মেইন ম্যেনু

হবিগঞ্জে ফের দুই শিশু নিখোঁজ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলার বাহুবলে চার শিশুকে অপহরণের পর হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের দুই শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়; নিখোঁজের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সাইফুর রহমান অানন্দ নামে মাদ্রাসার এক ছাত্রকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। আনন্দ শায়েস্তাগঞ্জ থানার নিশাপট গ্রামের জমির আলীর ছেলে। সে স্থানীয় সুলতানশী হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র।

এদিকে শনিবার শহর থেকে তায়েন মিয়া (১৩) নামে আরেক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। তায়েন শহরের রাজনগর এতিমখানা সড়কের বাসিন্দা কাশেম মিয়ার ছেলে। সে শায়েস্তাগঞ্জ ফর্দ্রখোলা আনোয়ার মদিনা মাদ্রাসার ছাত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬ ফেব্রুয়ারি সুলতানশী হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র সাইফুর রহমান আনন্দ সদর উপজেলার দক্ষিণ চরহামুয়া থেকে নিখোঁজ হয়। পরদিন তার বাবা আলহাছ মিয়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়।

সোমবার রাতে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে সাইফুরের বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ বিকাশের মাধ্যমে চাইলে তিনি সদর থানায় বিষয়টি জানান। পরে সদর থানার এসআই পার্থ রঞ্জন চক্রবর্তী, এসআই রকিবুল হাসান ও এএসআই নুরে আলম সিদ্দিক কেশবপুর বাজার এলাকায় সেই বিকাশ এজেন্ট এর কাছে ৫ লাখ টাকা পাঠায়। ওই সময় অপহরণকারী চক্রের এক সদস্য আলাউদ্দিন (২২) টাকা উঠাতে আসলে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা পুলিশ তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে অলিপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কাছ থেকে তাকে আটক করা হয়।

এক সপ্তাহ ধরে পুলিশ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলেও আনন্দের অপহরণের বিষয়ে আলাউদ্দিনের কাছ থেকে কিছু জানতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে তায়েন মিয়া নিখোঁজ হয়েছে নাকি তাকে অপহরণ করা হয়েছে তদন্ত ছাড়া কিছু বলতে পারছে না পুলিশ।

তায়েনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সে শনিবার দুপুরে বাসা থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশে বের হয়। মাদ্রাসা ছুটি হয়ে গেলেও সে বাসায় আসেনি। সম্ভব্য সব স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়া যায়নি। পরে ওই দিন রাতেই তায়েনের চাচা পুলিশ সদস্য মাসুদ আহমেদ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন জানান, আনন্দের অপহরণের ঘটনায় যাকে আটক করা হয়েছে মূলত সে অপহরণকারী নয়। সে অপহরণকে পুঁজি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে পুলিশ আনন্দ ও তায়েনকে গুরুত্ব সহকারে খোঁজ করছে।

উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাতো ভাই আব্দুল আজিজের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাজেল মিয়া (১০), আবদাল মিয়ার ছেলে প্রথম শ্রেণির ছাত্র মনির মিয়া (৭) ও তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বুধবার সকালে উপজেলার সুন্দ্রাটিকি এলাকা থেকে এক কিলেমিটার দূরে ইছাবিলে তাদের বালিচাপা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।