মেইন ম্যেনু

হত্যা যেখানে হাতের মোয়া

ইচ্ছা হলো একজন মানুষকে মেরে ফেলতে। ব্যস। খতম। গাছের পাতা মাটিতে পড়তে যত সময় লাগে, তার আগেই ইচ্ছামতো কাউকে খুন করে ফেলা যায়! এ যেন হাতের মোয়া!

এমন দেশ কোথায়? হ্যাঁ, এই দেশের নাম ইরাক। মানবসভ্যতার ভিত্তিভূমি বলা হয় যে মেসোপটেমিয়াকে, হয়তো অনেকেই জানেন, তার বর্তমান নাম ইরাক। ইরাক এখন এক জীবন্ত বধ্যভূমি। প্রতিনিয়ত প্রাণ ঝরছে, লাশের ওপর লাশ পড়ছে। জ্বলছে, ধ্বংস হচ্ছে, নিঃশেষ হচ্ছে ইরাক।

একটি পরিসংখ্যান এই কথাগুলোকে সমর্থন করবে নিশ্চয়। জাতিসংঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ইরাকে ১৬ মাসের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ১৫ হাজার মানুষ। গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছে ৯৩৭ জনের বেশি। একই সময়ে আহত হয়েছে ৩০ হাজার ব্যক্তি। যা গড়ে প্রতিদিন ২ হাজার। আর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে ২৮ লাখ মানুষ। গড়ে প্রতিদিন ১ লাখ ৭৫ হাজার। তারা এখন উদ্বাস্তু, অনেকে শরণার্থী। এই ২৮ লাখ মানুষ কে কোথায় কীভাবে বেঁচে আছে, তার দায় নিতে কেউ বাধ্য নয়।

গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত একটি হিসাব করে ইরাকে জাতিসংঘ মিশন ও মানবাধিকারবিষয়ক কমিশন যৌথভাবে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৬ মাসে প্রায় ১৩ লাখ শিশু উদ্বাস্তু হয়েছে। এই শিশুদের ভবিষ্যৎ কী- তা কে জানে।

জঙ্গিদের হিংস্রতা, সরকারি বাহিনীর অভিযান, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা, জাতিগত দাঙ্গায় এসব মানুষ হতাহত হয়েছে, উদ্বাস্তু হয়েছে। ন্যূনতম মানবাধিকার নেই। ‘মার ও মর’ নীতিতে লাশের দেশে পরিণত হয়েছে ইরাক।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।



« (পূর্বের সংবাদ)