মেইন ম্যেনু

“হামরা পরিষোদ থাকি চাউল পায়া খুব খুশি”

মোঃ শামীম আখতার, উপজেলা প্রতিনিধি, মিঠাপুকুর (রংপুর) : “বাড়িত ৩ জন ছইল-পইল আছে। ভাতের চাউল নাই। ঈদোত কেংকা করি খামো, চিন্ত্যাত আছনো। আর চিন্ত্যা নাই। ২০ কেজি চাউল পরিষোদ থাকি পায়া হামরা খুব খুশি। আল্লাহ ওমার ভালো করুক”। সোমবার বিকেলে ভিজিএফ’র চাল তুলতে এসে আবেগিসুরে কথাগুলো বলছিলেন ২নং রাণীপুকুর ইউনিয়নের আফজালপুর গ্রামের বৃদ্ধা শাহিদা বেওয়া (৬৫)। তিনি আরও বলেন, ঈদোত সবায় নয়া কাপড়-চোপড় গাওত দেয়। হামরা কিছুই কিনব্যার পারি নেই। কাপড়-চোপড় কিনব্যার না পাইলেও, ভাতের চাউলকোনাতো হইলো। প্যাট ভোত্তি করি খাবার পারমো। তাঁর ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে সংসার। স্বামী সিরাজুল ইসলাম মারা গেছেন প্রায় ১০ বছর আগে।

শাহিদা বেওয়ার মত খাদিজা বেওয়া (৬৫), দোলেনা বেওয়া (৫৫), মমেনা বেগম (৫০) ও মাহুয়া বেওয়া (৫০) এসেছেন ভিজিএফ’র চাল তুলতে। প্রত্যেকে চাল পেয়েছেন ২০ কেজি করে। খাদিজা বেওয়ার ১ ছেলে। স্বামী ইছাহাক আলী মারা গেছেন ১৫ বছর আগে। ১ ছেলেকে নিয়ে কোন মতে চলে তাদের সংসার। খাদিজা বেওয়া বলেন, হামরা গরীব মানুষ। হামার দু:খ কেউ বোজেনা। ঈদোত সরকার চাউল দেয়। চাউল পায়া ভালোয় নাগে।

দোলেনা বেওয়ার ৩ মেয়েকে রেখে স্বামী মারা গেছেন ৮ বছর আগে। মেয়েদেকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটতো তাঁর। তিনি বলেন, ৩ মেয়েকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে বাবার বাড়িতে পড়ে আছি। ভিজিএফ’র চাল পেয়ে ভালই লাগছে। একই কথা বললেন মমেনা বেগম। তাঁর ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে। স্বামী ইয়াছিন আলী বয়সের ভাড়ে নাতুজানু। কাজ করতে পারেনা ঠিকমত। ৫ সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে সারাক্ষনই দুঃচিন্তায় থাকেন মমেনা বেগম। তিনি আরও বলেন, ৫ সন্তানসহ পরিবারে সদস্য ৭ জন। সবার খাবারের জন্য প্রতিদিন আড়াই কেজি চাল লাগে। অভাবে সংসার, অনেক কষ্ট করতে হয় ভাতের জন্য।

মহুয়া বেওয়ার স্বামী মারা গেছে ১২ বছর আগে। স্বামীর ভিটে মাটি নেই। তাই, বিধবা অবস্থায় ২ সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে এসে উঠেছেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করেন তিনি। তিনি বলেন, গত বছরও ঈদের সময় চাল পেয়েছি। এবারেও পেয়েছি।

ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে মিঠাপুকুরে ১৭ ইউনিয়নে ৮৭ হাজার ৮শ ৯ দুস্থ্যকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এরমধ্যে, খোড়াগাছ ইউনিয়নের ৫ হাজার ৩ শ ৫০, রাণীপুকুরে ৪ হাজার ৮শ ৭০, পায়রাবন্দে ৫ হাজার ২শ ৮০, ভাংনীতে ৪ হাজার ৫শ ৭০, বালারহাটে ৩ হাজার ৯শ ৩৫, কাফ্রিখালে ৬ হাজার ৩শ ৪০, লতিবপুরে ৫ হাজার ৫শ ৫০, চেংমারীতে ৫ হাজার ৫৫, ময়েনপুরে ৫ হাজার, বালুয়া মাসিমপুরে ৪ হাজার ৫শ ২০, বড়বালায় ৩ হাজার ৯শ ৯০, মিলনপুরে ৩ হাজার ৬শ ৯৫, গোপালপুরে ৪ হাজার ২শ ৭৫, দূর্গাপুরে ৭ হাজার ৫শ ৫০, বড় হযরতপুরে ৫ হাজার ৫শ ৮০, মির্জাপুরে ৫ হাজার ৩শ ৫৫ ও ইমাদপুর ইউনিয়নের ৬ হাজার ৮শ ৯০ জন দুস্থ্যকে মোট ১ হাজার ৭ শ ৫৬.১৮০ মেট্রিকটন চাল বিতরন করা হয়।

রাণীপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল আলম বলেন, ভিজিএফ’র ২০ কেজি করে চাল দুস্থ্যদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বন্ঠন করা হয়েছে। চালগুলো যেহেতেু দুস্থ্যদের জন্য তাই, কেউ দুর্নীতির আশ্রয় নিতে পারেনি। রাণীপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, ইউনিয়ন কমিটি তালিকা অনুয়ায়ি চাল বিতরন করা হয়েছে। এলাকার সব দুস্থ্যরাই চাল পেয়েছেন।