মেইন ম্যেনু

হজ ব্যবস্থাপনায় দোভাষী সংকট

দেশে হজ গমনেচ্ছু ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সাত বছরে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি নারী-পুরুষ ও শিশু পবিত্র হজ পালন করতে সৌদিআরব গেছেন। ২০০৯ সালে হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ২শ’ ২০ জন, আর ২০১৫ সালে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৫শ’ ৫০ জনে দাঁড়ায়। তবে প্রতি বছর হজকে কেন্দ্র কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করলেও সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনায় এখনো দোভাষীর তীব্র সংকট রয়েই গেছে।

জানা গেছে, চলতি বছর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে লক্ষাধিক মানুষ হজে যাবেন। সরকারি ও বেসরকারিভাবে হজে যাওয়ার জন্য এবার দুই ধরনের প্যাকেজ (৩ লাখ ৪ হাজার ও ৩ লাখ ৬০ হাজার) ঘোষণা করা হয়েছে। হজ পালনের খরচ (বিমানভাড়া, থাকা-খাওয়াসহ আনুষাঙ্গিক খরচ) আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেলেও হজ গমনেচ্ছুর সংখ্যা বেড়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়, একাধিক হজ এজেন্সি ও একাধিবার হজ পালন করেছেন এমন হাজি পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতি বছর হজকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হলেও সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনায় এখনো দোভাষীর তীব্র সংকট রয়েই গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লক্ষাধিক হাজির হজ ব্যবস্থাপনায় ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৩৫ সদস্যের প্রশাসনিক দল পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে প্রশাসনিক দলের সদস্যে হিসেবে অর্ন্তভুক্ত হন। হজ চলাকালিন সময়ে প্রশাসনিক দলের সদস্যরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে হাজিদের দেখভাল করে থাকেন। প্রশাসনিক দল ছাড়াও মেডিকেল টিমের সদস্য হিসেবে ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্টসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সৌদিআরব যান।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবে নির্বিঘ্নে চলাচল ও যোগাযোগের জন্য আরবি ভাষা জানা থাকা অত্যাবশ্যক। কিন্তু ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রশাসনিক কিংবা মেডিকেল টিমের সদস্য হিসেবে যারা যান তাদের মধ্যে কয়েকজন ছাড়া সিংহভাগ সদস্যই আরবি ভাষা জানেন না। ফলে হজ চলাকালিন সময়ে হাজিদের নানা দুর্ভোগ লাঘবে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়।

প্রতি বছর হজ শেষে সার্বিক মূল্যায়নে দোভাষীর সংকটের বিষয়টি আলোচিত হলেও রহস্যজনক কারণে এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, গত সাত বছরে বাংলাদেশ থেকে মোট ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৬শ’ ৯৯ জন হাজি পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব গিয়েছেন। তন্মধ্যে ২০০৯ সালে ৫৫ হাজার ৮শ’ ২০ জন, ২০১০ সালে ৯৯ হাজার ২১ জন, ২০১১ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৬শ’ ১৭ জন, ২০১২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯শ’ ৫২ জন, ২০১৩ সালে ৮৭ হাজার ১শ’ ৫৬ জন, ২০১৪ সালে ৯৭ হাজার ১শ’ ৮২ জন এবং ২০১৫ সালে ১ লাখ ৬ হাজার ৫শ’ ৫০ জন পবিত্র হজ পালন করেন।

এদিকে, বাংলাদেশ থেকে হজ পালনে যত হাজি যান তাদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি হজযাত্রী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অর্থাৎ বিভিন্ন হজ এজেন্সির মাধ্যমে গিয়ে থাকেন। সরকারি ব্যবস্থাপনার ন্যায় বেসরকারি বিভিন্ন হজ এজেন্সিতেও দোভাষীর সংকট তীব্র রয়েছে বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হজ কার্যক্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একাধিক সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠুভাবে হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষিত দোভাষী তৈরি করা প্রয়োজন। দোভাষীর সংখ্যা যত বাড়বে হাজিদের হজ করা তত সহজ হবে। জাগো নিউজ