মেইন ম্যেনু

সুদখোরদের কাছ থেকে মাসোহার নিত এসআই শাখাওয়াত

হরিণাকুন্ডুর চিহ্নিত দুই সুদখোর আটক গা ঢাকা দিয়েছে অন্যান্যরা

হরিণাকুন্ডু হাসপাতাল মোড়ের চিহ্নিত সুদখোরদের বিরুদ্ধে দৈনিক দিনকাল পত্রিকায় তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। গতকাল পুলিশ আলতাফ ও মিলন নামে এক সুদখোরকে আটক করেছে। মিলনের বাবা আয়নাল হোসেনও হরিণাকুন্ডু শহরের চিহ্নিত সুদখোর হিসেবে পরিচিত। হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরশাদুল কবীর জানান, পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় সুদখোর আলতাফ ও মিলনকে শ আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পক্রিয়া চলছে বলেও ওসি জানান।

এদিকে সুদখোর আলতাফ ও মিলন আটকের পর অন্যান্য সুদখোররা গ্রেফতার আতংকে গা ঢাকা দিয়েছে। বিশেষ করে হরিনাকুন্ডু শহরের হাসপাতাল মোড়ের সুদখোর আইনাল, রবিউল, মান্দারতলার দেলু, ঘোড়দার আব্দুস সামাদ আজাদ ও জোড়াপুকুরিয়ার আসাদুল প্রকাশ্যে আর চলাফেরা করছে না। পুলিশ তাদের খোজে মাঠে নেমেছে। পুলিশের এই অভিযানে ভুক্তভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এলেও ভয়ে কেও মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না। অনেকেই বলছেন পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করলে তাদের জন্য ভাল।

সুদখোর মিলন ও আলতাফ গ্রেফতারের পর হরিণাকুন্ডু থানার ওসিকে জানিয়েছেন, তারা হরিণাকুন্ডু থানার এসআই শাথাওয়াত হোসেনকে মাসোয়ারা দিয়ে এই সুদে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো। এসআই শাথাওয়াত হরিণাকুন্ডুর মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মাসোয়ারা আদায় করছে বলে অভিযোগ। এদিকে পুলিশ সুদখোরদের হাতে অত্যাচারিত ব্যক্তিদের থানায় যোগাযোগ করে সুদখোরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছে।

পুলিশ জানায় হরিণাকুন্ডুর বিভিন্ন গ্রামে সুদখোরদের অত্যাচার নির্যাতনের যে ভয়াবহতা চলছে তা এখনই দমন করা না গেলে সামাজিক বিশৃংখলা দেখা দিতে পারে। এদিকে হরিণাকুন্ডুর কাপাশহাটিয়া গ্রামের স্বপন হালদারের ভিটে বাড়ি লিখে নিয়েছে রথখোলা গ্রামের প্রভাভশালী সুদখোর মৃত ফরিদ খার ছেলে ফজুল খা। অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বপন হালদার ফজলু খার কাছ থেকে চড়া সুদে ৬০ হাজার টাকার ঋন নেয়।

সুদাসলে দুই লাখ টাকা পরিশোধের পরও ফজলু খা স্বপন হালদারের ভিটে বাড়ি লিখে নিয়ে তাকে গ্রাম ছাড়া করেছে। অভিযোগ উঠেছে কারেন্ট সুদের জালে জড়িয়ে হরিণাকুন্ডুর বিভিন্ন গ্রামের মানুষ নিঃস্ব হচ্ছেন। সেই সাথে হারাচ্ছেন ভিটে বাড়ি ও সুখের সংসার। দ্রুত সুদের টাকা বৃদ্ধির কারণে ঋন গ্রহীতারা পরিশোদ করতে না পেরে জমি জাতি সুদখোরদের নামে লিখে দিয়ে এলাকা ছাড়া হচ্ছেন।