মেইন ম্যেনু

‘হারিয়ে গেছে এমন অনেক রোহান’

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর হত্যাযজ্ঞে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের একজন রোহান ইমতিয়াজ। হামলার পরদিন যে পাঁচ হামলাকারীর ছবি সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ আইএসের বরাতে প্রকাশ করে, সেখানে ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোহান।

সাইট ইন্টালিজেন্স গুলশানের হামলাকারীদের ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যাকারীদের অনেকেরই পরিচয় উঠে আসে। সেখান থেকেই জানা যায়, রোহান ইমতিয়াজ আওয়ামী লীগ নেতা ইমতিয়াজ খান বাবুলের ছেলে। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ছিলেন।

সন্ত্রাসী রোহানের নিহত হওয়ার দুই দিন পর সোমবার বিকেলে তাঁর বাবা ইমতিয়াজ খান বাবুল কথা বললেন। সেখানে তিনি জানালেন ছয় মাস ধরে নিখোঁজ রোহানের কথা। আরো বললেন, সারাদেশে হারিয়ে গেছে এমন আরো অনেক রোহান।

আওয়ামী লীগের নেতা ইমতিয়াজ খান বাবুল বলেন, ‘রোহানকে খুঁজতে গিয়ে থানায় ঘুরে ঘুরে আমি দেখেছি রোহানের মতো এমন স্টাবলিশ ফ্যামিলির অনেক ছেলে হারিয়ে গেছে। সানিডেল, স্কলাসটিকা, নর্থ-সাউথ, ব্র্যাক এমন অনেক বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষিত পরিবারের ছেলে মিসিং। পুলিশ জানে এদের কথা। অনেক বড় সরকারি কর্মচারী, শিল্পপতির সন্তানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’

বাবুল বলেন, ‘সন্তানহারা এসব বাবা-মায়ের মতো আমিও এত দিন ভাবতাম ছেলে রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে। ফিরে আসবে। কিন্তু এখন বুঝেছি ওরা ফাঁদে পড়েছিল।’

গুলশান হত্যাযজ্ঞে অংশগ্রহণকারী পাঁচ যুবকের প্রত্যেকেরই গল্প একই রকম। বাড়ি থেকে তিন থেকে ছয় মাস আগে স্রেফ নিখোঁজ হয়েছেন তাঁরা। পরে তাঁদের সন্ধান মেলে হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর হত্যাযেজ্ঞের নিহত হত্যাকারী হিসেবে।

গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় একদল অস্ত্রধারী ঢুকে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনায় নয়জন ইতালিয়ান, সাতজন জাপানি, তিনজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। এ ছাড়া দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচ হামলাকারীও এই জিম্মি ঘটনায় নিহত হন।