মেইন ম্যেনু

রাণীনগরে শ্রমিক সংকটের কারণে

হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান কাটতে পারছেনা চাষিরা

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে মাঠে মাঠে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান শ্রমিক সংকটের কারণে পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরু করতে পারছেন না চাষিরা। প্রতিটি ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন পাকা ধানের শীষের সোনালী রঙের বর্ণিল ছোঁটা বাতাসে দোল খাচ্ছে। যতদূর চোখ যায় শুধু সোনালী রঙের চোখ ধাঁধানো দৃশ্য। মাঠ জুড়ে সোনালী রং বলে দিচ্ছে গ্রামবাংলার কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা ইরি-বোরো ধানের দৃশ্য। চলতি মৌসুমে কৃষকরা ধানের ভাল ফলনের বুকভরা আশা করলেও শ্রমিকের মজুরী অতিরিক্ত বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে জমিতে ধান পাকা সর্ত্তেও যথা সময়ে ধান কাটতে না পাড়াই কৃষকরা হতাশায় ভূগছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম ধান চাষ করায় কোন প্রাকৃতিক দূযোগ এখন পযর্ন্ত হানা না দেওয়ায় রাণীনগর উপজেলায় ইরি-বোরো ধানের ভাল ফলন হচ্ছে বলে রাণীনগর কৃষি বিভাগ জানান। কিন্তু কৃষকরা বলছেন শ্রমিক সংকট প্রকট হওয়ায় মাঠে মাঠে পাকা ধান দ্বিগুণ মজুরী দিয়ে দূরত্ত ভেদে প্রতি বিঘা ৪ থেকে ৫হাজার টাকায় ধান কাটতে গিয়ে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

রাণীনগর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৪শ’ ১০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ১৯ হাজার ১শ’ ১০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৩শ’ হেক্টর জমিতে চাষ কম হয়েছে। চলতি মৌসুমে রাণীনগর বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কতৃপক্ষের গভীর নলকূপ ২শ’ ৬২টি, বিদ্যুৎ চালিত ব্যক্তিগত ১শ’ ১৫টি, ডিজেল ৯৮টি, অগভীর বিদ্যুৎ ও ডিজেল চালিত ৩ হাজার ৩শ’ ৪৬টি, নদী থেকে এলএলপি বিদ্যুৎ চালিত পাম্প ২১টি’র মাধ্যমে আবাদি ইরি-বোরো ধান ক্ষেতে সেচ প্রদান করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সঠিক সময়ে চারা লাগানো, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথা সময়ে সেচ দেওয়া, সার সংকট না থাকায় উপজেলার কৃষকরা জিরাশাইল, খাটো-১০, স্বর্ণা-৫ জাতের ধান চাষ করেছে। নতুন ধান কাটার শুরুতেই বিঘা প্রতি ২০/২২ মন হারে ধান উৎপাদন হচ্ছে। নওগাঁর ছোট যমুনা নদী বেষ্টিত নিম্নাঞ্চল হওয়ায় উর্বরা পলি মাটির জমিতে ইরি-বোরো ধান ব্যাপক আকারে চাষ হয়েছে। এছাড়াও বিল মুনসুর, বিল চৌর, সিম্বা, খাগড়া, আতাইকুলা, গোনা, রক্তদহ বিল, একডালা, কালীগ্রাম, রাতোয়াল, ভাটকৈ মাঠে সরজমিনে ঘুড়ে দেখা গেছে পাকা ধানের সোনালী রং। ধান কাটার শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে স্থাণীয় চাষিরা পাকা ধান ঘড়ে তুলার লক্ষ্যে শ্রমিকদের দ্বিগুণ মজুরী দিয়ে ধান কাটা শুরু করলেও শ্রমিক সংকটের কারণে তা পুরোদমে কাটা মাড়াই করতে পাড়ছেন না। এপর্যন্ত মাত্র ২৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।

উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, আমি এবছর ১১বিঘা জমিতে জিরা জাতের ধান লাগিয়েছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ যথা সময়ে ভাল পরিচর্যা করায় আমার জমিতে ধান ভাল হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত শ্রমিক অভাবে এবং প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত মজুরী চাওয়ায় এক বিঘা জমির ধানও কাটতে পারিনি। প্রতিবছর এই এলাকায় দক্ষিন অঞ্চলের ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা সহ বিভিন্ন এলাকা খেকে ইরি ধান কাটার শ্রমিক আসতো এবারে শ্রমিক কম আসায় এর সংকট প্রকট আকার করছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধান ভাল হয়েছে। ইতিমধ্যে ধান পেঁকে যাওয়ায় চাষিরা আগাম কাটা-মাড়াই শুরু করেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে শ্রমিক সংকট রয়েছে। এই সংকট থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য কৃষি বিভাগ থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে ধান কাটা মাড়াই মেশিন ভূর্তুকি মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা মেশিনের প্রতি আগ্রহী হলে শ্রমিক সংকট অনেকটাই কমে যাবে।