মেইন ম্যেনু

হাতিরঝিলের মতো ৮টি নান্দনিক সেতু হবে গুলশান লেকে

নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য ও প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেয়ার স্থান বলতে বর্তমানে বহু প্রতীক্ষিত হাতিরঝিল প্রকল্পকেই বোঝায়। আর এই প্রকল্প ঘেঁষা আরও একটি নান্দনিক সৌন্দর্যের স্থান হতে যাচ্ছে গুলশান লেক প্রকল্প।

২৯৮ একরের এই লেকের গুলশান-বনানী-বারিধারায় ৮টি স্থানে হাতিরঝিলের মতো নান্দনিক সেতু তৈরি করা হবে।

রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) সূত্র জানায়, গুলশান ও বাড্ডার মধ্যে একটি এবং গুলশান-২ থেকে বারিধারা যেতে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। নিকেতনে বিদ্যমান সেতুটি ভেঙ্গে এখানে একটি বড় সেতু তৈরি করা হবে। এছাড়া, শাহজাদপুরের ঝিলপাড়ে একটি, বনানী থেকে গুলশান-২ নাম্বারে যেতে একটি, গুলশান-১ নাম্বারে কাছে একটি, বনানী থেকে গুলশান-২ নাম্বারে যেতে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।

রাজউক সূত্র জানায়, চলমান প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি করে ৮টি সেতু নির্মাণ করা হবে। ২০১০ সালে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০১৫ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকায়। প্রকল্পটি ২০২০ সালে শেষ হবে। প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব রাজউক চলতি বছরের মে মাসের ২৯ তারিখে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে।

গুলশান লেক প্রকল্পের পরিচালক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হাতিরঝিলের মতোই আরও একটি নান্দনিক প্রকল্প হতে যাচ্ছে গুলশান লেক প্রকল্প। এখানে ৮টি নান্দনিক সেতু হবে। এছাড়া গুলশান-বনানী-বারিধারা এই এলাকার বিভিন্ন সংযোগ সড়ক, ডাইভারসন রোড, কালভার্ট ভেঙেও বড় সেতু তৈরি করা হবে। লেকের তলদেশের কাদা মাটি, আবর্জনা অপসারণ করে লেকের গভীরতা বৃদ্ধি করা হবে। লেকের পানি থেকে যেন গন্ধ বের না হয় সেই লক্ষ্যে ‘গ্রিন অ্যাপ্রোচ সোলার অ্যাকুয়াটিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হবে। চলমান প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে এই পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।’

২০১০ সালে শুরু হয় গুলশান লেকের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ। হাতিরঝিল সংলগ্ন গুলশান লেকের এক পাশে নির্মিত হচ্ছে ভিউইং ডেক, সবুজে আচ্ছাদিত ওয়াকওয়ে (হাঁটাপথ) ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গুলশান লেকের হাতিরঝিল অংশ থেকে গুদারাঘাট পর্যন্ত সবুজে আচ্ছাদিত ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে। লেকের পাশে বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। বাঁধের ওপরে লাগানো হয়েছে সবুজ ঘাস। এছাড়া লেকের পানিতে থাকা কচুরিপানা অপসারণ করা হয়েছে। লেকের পানি স্বচ্ছ রাখার জন্য মাঝে মাঝে চুনও ব্যবহার করা হচ্ছে।

লেকের নৌকা চালক শুভ জানান, ১০ দিন আগে লেকের পানি পরিষ্কারের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়েছে। মাস খানেক আগে হাতিরঝিল থেকে গুদারাঘাট সড়ক পর্যন্ত কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়েছে।’

