মেইন ম্যেনু

হাওড়া সেতুতে এ কী কাণ্ড!

সকালে নিচে, বিকেলে ওপরে তাকিয়ে আছে উৎসুক জনতা। ঘটনাস্থল পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া সেতু। এতটা উন্মুখ হয়ে মানুষ কী দেখছিল? যা দেখছিল তা এই রকম- সকালে বলতে ঠিক সকালে নয়, সময় তখন দুপুর পৌনে ১টা। ওই সেতু থেকে গঙ্গায় ‘ঝাঁপ’ দিয়ে তলিয়ে গিয়েছেন এক যুবক। তখন চলছে তার খোঁজ। তাই উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়ে দেখছেন সেই দৃশ্য। সেতুতে দাঁড়িয়ে সবাই নিচের দিকে তাকিয়ে আছেন।

আবার বিকেলে সবাই তাকিয়ে আছেন সেতুর ওপরের দিকে। উৎসুক জনতা ভিড় এবারে আরো বেশি। সময় তখন বিকেল সাড়ে তিনটা। দেখা গেল হাওড়া সেতুর মাথায় উঠে হাঁটছেন-দৌড়াচ্ছেন এক যুবক। আর তাকে নামাতে গিয়ে হিমশিম পুলিশ। তাকে দেখার হুজুগে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেল ব্যস্ত হাওড়া সেতু। কেউ গাড়ি থামিয়ে জানালা থেকে মুখ বের করে, কেউ মোটরবাইক দাঁড় করিয়ে মোবাইলে বন্দি করতে চাইলেন সেতুর মাথায় ওঠা যুবককে।

শুরুটা হয়েছিল শুক্রবার সকাল থেকেই। সেতুর রেলিংয়ে উঠে জলে ঝাঁপ দেন এক যুবক। প্রায় দেড় ঘণ্টা তার খোঁজে তল্লাশি চলে গঙ্গায়। আর পুলিশের সেই কার্যকলাপ দেখতে সেতুর ফুটপাতে নামে মানুষের ঢল। পুলিশ জানায়, যুবকের নাম মহম্মদ সামশাদ। পেশায় দরজি ওই যুবক ঝাঁপ দেওয়ার আগে মোবাইল ও চটি খুলে রেখেছিলেন সেতুর ফুটপাতে। রাত পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি তার।

index111

এ দিন বিকেলে সেতুতে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা আচমকা দেখেন, সেতুর মাঝে কাঠামোয় বসে পা দোলাচ্ছেন সাদা জামা-ধূসর প্যান্ট পরা উসকোখুসকো চুলের এক যুবক। নিচ থেকে ‘রে-রে’ করে উঠতেই খ্যাক খ্যাক করে হেসে কাঠামোর ওপর দিয়ে দৌড়াতে শুরু করে সে। খবর যায় কলকাতা পুলিশের সদর দফতরে। দমকলের দুটি ইঞ্জিন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। কিন্তু যুবককে আয়ত্তে আনাই হয়ে পড়ে কঠিন।

এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে আসে বহুতলে উঠতে পটু বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আর একটি দল। ততক্ষণে হাওড়া সেতু জুড়ে অচলাবস্থা। সার দিয়ে দাঁড়িয়ে যানবাহন। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ জানতে চাইছেন ‘কোথা দিয়ে উঠল ছেলেটা?’ ইতিমধ্যেই সেতুর ওপর উঠতে শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা। ওপরে তখন হাততালি দিচ্ছেন ওই যুবক। আর নিচে তা দেখে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছেন জনতা।

এ দিকে, সেতুর ওপরে উঠে ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলে বন্ধুত্ব করে ফেলেন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা। গল্পের মাধ্যমে তাকে আনা হয় সেতুর মাঝে নিরাপদ জায়গায়। দড়ি দিয়ে হাত-পা বাঁধা হয় তার। এর পরে তাকে বেঁধে ফেলা হয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীর লাইফ জ্যাকেটের সঙ্গে। ওপর থেকে দড়ি বেয়ে ওই যুবককে নিয়ে নিচে নেমে আসেন। পুলিশ জানায়, ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন।

নিচে নেমেই যুবক হেসে বললেন, ‘উপরটা কী ভালো। কত হাওয়া। কেউ নেই। আমার নাম শেখ সেন্টু। কিন্তু আমি এখন শক্তিমান।’

এসব কাণ্ডে সব মিলিয়ে শুক্রবার সারাটা দিন হাওড়া সেতু ছিল ঘটনাবহুল। ঘটনায় হাওড়া ও কলকাতা উভয় দিকেই তীব্র যানজটে অচল হয়ে পড়ে গোটা এলাকা।

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।