মেইন ম্যেনু

হামলাকারীরা প্রশিক্ষিত শিবিরকর্মী : নাসিম

রাজধানীর গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় শিবিরের প্রশিক্ষিত কর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী নেতা মোহাম্মদ নাসিম।

এ হামলাসহ সারাদেশে গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪দল। তিনি আরও বলেন, ‘দেশ এখন নিরাপদ আছে। ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে রবিবার (৩ জুন) দুপুরে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১৪ দলের মুখমাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

১৪ দলের কমসূচির মধ্যে রয়েছে—১১ জুলাই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুরে প্রতিরোধ সমাবেশ। ১২ জুলাই থেকে ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভায় সন্ত্রাস বিরোধী কমিটি গঠন।

কমিটিতে সব শ্রেণি-পেশাজীবীদের অর্ন্তভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আগামী ২৪ জুলাই থেকে ৭ দিনব্যাপী ১৪ দল বিভিন্ন টিম করে সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সময় দেশি-বিদেশি শক্তি শেখ হাসিনার উত্থানকে ঠেকাতে নারকীয় হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে। এ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা অবশ্যই জিতব।’

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আপনারা তো সকল স্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ ক্ষেত্রে কি আপনারা বিএনপির প্রতিও এ আহ্বান জানাচ্ছেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, ‘বিএনপি তো এখনও জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে নাই। আগে জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ছেদ করুক। তারপর দেখব।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, ‘অবশ্যই দেশের মানুষ নিরাপদ আছে। আমরা জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করতেই এ সব কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি।’

গুলশান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ দেশীয় এজেন্টরা জড়িত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, ‘অবশ্যই এ দেশীয় এজেন্ট জড়িত। এরা সবাই প্রশিক্ষিত শিবির। দেশে এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা বলে কিছু নেই। ভীতি সৃষ্টি করার জন্য এরা এসব কিছু করছে। আমরা ভয়কে জয় করেই এগিয়ে যাব। এ ঘটনা তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের পর আরও জানা যাবে এরা কারা।’

বৈঠকের শুরুতে গুলশানে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সে দিনের সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান, ভারত ও ইতালির প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকল দেশের প্রতিও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, জাসদ অপরাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাত হোসেন, নূরুর রহমান সেলিম, তরিকত ফেডারেশনের এমএ আউয়াল, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, এনামুল হক, গণআজাদী লীগের এসকে শিকদার, আওয়ামী লীগের সাহারা খাতুন, মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, ফরিদুরনাহার লাইলী, মৃণা কান্তি দাস, আফজাল হোসেন, এসএম কামাল প্রমুখ।