মেইন ম্যেনু

হাথুরুর ‘স্বাধীনতা’য় বদলে গেছে মাশরাফিরা

সামারাবিরা যখন খেলতেন, তখন বাংলাদেশ মানে পরাজিত দল। সামারাবিরা যখন খেলা ছাড়লেন, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে পায়ের নিচে মাটি খুঁজে ফিরছে। সেটা ২০১৩ সালের কথা। সেই সামারাবিরা এখন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ। আর বাংলাদেশ ক্রিকেটবিশ্বের উদীয়মান এক দল। এশিয়ার ‘পরাশক্তি’। সামারাবিরা মনে করেন, প্রধান কোচ হাথুরুসিংহের কল্যাণেই নতুন বাংলাদেশকে দেখছে ক্রিকেটবিশ্ব।

ঈদের পর রবিবার টাইগারদের সঙ্গে পুরোদমে কাজ শুরু করেন এই শ্রীলঙ্কান। বিকেল চারটা থেকে মিরপুরের সেন্টার উইকেটে ব্যাটিং অনুশীলন করেন রিয়াদ-মুশফিকরা। চলে রাত অবধি। অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নতুন ব্যাটিং কোচ।

‘বাংলাদেশে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত। বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে আমার কথা হতো। বিশ্বকাপে রিয়াদের ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি দেখেছি। লর্ডসে তামিমের শতকের কথাও মনে পড়ে। সত্যি বাংলাদেশ এখন এশিয়ার অন্যতম সেরা দল।’ বলেন সামারাবিরা।

মাশরাফিরা এখন কোনো দলকে ভয় পান না। যে কারো সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়তে পারেন। সামারাবিরা মনে করেন হাথুরুসিংহই এই বিশ্বাস খেলোয়াড়দের ভেতর ছড়িয়ে দিয়েছেন, ‘হাথুরু এই দলটাকে বদলে দিয়েছে। সবাইকে নিজের মতো খেলার স্বাধীনতা দিয়েছে। এখন তারা বিশ্বাস করে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে না। দীর্ঘ এই বিরতির পর সামনে বেশ ব্যস্ততা আসছে। শুরুটা হবে আফগানিস্তান সিরিজ দিয়ে। এরপর ইংল্যান্ড। সামারাবিরা জানালেন, এখন বাংলাদেশের ভাবনা জুড়ে শুধুই আফগানিস্তান, ‘আমরা আফগানদের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচকে এখন প্রাধান্য দিচ্ছি। তারপর ইংল্যান্ড সিরিজ নিয়ে ভাববো।’

অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সামারাবিরা। টেস্ট অভিষেকে ৮ নম্বরে নেমে সেঞ্চুরির পর আস্তে আস্তে ঘুরে যায় ক্যারিয়ারের মোড়। হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান। টেস্টে ছিলেন লঙ্কান মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসা।

সামারাবিরা ৮১ টেস্টে ১৪ শতকে ৫ হাজার ৪৬২ রান করেছেন ৪৮.৭৬ গড়ে। পরিচিতি ছিল তার দারুণ টেস্ট টেম্পারমেন্ট ও হার না মানা মানসিকতার জন্য। ওয়ানডে খেলেছেন ৫৩টি।

সামারাবিরা হাথুরুসিংহের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার ক্যারিয়ারেও হাথুরুর অবদান আছে, ‘আমি শ্রীলঙ্কা দল থেকে বাদ পড়ার পর হাথুরু আমাকে বদলে দিয়েছিল। আমার টেকনিক, মনঃসংযোগ সবকিছুতে সে আমূল পরিবর্তন এনেছিল। বাংলাদেশেও সেটা করছে।’