মেইন ম্যেনু

হাজারো স্বপ্ন লুকিয়ে আছে ওদের মাঝে, স্কুল কি ওরা চেনেনা?

ওরা জানেনা লেখা পড়া কি, কেন লেখা পড়া করতে হয়। কিন্তু তার পরও কারও -কারও ইচ্ছা আছে শিক্ষক হওয়ার, আবার কার প্রত্যাশা ডাক্তার হবে। এমন হাজারো স্বপ্ন ওদের মাঝে লুকিয়ে আছে কিন্তু সেই স্বপ্ন পুরনের কোন সুযোগই নেই ওদের সামনে।

কারন ওরা থাকে জেলে পল্লীতে নদী উপকুলের বিভিন্ন এলাকায়। যেখানে কোন স্কুল নেই। মক্তবে অ-আ-ক-খ শেখার সুযোগটি পর্যন্ত নেই। ওরা যানে শুধূ বাবার সাথে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া। সারারাত বাবার সাথে মাছ স্বীকার করে সকালে বাজারে বিক্রি করে নিজেদের পেট বাঁচানো।

এ কমলমতি শিশুদের বসবাস হলো মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার প্রত্যন্তঞ্চল লক্ষিপুর, এনায়েতনগর ও রাজাহাট এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ের বিভিন্ন জেলে পল্লীতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এ শিশুরা ছোট থেকে বেড়ে উঠছে শিক্ষাবিহীন অন্ধকার পরিবেশে। স্কুল না থাকায় পাচ্ছেনা কোন শিক্ষার আলো। ওরা পড়া লেখার বিনিময় শিকছে দল বেঁধে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুড়ে বেড়ানো। আর নদীতে লাফ-ঝাঁপ খেলা।

আমরা বিভিন্ন শিক্ষা কর্মসুচিতে দেখি এ শ্লোগানে শিক্ষার আলো ঘড়ে-গড়ে জ্বালো। কিন্তু ওই সব জেলে পল্লীতেতো শিক্ষার আলো জ্বলছেনা। ওরা বড় হচ্চে সেই আদিম যুগের সাথে তালমিলিয়ে।

এনায়েতনগর এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ের জেলে পল্লীতে বেড়ে ওঠা বাদল, রহিম ও কিশোরসহ ১৫/২০ জন শিশু সংবাদিকদের কাছে জানায়, মোগো এহানে কোন স্কুল বলতে কিছু আছে তা জানিনা। আর পড়া লেহা কি এই কেবল আপনাগো কাছে প্রথম শুনলাম। মোরা চাই পড়া লেহা করে চাকরী করতে কিন্তু স্কুল পাইমু কই।

এ বিষয় হামিদও নেছের আলীসহ বেশ কয়েকজন জেলে জানায়, আমাগো বাবা-মায় আমাগো পড়া লেহা হিগায় নাই। মোরা আবার মোগো পোলা পানরে কিভাবে হিগাইমু। বড় ঝামেলা হইছে স্কুল নাই।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হেমায়েত উদ্দিন বলেন, এ সকল শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের খুব শিগ্রই শিক্ষা ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।