মেইন ম্যেনু

হাকালুকি হাওরে বেড়েছে পরিযায়ী পাখি

এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরে গত তিন বছরের তুলনায় এবছর বেড়েছে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা। হাওরের বিভিন্ন বিলে এবছর পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাখির সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারনা করছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও হাওরে পানি বেশি থাকায় শিকারিরা বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকার করতেও পারেনি।

এবছর হাওরে অনুষ্ঠিত পাখি শুমারিতে ৪০টি বিলে ৫০ প্রজাতির ৫৮ হাজার ২৮৯টি পাখি দেখা গেছে। এর মধ্যে হাওরে বিশ্বের মহাবিপন্ন “বেয়ারের ভুঁতিহাঁস” চারটি পাখির সন্ধান মিলেছে । দেশের অন্য কোথাও এ পাখির দেখা মেলেনি। হাওরের ৪০টি বিলে দুই দিনের জলচর পাখিশুমারি শেষে জরিপের কাজে জড়িত কর্মকর্তারা এ তথ্য দিয়েছেন।

সূত্রমতে, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেষ্ণুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ হাকালুকি হাওর। প্রতি বছর শীতের শুরুতে শীত প্রধান দেশ সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয় পাদদেশের বিভিন্ন দেশ থেকে হাওরে আসে পরিযায়ী পাখিরা।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ইউএসএআইডির জলবায়ু-সহিষ্ণু প্রতিবেশ ও জীবিকায়ন (ক্রেল) প্রকল্প সম্প্রতি হাকালুকি হাওরে জলচর পাখিশুমারি করে। বার্ড ক্লাবের ১২ সদস্যের দুটি দল হাওরের ৪০টি বিলে পাখিশুমারি চালায়।

শুমারিতে এসব বিলে ৫০ প্রজাতির ৫৮ হাজার ২৮৯টি পাখি দেখা গেছে। এর মধ্যে চারটি বেয়ারের ভুঁতিহাঁস দেখা গেছে। এছাড়া ৩৭ হাজার ৩৪৮টি বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস ও ১ হাজার ৪৭৩টি সৈকত পাখি দেখা যায়। গত বছর শুমারিকালে হাওরে ৫৬ প্রজাতির ৩৪ হাজার ২৬৪টি, ২০১৫ সালে ৫৬ প্রজাতির ২১ হাজার ৬৩১টি ও ২০১৪ সালে ৬০ প্রজাতির ২৩ হাজার ৪২টি জলচর পাখি দেখা গিয়েছিল।

এদিকে পাখির গতিবিধি ও রোগবালাই পর্যবেক্ষণের জন্য ৩১ প্রজাতির ৩৫৭টি পরিযায়ী পাখির পায়ে রিং পরিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ও বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের উদ্যোগে সম্প্রতি এসব পাখিকে রিং পরানো হয়।

আইইউসিএনের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত হাকালুকি হাওরে ৩১ প্রজাতির ৩৫৭টি পরিযায়ী পাখির পায়ে রিং পরানো হয়।

আইইউসিএন-বাংলাদেশের মুখ্য গবেষক এ বি এম সারোয়ার আলম বলেন, মূলত পাখিদের গতিবিধি ও রোগবালাই পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে তাদের পায়ে বিশেষ ধরনের রিং পরানো হয়। প্রতিটি রিংয়ে বাংলাদেশের নাম ও একটি কোড নম্বর খোদাই করা রয়েছে। কোড নম্বর দেখে বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন এসব পাখির ব্যাপারে ই-মেইলে তাঁদের কাছে তথ্য জানান।

বার্ড ক্লাবের সভাপতি ইনাম আল হক বলেন, বেয়ারের ভুঁতিহাঁস বিশ্বে মহাবিপন্ন। দেশের অন্য কোথাও এ পাখির দেখা মেলেনি। হাকালুকিতে এই প্রজাতির মাত্র চারটি পাখির দেখা পাওয়া গেছে। পাখি বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এবার হাওরের বিভিন্ন বিলে পানি দেখা গেছে। এ কারণে পাখি বেড়েছে। অন্যান্য বছর পানি কম থাকায় সহজেই শিকারিরা পাখি ধরে নিয়ে গেছে।