড শাখার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে- খলিলুর রহমানের বাবার নাম দেনায়েতুল্যা সরকার। তার গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার শুকাস গ্রামে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শুধু নূরজাহান বেগম নয়, তার মতো আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন যারা ভুয়া মালিক খলিলুর রহমানের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সেকান্দার আলী, দিলরুবা বেগম ও তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া হজের টাকা জমা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। তারা তেজগাঁও থানায় জিডি করেছেন। জিডিগুলো ১ সেপ্টেম্বর করা হয় দু’থানাতেই।

সেকান্দার আলী জানান, তাকেও হজে পাঠানোর কথা বলে ২ লাখ ২০ হাজার হাতিয়ে নিয়েছে ওই খলিলুর রহমান।

প্রতারিত হওয়া ব্যক্তিরা জানান, খলিলুর রহমানের দেওয়া কওমি ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস এর কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. ওসমান গণিকে দেখালে তিনি বলেন, খলিলুর রহমান তাদের প্যাড ব্যবহার করে প্রতারণা করেছেন।

এ ব্যাপারে এই প্রতিবেদক কওমি ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরসের আসল মালিক ওসমান গনির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন।

তাকে না পাওয়া গেলেও পেয়ে তার প্রতিষ্ঠানের স্টাফ পরিচয়দানকারী আনিসুর রহমান নামে একজন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে খলিলুর রহমান প্রতারণা করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া প্রেস উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে এবং যেসব থানায় জিডি হয়েছে- সেই থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। তারা এসব প্রতারকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।-পরিবর্তন