মেইন ম্যেনু

হঠাৎ বাড়ছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

রাখাইনে গণমাধ্যমকর্মীকে সাক্ষাতকার দেওয়ার পর এক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী হত্যা করে বলে তার পরিবার অভিযোগ করে। এ ঘটনার পর থেকে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার আরো বাড়তে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে গত কয়েকদিনে নাফ নদের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, গত বুধবার মিয়ানমারের গণমাধ্যমকর্মীরা রাখাইন রাজ্যে উদ্ভুত পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখার সুযোগ পায়।

ওই সময় মংডু নাককোড়া এলাকার দোস্ত মোহাম্মদ নামের এক রোহিঙ্গা তাদের উপর মিয়ানমার সরকারী বাহিনীর বর্বরতার বর্ননা দেন। সাংবাদিকরা চলে যাওয়ার পর মোহাম্মদকে মিয়ানমার সেনা সদস্যরা ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। পরে গত শুক্রবার তার মাথাবিহীন মৃতদেহ পাওয়া যায় নদীতে। এরপর থেকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন করে ভীতির সঞ্চার হয়।

এছাড়া বেশ কয়েকদিন থেকে রাখাইনের যেসব স্থানে আগুন দিয়ে বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেখানে কিছু রোহিঙ্গা ঘর বাড়ি ও মক্তব নির্মাণ শুরু করেছিল। কিন্তু শুক্রবারের পর থেকে নির্মাণাধীন এইসব স্থাপনা স্ব উদ্যোগে ভেঙ্গে ফেলার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। না হলে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে এমন ভয়ও দেখানো হয়। এ প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বেড়েছে বলে বিজিবির পরিসংখ্যান দাবি করছে।

গত রোববার সন্ধ্যায় টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদের হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও টেকনাফ পয়েন্ট দিয়ে ৩৪টি নৌকা এবং ঘুমধুম সীমান্তের শূন্য রেখায় ৩৩ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। এছাড়া একইদিন সন্ধ্যায় আরো তিনটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা অনু্প্রবেশ করে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশের পর টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে ঘর বানিয়ে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে বিজিবি মোট ৩৭টি নৌকার প্রায় পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে সোমবার ভোরে ফেরত পাঠায়।

বিজিবি টেকনাফস্থ ২ ব্যাটলিয়ানের উপ অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী জানান, নাফ নদীর ৩টি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাবাহী ৩৭টি নৌকাকে নাফ নদের জলসীমার বাংলাদেশ-মিয়ানমারের শূন্যরেখা থেকে সোমবার ভোরে ফেরত পাঠানো হয়। প্রতিটি নৌকাতে ১০ থেকে ১৫ জন করে রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও শিশু ছিল বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

বিশেষ কায়দায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় মিযানমারের মংডু প্রাংপ্রু এলাকার রোহিঙ্গা নারী মিনারা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, তাদের গ্রামে আগে কোনো অত্যাচার নির্যাতন হয়নি। কিন্তু কয়েকদিন ধরে মিয়ানমার সেনা সদস্যরা চাপ দিচ্ছে ঘর ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এখন কী হবে কোথায় যাবো ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছি না। জীবন বাঁচানোর তাগিদের আমাদের বাংলাদেশে যাওয়া ছাড়া আর উপায় নাই।