মেইন ম্যেনু

‘হাফ সেঞ্চুরি’র পথে জল্লাদ শাহজাহান

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদন মঞ্জুর না হলে যেকোনো দিন হতে পারে ফাঁসি। আর ফাঁসি কার্যকরের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ‘খ্যাতনামা’ সাত জল্লাদকে।

প্রধান জল্লাদের কাজটি করবেন মো. শাহজাহান ভূঁইয়া। অন্য জল্লাদরা হলেন, ইকবাল, মাসুদ, আবুল, মোক্তার, রাজু ও হযরত। শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কারাসূত্র।

‘জল্লাদ শাহজাহান’ এখন পর্যন্ত ৪৫ জনের ফাঁসি কার্যকরে জল্লাদের কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে অংশ নিয়েছিলেন।

এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারগারের দুটি ফাঁসিমঞ্চের মধ্যে পুরাতন মঞ্চটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে দুই হেভিওয়েট যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের জন্য।

৩৬ বছর ধরে কারাবন্দি অবিবাহিত শাহজানান এ পর্যন্ত ৪৫ জনের ফাঁসির দণ্ডে জল্লাদের কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য ফাঁসিগুলো হলো : ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি বজলুল হুদা, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও ল্যান্সার মহিউদ্দিন আহমেদ। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ কাশিমপুর ও ময়মনসিংহে জঙ্গিনেতা সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানী, আবদুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও ইফতেখার মামুন। ২০০৪ সালের ১০ মে খুলনা জেলা কারাগারে এরশাদ শিকদারের ফাঁসি। ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর রংপুর জেলা কারাগারে ইয়াসমিন হত্যা মামলার আসামি এএসআই মইনুল হক ও আবদুস সাত্তারের ফাঁসি।

১৯৮৯ সালে প্রথম সহযোগী জল্লাদ হিসেবে গফরগাঁওয়ে নুরুল ইসলামকে ফাঁসি দেন শাহজাহান। ওটাই ছিল শাহজাহানের জীবনে কারাগারে কাউকে প্রথম ফাঁসি দেয়া। আট বছর পর ১৯৯৭ সালে তিনি প্রধান জল্লাদ হন।