মেইন ম্যেনু

হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গায় মাছরাঙা টেলিভিশনকে অভিনন্দন

মাঈনুল ইসলাম নাসিম : নিহত সাংবাদিক সাগর সরোয়ার যে চ্যানেলের বার্তা সম্পাদক ছিলেন, সেই মাছরাঙা টেলিভিশন আজ বাংলাদেশের ‘বস্তাপঁচা’ শিক্ষাব্যবস্থার খুব সামান্যই জাতির সামনে তুলে ধরে দেশ-বিদেশের দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীদের প্রশংসাভাজন হয়েছে। জিপিএ ফাইভ পাওয়া মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের একটি অংশ জিপিএ মানে কি তা জানবে না, ১৬ই ডিসেম্বরকে স্বাধীনতা দিবস আর ২৬শে মার্চকে বিজয় দিবস জানবে, নেপালের ভূমিকম্পে রাজধানী কাঠমুন্ড চলে যাবে মহাকাশের নেপচুনে, তিলোত্তমা ঢাকার বাসিন্দা হয়ে তারা জানবে না জাতীয় স্মৃতিসৌধ বা শহীদ মিনার কোথায়, শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস কবে এমনকি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির নাম জানার যদি প্রয়োজনই না থাকে, তবে চলমান এই শিক্ষাব্যবস্থার দুর্গন্ধের ধারাবাহিকতায় আসছে দিনগুলোতে সুন্দরবনের ভৌগলিক অবস্থান বান্দরবানে চলে যাওয়া শুধুই সময়ের ব্যাপার। কিন্তু তা কোনভাবেই কাম্য নয় বলে হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে দিয়েছে সাগর সরোয়ারের স্মৃতিতে অম্লান মাছরাঙা টেলিভিশন।

দুর্ভাগ্যের বিষয়, মিডিয়া জগতের পরশ্রীকাতর কিছু লোকজন মাছরাঙা ও তার সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করছেন, সাগর-রুনীর মূল খুনীদের ধরতে যারা আজ অবধি তাদের প্রতিভাকে কাজে লাগাননি। তৈলবাজী যাদের রক্তে মিশে আছে সেইসব চাটুকাররা যেহেতু মাছরাঙার মতো বর্ষসেরা কোন প্রতিবেদন উপহার দেবার হিম্মত রাখেন না, তাই তারা সমস্যার গোড়ায় হাত না দিয়ে সাংবাদিকতার ‘ইথিকাল’ ভুল খোঁজার নামে ঘরের ময়লা-আবর্জনা কার্পেট দিয়ে ঢেকে রাখার রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন। ফার্মের ঐ শিক্ষার্থীদের ‍মুখমন্ডল যদি ঢেকে বা ঝাপসা করে দেয়া হতো কিংবা ক্যামেরা যদি পেছন থেকে ধরা হতো, তখনও কিন্তু নীতিবান ঐ চাটুকাররা ঠিকই মাছরাঙার সমালোচনা করতেন। তখন প্রশ্ন তোলা হতো প্রতিবেদনে দেখানো এরা আদৌ ছাত্র বা জিপিএ ফাইভ পাওয়া কি-না। ভিত্তিহীন ভূয়া রিপোর্ট বলে উড়িয়ে দেয়া হতো তখন। আজ নিন্দুকেরা যে যাই বলুক, জায়গা মতো হাত দিতে পারায় মাছরাঙা টেলিভিশনকে তাই আমজনতার উষ্ণ অভিনন্দন।

বাংলাদেশের এনার্জি সেক্টরের লুটেরাদের বিরুদ্ধে স্ত্রী মেহেরুন রুনীর অনুসন্ধানী রিপোর্ট নিজের চ্যানেল মাছরাঙায় প্রচার করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে চাটুকারদের এই জগত থেকে বিদায় নিয়েছিলেন সাগর সরোয়ার। জিপিএ ফাইভ ইস্যুতে মাছরাঙা টেলিভিশন আজ দেশ ও জাতির বিবেক হিসেবে আবির্ভূত হয়ে তার প্রয়াত বার্তা সম্পাদকের রক্তের ঋণ কিছুটা হলেও পরিশোধ করেছে, এমনটা বলার যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায় বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে। মাছরাঙা পরিবারকে বলবো, মনে রাখবেন আপনাদের দায়িত্ব কিন্তু বেড়ে গেলো। শুধু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেই হবে না। নাঁচতে যেহেতু নেমেছেন, ঘোমটা আগুনে পুড়িয়ে ফেলুন। আপনাদের মালিকপক্ষ যেহেতু ‘হ্যান্ড টু মাউথ’ টাইপের কোন কোম্পানির কর্ণধার নয়, তাই শিক্ষার্থীদের বেসিক নলেজ বাড়াতে পৃষ্ঠপোষকতার হাত বাড়িয়ে দিন। যাদের চেহারা দেখালেন তাদেরকে ডেকে দীর্ঘমেয়াদি ওরিয়েন্টেশানের মাধ্যমে ‘জিনিয়াস’ করে তুলুন এবং আগামীতে বিজয় বা স্বাধীনতা দিবসে মাছরাঙাতেই তাদের তুলে ধরুন নতুন রুপে ভিন্ন আঙ্গিকে।


(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। আওয়ার নিউজ বিডি এবং আওয়ার নিউজ বিডি’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)