মেইন ম্যেনু

হলিউডে বর্ণ ও লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ

সব ধরনের সংখ্যালঘু এবং নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমানাধিকারের দাবিদার পশ্চিমা দেশগুলো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার খোদ সেই যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র জগতের প্রাণকেন্দ্র হলিউডে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোতে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নারী, সংখ্যালঘু এবং সমকামীদের প্রতি বৈষম্যেরও অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে ‘অস্কার’ প্রদানের ক্ষেত্রেও।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’র একদল গবেষক জানিয়েছেন, হলিউডের চলচ্চিত্রে নারী, সংখ্যালঘু ও সমকামীদের চরিত্র অন্তর্ভুক্তিরণে বৈষম্য দেখানো হচ্ছে। গবেষণায় হলিউডের এই বৈষম্যকে ‘অন্তর্ভুক্তির সংকট’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

গবেষকরা বলেন, এখনো পর্যন্ত হলিউডের অভ্যন্তরীণ চিত্রটা শ্বেতাঙ্গ নির্ভর। এছাড়া তারা মনে করেন। বিগত দিনগুলোতে যাদের অস্কার দেয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশই শ্বেতাঙ্গ। গবেষণায় আরো বলা হয়, বর্ণবৈচিত্র না থাকায় মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা ‘স্পাইক লি’ এবং অভিনেত্রী ‘জাদা পিঙ্কেট স্মিথ’ অস্কার অনুষ্ঠান বয়কট করতে চেয়েছিলেন। এছাড়া অস্কার মনোনয়ন কমিটির প্রধান চেরি ব্লোন আবেদন করেছিলেন মনোনয়নে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দিতে।

গবেষণা-প্রধান স্মিথ জানান, অস্কার ঠিক ততটাই শ্বেতাঙ্গদের, ঠিক যতটা হলিউড। তিনি এই সংকটকে অন্তর্ভুক্তিকরণের সংকট বলে অভিহিত করেছেন। গবেষণায় বলা হয়, পর্দার আড়ালে যারা কাজ করেন তাদের মাত্র ১৫.২ শতাংশ পরিচালক, ২৮.৯ শতাংশ লেখক এবং ২২.৬ শতাংশ কলাকৌশলী নারী।

গবেষণায় দেখানো হয়, ৪১৪ টি চলচ্চিত্র এবং টিভি সিরিয়ালের মধ্যে মাত্র এক তৃতীয়াংশ অভিনেত্রী নারী। এদের মধ্যে ৫০ শতাংশ চরিত্রেও এশীয় কিংবা এশীয়-আমেরিকান চরিত্রকে তুলে ধরা হয়নি। অন্যদিকে অন্তত ২০ শতাংশ চরিত্রেও সমকামী কিংবা সংখ্যালঘুদের তুলে ধরা হয়নি। এসব চলচ্চিত্রের মধ্যে মাত্র সাতটি চরিত্র তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ১০৯ জন নারী পরিচালকের মধ্যে মাত্র দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ। এদের একজন নির্মাণ করেছেন ‘সেলমা’ এবং ‘আম্মা এসান্থে’ নামের দুটি চলচ্চিত্র এবং অন্যজন নির্মাণ করেছেন ‘বেলে’ নামের একটি চলচ্চিত্র। হলিউডের ১০টি প্রধান চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবারই প্রথম নারী, সংখ্যালঘু এবং সমকামীদের প্রাধান্য দিতে দেখা গেছে।