মেইন ম্যেনু

হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখুন ঘরোয়া উপায়ে

চারপাশে হাজার হাজার মানুষের ভেতরে কারো মাথায় চুল বেশি, কারোটায় কম। কেউ একটু লম্বায় বড়, কেউবা একটু ছোট। এক মুহূর্ত মন খারাপ থাকলেও পরের মুহূর্তটাতেই সেটা ভালো হয়ে যায় আমাদের। কেন এমনটা হয়? কি এমন ব্যাপার রয়েছে যেটি কিনা শরীর ও মন- দুটোকেই নিয়ন্ত্রণ করে? না, কোন বিশাল আর বিস্তৃত কোন জিনিস নয়, আমাদের শরীর ও মনের এই ছোট থেকে বড় সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে একটি ছোট্ট জিনিস। আর সেটি হচ্ছে হরমোন। হরমোন আমাদের শরীরের অন্যতম একটি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যেটা কিনা একজন মানুষকে তার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে। কিন্তু মাঝে মাঝে নানা কারণে অস্বাভাবিকরকমের অসমতা দেখতে পাওয়া যায় আমাদের শরীরের হরমোনে। ফলে তার বাজে একটি প্রভাব পড়ে শরীর ও মনের ওপর। বিশেষ করে নারীদের বেলায তো সেই প্রভাবটা পুরুষদের চাইতে আরো বেশি। আর তাই চলুন দেখে নিই শরীরের এই অসম হরমোনকে কি করে প্রাকৃতিক ও ঘরোয়াভাবে সহজেই ঠিকঠাক করে ফেলা যায়।

১. ওমেগা৬ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বা শাক-সবজির তেল এড়িয়ে চলুন

শরীরে মোট তিন ধরনের ফ্যাটের দরকার পড়ে কোষ তৈরিতে। তার ৯৭ শতাংশই হচ্ছে স্যাচুরেটেড ও মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। আর বাকী ৩ শতাংশ দরকার পড়ে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের। যার ভেতরে ওমেগা ৩ এর অংশ কেবল অর্ধেক। কিন্তু কোনভাবে অতিরিক্ত ভেজিটেবল অয়েল গ্রহন করে ফেললে সেটা পুরো ব্যাপারটাকে এলোমেলো করে দেয়। এই হরমোনের অসমতার জন্যে ছোট খাটো সমস্যা থেকে তৈরি হতে পারে ক্যান্সারের মতন জটিল সমস্যাও। আর তাই ভেজিটেবল তেল, বাদাম তেল, সয়াবিন তেলের বদলে নারকেল তেল, জলপাই তেল ইত্যাদি গ্রহনের চেষ্টা করুন ( ওয়েলনেস মামা )।
২. ক্যাফেইনের মাত্রা কমিয়ে দিন

কফি পান করতে যথেষ্ট ভালো হলেও এর অতিরিক্ততা শরীরের হরমোনে অসমতা তৈরি করে। আর সেটা আরো বেশিভাবে চোখে পড়ে যদি একই সাথে শরীরে বিদ্যমান থাকে গর্ভাবস্থা, বিষাক্ততা বা হরমোনের জন্যে ক্ষতিকারক হতে পারে এমন কোন উপাদান। আর তাই কফিকে এড়িয়ে চলুন যতটা সম্ভব ( ওয়েলনেস মামা )। এর পরিবর্তে পান করুন হার্বাল চা। অন্যভাবে কফি একদমই ছাড়তে না পারলে এতে প্রতি কাপ অনুযাযী এক চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে তারপর পান করতে পারেন।

৩. পরিমিত পরিশ্রম ও বিশ্রাম করুন

ব্যায়াম বা পরিশ্রমের কাজ করা ভালো। তবে এতটা করবেননা যাতে করে আপনার শরীরের সমস্যা হয়। বিশেষ করে আগে থেকে হরমোনের সমস্যা থাকলে তো কথাই নেই। এক্ষেত্রে খুবই হালকা পরিশ্রম করার চেষ্টা করবেন এবং পরিমিত ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। আর কিছু না, ঘুমের সামান্য কম-বেশিই আপনার শরীরের হরমোনকে করে দিতে পারে এলোমেলো ( ওয়েলনেস মামা )।

৪. আয়ুর্বেদিক সাহায্য নিন

আয়ুর্বেদের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে আর খুব সহজেই আপনি আপনার শরীরের বিষাক্ত দ্রব্যগুলোকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে হরমোনকে করে তুলতে পারেন একদম ঠিকঠাক। এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে অশ্বগন্ধা, অ্যাভিনা সেটিভা, কাটুয়াবা বার্ক, এপিমেডিয়াম, মাকার শিকড়, লিলাজিত, সুমা, টোঙ্গকাট আলি বা ট্রিবুলাস টেরেস্ট্রিসের মতন প্রাকৃতিক আয়ুর্বেদগুলো ( গ্লোবাল হিলিং সেন্টার )।

৫. জেলাটিন গ্রহন করুন

শুনতে অদ্ভূত লগলেও সত্যি যে জেলাটিন শরীরের হরমোনকে ঠিকঠাক রাখতে সাহায্য করে ( ন্যাচারাল লিভিং আইডিয়াস )। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, ফসফেট ও ক্যালসিয়াম- সেগুলোর সবগুলোই শরীরের হজম ব্যবস্থাকে উন্নত করে তোলে আর হরমোনকে করে তোলে সুষম।

শরীর, মন ও সর্বোপরি একজন মানুষ কেমন হবে এসব কিছুই অনেকটা বেশি নিয়ন্ত্রণ করে তার শরীরের হরমোন। আর তাই সবারই উচিত শরীরে হরমোনের সমতার দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখার।