মেইন ম্যেনু

হাইড্রোজেন বোমা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে?

উত্তর কোরিয়া ‘হাইড্রোজেন’ বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। আজ বুধবার সকালে দেশটির এমন ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমাবিশ্বে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বোমা পরীক্ষার বিষয়টি সত্যি হলে এটি হবে উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ আনবিক বোমা পরীক্ষা। তবে হাইড্রোজেন বোমার বিষয়েই সর্বোচ্চ উদ্বেগ দেখা গেছে। কী এই হাইড্রোজেন বোমা?

হাইড্রোজেন বোমার অপর নাম ‘থার্মোনিউক্লিয়ার ডিভাইস’। একে বলা হয় দ্বিতীয় প্রজন্মের আনবিক বোমা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত আনবিক বোমাগুলোকে বলা হয় প্রথম প্রজন্মের, যেখানে ছিল একটিমাত্র বিস্ফোরণ ব্যবস্থা। তবে দ্বিতীয় প্রজন্মের আনবিক বোমায় থাকে দুটি বিস্ফোরণ ব্যবস্থা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে জাপানের হিরোশিমায় ফেলা যুক্তরাষ্ট্রের অনবিক বোমায় একটি মাত্র বিস্ফোরণ ব্যবস্থা ছিল। বোমাটি ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শক্তি নির্গত করেছিল। অপরদিকে হাইড্রোজেন বোমায় দুটি বিস্ফোরণ ব্যবস্থা থাকায় আরো বেশি এলাকাজুড়ে এর শক্তি ছড়িয়ে পড়বে। এ কারণে প্রথম প্রজন্মের আনবিক বোমার চেয়ে হাইড্রোজেন বোমার বিধ্বংসী ক্ষমতা কয়েকগুণ বেশি।

উত্তর কোরিয়ার বোমা বিস্ফোরণের স্থলে কিছুটা ভূকম্পণ দেখা দেওয়ায়, হাইড্রোজেন বোমায় ফিশন বিক্রিয়া ঘটানোর কোনো ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে কী না তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাইড্রোজেন বোমাটি আছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, যার ওজন ১ দশমিক ২ মেগাটন বা ১২ লাখ টন। তবে অনেক ছোট আকৃতির হাইড্রোজেন বোমাও বিধ্বংসী হতে পারে। আর ছোট আকৃতির হাইড্রোজেন বোমা সহজেই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে স্থাপন করা যায়। আর এখানেই সবচেয়ে ভয়ের কথা। ধারণা করা হয় ছয় হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছুতে পারে এমন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার কাছে আছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চীন, রাশিয়া ও আলাস্কায় আঘাত হানা সম্ভব।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার বাইরে যুক্তরাজ্য। তবে ধরা হলো, উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষায় ব্যবহৃত কোনো হাইড্রোজেন বোমা সমৃদ্ধ ক্ষেপণান্ত্র লন্ডনে আঘাত হেনেছে। এতে শহরের অনেক অংশই ধ্বংস হয়ে যাবে। আবার বোমার ক্ষমতার বাইরে থাকা এলাকার স্থাপনারও ক্ষয়-ক্ষতি হবে।