একদিকে যেমন গুলশান লেকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিষ্কার করা হচ্ছে অন্যদিকে হরহামেশাই চারপাশ থেকে লেকের পানিতে ময়লা ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গুলশান লেক যেন পরিচ্ছন্নতা ও দূষণের ঘূর্ণিপাকে আবদ্ধ। গুলশান লেক থেকে লিংকরোড গুদারাঘাট সড়ক পর্যন্ত লেকের একপাশে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলমান অপরদিকে আরেক পাশ থেকে বাসা বাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে লেকের পানিতে। এমনকি ড্রেনের ময়লার লাইনও যুক্ত করা হয়েছে লেকের সঙ্গে।

লেকের মাঝখান দিয়ে গুলশান-লিংক রোড সড়ক। সড়কের দু’পাশে চলছে ফুটপাতের ‍ রমরমা ব্যবসা। এখানে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবজিসহ নানা ধরনের ফল বিক্রি করছেন রাস্তার ওপর। তাদের ফেলা ময়লা অাবর্জনাতেও দূষিত হচ্ছে লেকের পানি।

অস্থায়ী ফলের দোকানের মালিক আলিমুদ্দিন বলেন,‘এনো মাল(সবজি) করলে পুলিশে ফিক্কা মাইরা ফালাইয়া দেয়। সেই জন্য কান্দে কান্দে মাল বিক্রি করি। মাঝে মদ্দে(মধ্যে) এনো বসি।’

হাতিরঝিল থেকে লিংকরোড সড়ক পর্যন্ত কাজ কিছুটা এগিয়েছে। তবে লেকের লিংক রোড সড়ক থেকে শাহজাদপুর ঝিলপাড় অংশের অবস্থা আরও বেহাল। লেকের পাশে রয়েছে বাজার, পিকআপ ভ্যানের গ্যারেজ, ও গরুর খোঁয়াড়। এছাড়া বাসাবাড়ি থেকে লেকে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা।

লেকের পাশে গড়ে উঠেছে গুদারাঘাটের বিশাল বাজার। বাজার পেরিয়ে অনেক ব্যবসায়ী লেকের পাশে স্থাপন করেছেন অস্থায়ী দোকান। এখানে বিক্রি করা হচ্ছে সবজি, আম, কলাসহ নানা ধরনের ফল। এসব দোকানের আবর্জনাও লেকে ফেলা হচ্ছে। গুদারাঘাটের একটি ময়লার ড্রেনও লেকের সঙ্গে মিশে গেছে।

গুলশান গুদারাঘাট থেকে শাহজাদপুর ঝিলপাড় পর্যন্ত লেকের দুই পাশেই ময়লার স্তূপ। সড়ক ওয়াকওয়েও এখন তৈরি করা হয়নি। তবে সড়ক তৈরির করার জন্য মাটি ভরাট ও ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। এখন সেখানে চলছে সড়ক ও ওয়াকওয়ে তৈরির পূর্ব প্রস্তুতি।

শাহজাদপুরের ঝিলপাড়ে গড়ে উঠেছে বস্তি। বস্তিরবাসীরা বাসাবাড়ির ময়লা ফেলছে লেকে। এছাড়া গরু খাবারও দেয়া হচ্ছে লেকের পাশে। পিকআপভ্যানের গ্যারেজের ময়লাও পড়ছে লেকে।

গুলশান লেকের মাঝখানে স্বচ্ছ পানি দেখা গেলেও চারপাশে যেন ময়লার মেলা। একদিকে লেক পরিষ্কার করা হচ্ছে অপরদিকে সমান তালে চলছে দূষণ।

কবে দূষণের কবল থেকে গুলশান লেক মুক্তি পাবে এমন প্রশ্নের জবাবে রাজউক সচিব সুশান্ত চাকমা বাংলানিউজকে বলেন,গুলশান লেকের দূষণরোধে রাজউকের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। গুলশান লেককে দূষণমুক্ত রাখতে বার বার বলা হয়েছে স্থানীয়দের।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা (সংবাদকর্মীরা) আমাদের পরিকল্পনা দিন। দরকার হয় সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গুলশান লেককে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করবো।’ (প্রতিবেদকঃ মফিজুল ‍সাদিক)