মেইন ম্যেনু

হারিয়ে যাচ্ছে তাল !

ঐ দেখা যায় তাল গাছ ওই আমাদের গাও, ঐ খানেতে বাস করে কানাবগীর ছায়, আবহমান বাংলার ঐতিহ্য পরিবেশবান্ধব তালগাছ। রাজশাহীর বরেন্দ্র আঞ্চল কাঁকন হাট এলাকায় রাস্তর দু’পাশে সারি সারি দারিয়ে আছে। যেন মনে হয় ছেলে বেলার ছড়া, তালগাছ এক পায়ে দারিয়ে সব গাছ ছারিয়ে, উকি মারে আকাশে।

গ্রাম অঞ্চলে দেখা যায় কেউ কেউ বিলের ধারে, পুকুরের ধারে, এ তাল গাছ লাগাত। তাছাড়া প্রাকৃতিক ভাবেও তাল বাগানের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এখন তা আর চোখে পরে না। কমে গেছে অনেক হারে।

রাজশাহী ও এর আশে পাশের এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা কোচি তাল কিনে নিয়ে এসে নগরীরর বিভিন্ন যায়গায় পরশা সাজিয়ে বয়ে বিক্রয় করছে। নগরীর শাহ্ মখদুম কলেজের সমনে, বিনোদপুর, কাজলা, তালাইমারী, দেবিসিংপাড়া, ভদ্রা, মিজানের মোড় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজার, কাটাখালী এলাকায় বিক্র করা হচ্ছে তালের ‘চোখ বা তালকুর’। এ তালের চোখ তালকুর নামে পরিচিত।

ব্যবসায়ীরা জানায়, পবার রামচন্দ্রপুর, কানপাড়া, হরিয়ান, দুর্গাপুর, পারিলা, চৌমহনি, ইউসুফপুর এলাকা থেকে তাল কিনে নিয়ে আসা হয়। পরে সে গুলো ‘ চোখ বা তালকুর’ হিসেবে বিক্র করছেন। প্রতি চোখের দাম ২টাকা করে।

এছাড়া কচি তালের আঁটির তালকুর ছিল শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের লোভনীয় খাবার। গরমের দিনে তাল পাখার জুড়ি ছিল না। গরমে হাঁপিয়ে ওঠা জীবনে কখনও শান্তি এনে দেয় হাতের তৈরি তালপাখা। এছাড়া ঘর নির্মাণ কাজে তালগাছের জুড়ি নেই।

এদিকে গ্রামের গৃহিণীদের মাঝে চলে তালপিঠা বানানোর ধুম। এসব তাল দিয়ে তৈরি হতো বিভিন্ন মজার মজার পিঠা। কলাপাতার পিঠে, তেলপিঠা, তারে পাটালী, তালের গুড়, তালের কেক, তালের ভরা প্রভৃতি। এসব পিঠা বানিয়ে পাঠানো হতো আত্মীয়-স্বজনসহ জামাই-মেয়ের বাড়ি দেওয়ার জন্য। এটা ছিল বাঙালি সংস্কৃতির একটা প্রচলিত রেওয়াজ বা ঐতিহ্য।

শুধু তালের পিঠাই হয় না, এর গাছ দিয়ে আমাদের ঘর তৈরির খুঁটি, আড়া, রুয়া, বাটাম, কৃষকের লাঙলের ঈষ ও ডিঙ্গি নৌকা তৈরি করা হয়। ঘরের ছাউনি, ঝুঁড়ি, মাদুর এবং জ্বালানি হিসেবেও শুকনা তালপাতা ব্যবহৃত হয়।