মেইন ম্যেনু

হাতিরঝিলে ঈদের আমেজ

ঈদের দিনে পশু কোরবানি দেয়া, মাংস কাটা এবং স্বজনদের বাসায় মাংস পৌছে দেয়াসহ ব্যস্তসময় কেটেছে নগরবাসীর। তাছাড়া দিনভর বৃষ্টি থাকায় হাতে যেটুকু সময় ছিল তাতে কেউ আর ঘরের বাহির হতে সাহস পাননি।

ঈদের পর দিন আজ হাতে প্রচুর সময়, আবহাওয়াও ছিল অনুকূলে। তাই আগের দিনের ক্লান্তি ঝেড়ে মানুষ বের হয়েছে বিনোদন কেন্দ্রগুলোর দিকে। আড্ডা ও রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, জাদুঘর, কার্জন হল, ধানমন্ডি ও গুলশান লেকে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। রাজধানীর অন্যরকম বিনোদন কেন্দ্র ও ঢাকার ফুসফুস হিসাবে পরিচিত হাতিরঝিলে দর্শনার্থীদের ভিড় কোনো অংশেই কম ছিল না।

বুধবার সন্ধ্যায় মানুষের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে হাতিরঝিল। ছেলে-বুড়ো, সন্তানদের নিয়ে স্বামী স্ত্রী থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীদের সমাগম ছিল বেশ। কেউ বাদাম খাচ্ছেন কেউ-বা ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে হাতিরঝিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। অনেককে দেখা গেল লেকের পাশ দিয়ে হাঁটছেন আর গল্প করছেন। কেউবা গ্রুপ ধরে বসে বসে আড্ডা আর গল্পে মেতেছেন।

দূর দূরান্ত থেকেও অনেক দম্পতি এসেছেন এই মুক্ত এলাকাটিতে। রামপুরা এলাকা থেকে শুরু করে গুলশান, তেজগাঁও ও সোনারগাঁও অংশ সর্বত্রই মানুষের কোলাহল ছিল। বিকালের দিকে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে এবং সন্ধ্যা নাগাদ মানুষের কোলাহলে গোটা এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।

নগরবাসীর আনন্দে যাতে কোনো কালো ছায়া না পড়ে সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকেও দেখা গেল সতর্ক অবস্থানে। জায়গায় জায়গায় পুলিশের টহল গাড়ি মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে। ছিল না মোটরসাইকেল বা কার রেসারদের উৎপাতও। ফলে ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন দর্শনার্থীরা। ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে মুক্ত বাতাস গায়ে লাগানো আর বিকালের ধুসর সূর্যের আলোতে ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন কমবেশি সবাই।

কথা হয় মালিবাগের বাসিন্দা রাকিবুলের সঙ্গে। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে এসেছেন হাতিরঝিলের মুক্ত পরিবেশ উপভোগ করতে। ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে হিমেল পরশ নেয়ার সময় রাকিবুল বলেন, ঈদে বিনোদন স্পটগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় ছেলে-মেয়ে পরিবারসহ এখানে এসেছেন ঘুরতে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নিজেদেরকে ফ্রেমে বন্দি করে নিচ্ছেন। জানালেন, এসব ছবি পরে তিনি ফেসবুকে আপলোড করে দেবেন।

রাকিবুলের মত আরও অনেককেই দেখা গেল ছবি তুলতে। এছাড়া ব্রিজের ওপর আরও বেশ কয়েকজন জুটিকে দেখা গেল। তারা গুলশান থেকে এসেছেন। ব্রিজের ওপর গাড়ি পার্কিং করে তাদেরকে খোলা হাওয়ায় দাঁড়িয়ে আড্ডায় ব্যস্ত দেখা গেল।

এদেরই একজন ভার্সিটি পড়ুয়া তরূণী শাম্মী মেহবুবা। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানালেন, ‘ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টে প্রায়ই যাওয়া হয়। ওখানে বসে খাওয়া দাওয়ার মজা একরকম। আর হাতিরঝিলের এই ব্রিজের ওপর বসে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বাদাম, স্ন্যাক্স খাওয়ার মজাই আলাদা।’ সন্ধ্যার বাতাসে উড়ন্ত চুলগুলো দেখিয়ে ঠাট্টাচ্ছলে বললেন, ‘দেখেন, রেস্টুরেন্টে কি এমন ফিলিংস পাবেন?’ তার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে আরেকজন বলছিলেন, ‘সত্যিই বলেছিস, এমন অনুভূতির জন্য হাতিরঝিলই উত্তম স্থান।’ ছবি তুলতে চাইলে বারণ করে বললেন, ছবি নেয়া যাবে না। হাত নেড়ে টাটা দিয়ে বললেন ভালো থাকবেন। অগ্যতা এসে পড়া ছাড়া উপায় ছিল না।

ওপরের ব্রিজ থেকে নিচে এসে দেখা গেল, রেলিং ধরে লেকের দিকে তাকিয়ে গল্প করছেন অনেক তরূণ তরূণী। ছোট্ট শিশুরাও রেলিংয়ের ফাঁক গলে তাকিয়ে দেখছে পানির নড়াচড়া।

ব্রিজ ধরে বাইকে চড়ে নয়াটোলা মধুবাগের হাতিরঝিল ব্রিজের মোড়ে আসতে দেখা মিলল পুলিশের টহল গাড়ির। কথা হয় রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামালের সঙ্গে। জানালেন ঈদে তৎপর রয়েছেন তারা। চুরি ছিনতাইয়ের মত কোনো ঘটনাও যেন না ঘটে সেদিকে আমাদের চোখ।

সার্বিক নিরাপত্তার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে অন্য সময়ের মতই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে বাড়তি কোনো নিরাপত্তা নেয়া হয়নি। এ নিরাপত্তার মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো অঘটন ঘটেনি বলে জানান তিনি। মাঝে মাঝে গাড়ির কাগজপত্র চেক করছেন তারা। আজকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাগজহীন কোনো গাড়ি আটক হয়নি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, হাতিরঝিলের নয়াটোলা রামপুরার দিকটা তারা দেখছেন। ব্রিজের ওপারে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে।

এমন সময় দুই তরূণ মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। মোটরসাইকেলে প্রচণ্ড শব্দ উৎপন্নকারী নিষিদ্ধ সাইলেন্সার লাগানো ছিলো। পুলিশের গাড়ি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময়ই বাইকটিকে থামানো হয়। চাবি নিয়ে কাজগপত্র চেক করে দেখেন এসআই কামাল। সবঠিক ঠাক থাকায় কিছুটা শাসিয়ে ছেড়ে দেন তাদের। বলে দেন হাতিরঝিল এলাকায় যেন দেখা না যায়।

পাশেই দেখা দেখা গেল হাতিরঝিল প্রকল্পের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী বাবুলকে। তিনি দাঁড়িয়ে মানুষজনকে গাড়ি থেকে সতর্ক করছিলেন। বাবুল জানান, ঈদের ছুটিতে এখন পর্যন্ত হাতিরঝিলে কোনো অঘটন ঘটেনি। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় আছে।