মেইন ম্যেনু

হাসনাত করিম ঘটনার রাতে আটকে পড়ার নাটক করেছিলেন?

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে আটককৃত হাসনাত করিম ঘটনার দিন আটকে পড়ার নাটক করেছিলেন। হলি আর্টিজান হোটেলে জঙ্গি হামলার পর রাত ১১টার দিকে হাসনাত করিমের চাচা আনোয়ারুল করিম গুলশানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার বড় ভাইয়ের ছেলে হাসনাত করিম বউ বাচ্চা নিয়ে ওই রেস্তরাঁয় খেতে গিয়ে আটকে পড়েছে।

তিনি আরো বলেছেন, হাসনাত করিম আমাকে ফোন করেছিল, সে বলেছে চাচা আমরা হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় খেতে এসে জঙ্গিদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। “প্লিজ হেল্প আস” একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছে রাত সাড়ে ১১টার পর ওই ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলে তিনি দাবি করেছিলেন।

হাসনাত করিমের চাচার এই দাবিকে হাসনাত করিমের “নাটক বলে আখ্যায়িত করেছেন অপরাধ বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। আবার কেউ বলেছেন, তদন্তে কি বেরোয় ঘটনার সাথে হাসনাত করিমের সংশ্লিষ্টতা আছে কি নেই থাকলেই বা কতুটুক সেটা তদন্তকারীরাই ভাল বলতে পারবে। স্পর্শকাতর বিষয় বলে নাম প্রকাশ করতে রাজী হননি তারা।

এদিকে হাসনাত করিমের তথ্য সংগ্রহের জন্য গতকাল গোয়েন্দা পুলিশের মিডিয়া সেলে ছিল সাংবাদিকদের উপচে পড়া ভীড়। সবার আগ্রহ একদিকে হাসনাত করিম সংক্রান্তে কোনো তথ্য পাওয়া যায় কিনা বা পুলিশের মূখপাত্র যদি কিছু বলেন, ‘না কোনো সুখবর নেই’ অফিসিয়াল তাদের কোনো বক্তব্য নেই এ ব্যাপারে’ আন অফিসিয়ালও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মুখে কুলুপ এটেছেন, তাদের একই কথা হাসনাত করিম সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন নয়। তবে তদন্তকারীরা হাসনাত করিম সম্পর্কে তথ্য যাচাই বাছাই করছেন, খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এ ব্যাপারে ব্রিফিং করার সম্ভাবনার কথা শোনা গেল।

সংশ্লিষ্ট একটি অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা যায়, হাসনাত করিমের প্রিভিয়াস রেকর্ড, ওই রাতের গতিবিধি, বডি ল্যাংগুয়েজ, কানাডায় অবস্থান সবকিছুই নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তার মোবাইল ফোনের কল লিস্ট যাচাই বাছাই প্রক্রিয়াও শেষ দিকে।

রেস্তেরাঁয় হামলাকারী জঙ্গি নর্থসাউথের সাবেক ছাত্র নিবরাস ইসলামসহ আর কার কার সাথে তার যোগাযোগ ছিল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মোস্টওয়ান্টেড মাস্টারমাইন্ড তামিমের সাথে কানেকশন ছিল কিনা সেটা নিয়ে কাজ করছে তদন্তকারীরা।

সূত্রমতে হাসনাত করিম দীর্ঘদিন কানাডায় ছিল। তামিমও সিলেট থেকে কানাডায় পাড়ি জমায় সেখানেই সে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরই আইএসের মূখপাত্র দাবিকে তামিমের নাতিদীর্ঘ একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। গুলশান, শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় তামিমের হাত ছিল কল্যাণপুরে আস্তানায়ও যাতায়াত ছিল তামিমের। ধারণা করা হচ্ছে বন্দুকযুদ্ধে নিহত না হলে কল্যাণপুরের জঙ্গিরা গুলশানের মতই বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটাতো।

ওই অসমর্থিত সূত্রে আভাসানুযায়ী হাসনাত করিম ধোঁয়া তুলসী পাতা নন। নর্থ সাউথের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকাকালে জঙ্গিবাদে যুক্ত ছিলেন, আর্টিজান রেস্তরাঁয়ও জঙ্গি হামলার শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে তাকে অবলীলায় জঙ্গিদের সাথে কথা বলতে দেখা যায়। নির্বিঘেœ সিগারেট ফুকতে দেখা যায়।