মেইন ম্যেনু

হঠাৎ বন্ধ আশুলিয়া থানার চেকপোষ্ট : আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা

টিপু সুলতান (রবিন), সাভার প্রতিনিধি : আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ যে কোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডরোধে সড়কটির বাড়ইপাড়া ও ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এলাকায় বসানো হয় পুলিশের চেক পোষ্ট। তবে গত কয়েক দিন ধরে চেক পোষ্ট দু’টির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যার ফলে সড়কটি ব্যবহারকারীরা রয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। তবে পুলিশ বলছে থানায় জনবল সংকট থাকায় চেক পোষ্ট দু’টির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাড়ইপাড়া এনার্জি প্যাক কারখানার সামনে ও ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের সামনে থাকা আশুলিয়া থানা পুলিশের চেক পোষ্ট ঘুরে দেখা যায়, চেক পোষ্ট কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে যানবাহনের গতিরোধ করতে সড়কের মাঝামাঝি আড়াআড়ি করে রাখার রোড ব্লকারগুলো অযত্নেও অবহেলায় পড়ে রয়েছে সড়কের পাশে। সড়কের মাঝে রোড ব্লকারগুলো না থাকায় যানবাহনগুলো অনেকটা বেপোরোয়া গতিতে চলে যাচ্ছে নিজ নিজ গন্তব্যে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনাসহ অনায়াসে গাড়িতে করে মাদক, অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।

456

এছাড়া রাতের বেলা প্রতিনিয়ন সড়কটিতে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা যাত্রীবেশে বাস, লেগুনা অথবা হিউম্যান হলারে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বেড়েই চলছে।

গত রবিবার গভীর রাতে মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে রাজদূত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে আসে উত্তরবঙ্গের উদ্দ্যেশে। পথিমধ্যে বাসটি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের তুরাগ এলাকায় পৌছালে বাসের ভিতরে আগে থেকে যাত্রীবেশে থাকা ডাকাত দলের সদস্যরা সকল যাত্রীদের জিম্মি করে সর্বস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়।

চেক পোষ্ট কার্যক্রম যথারিতী চলাকালে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড অনেকটা শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। প্রতিটি সন্দেহভাজন গাড়িতে কড়া তল্লাশী চালানো হতো চেক পোষ্ট থেকে। যার ফলে অনেক সন্ত্রাসীরা তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড সহসাই করতে পারত না। শুধু তাই নয় চেকপোষ্ট দু’টির কার্র্যক্রম যথাযথ থাকার সময় ছিনতাই হওয়া পণ্য বোঝাই ট্রাক, মটরসাইকেলে করে যাতায়াতের সময় ভূয়া পুলিশ, প্রাইভেটকারে তল্লাশী চালিয়ে বিদেশী অস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য উদ্ধার হতো এই চেকপোষ্ট গুলো থেকে।

এছাড়া চেকপোষ্ট থাকাকালীন সময়ে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে সবচেয়ে বেশী বেগ পেতে হতো নম্বর ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন মটরসাইকেল চালকদের। শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছিল মটরসাইকেলে ৩জন আরোহীর।

তবে চেক পোষ্ট দু’টির কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ রাখায় আবার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে বেড়েছে নম্বরবিহীন মটরসাইকেলসহ ৩ জন আরোহী নিয়ে মটরসাইকেল চলাচল। সেই সাথে বেড়েছে নানা ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের।

765

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির জানান, আমাদের থানায় জনবল কম থাকায় চেক পোষ্ট দু’টির কার্যক্রম সাময়ীকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অতি শিগরই আবার আগের ন্যায় চেকপোষ্ট দু’টির কার্যক্রম শুরু করা হবে।

উল্লেখ্য, আইন-শৃংখলার অবনতি ঠেকাতে আশুলিয়া থানার একজন উপ-পরিদর্শক অথবা একজন সহকারী উপ-পরিদর্শকের নেতৃত্বে শিল্প পুলিশের ৫ জন কনস্টেবল নিয়ে মোট ৬ জন পুলিশ সদস্য দিয়ে প্রতিটি চেকপোষ্টের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এছাড়া বর্তমানে আশুলিয়া থানায় ২৯ জন  উপ-পরিদর্শক (এসআই)  এবং ১৫ জন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কর্মরত রয়েছে।